যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য আদালতে অভিযোগ করেছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই জানত। কিন্তু সেই তথ্য জেনেও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেয়।
সোমবার আদালতে শুনানির সময় টেনেসির আইনজীবীরা জানান, মেটার নিজস্ব গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, ইনস্টাগ্রামের অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু কিশোর-কিশোরীর মধ্যে বিষণ্নতা, খাওয়াদাওয়ার সমস্যা এবং আত্মক্ষতির চিন্তা বাড়াতে পারে।
তাদের দাবি, এসব তথ্য জানা থাকার পরও মেটা এমন কিছু ফিচার চালু রাখে, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে ধরে রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে অটোপ্লে, ইনফিনিট স্ক্রল এবং ঘন ঘন নোটিফিকেশন উল্লেখযোগ্য।
আদালতে টেনেসির আইনজীবী টম কার্টমেল বলেন, এসব ফিচার ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি বোঝাতে তিনি আদালতেই মোবাইলের নোটিফিকেশনের শব্দ বাজিয়ে শোনান।
টেনেসি এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা চেয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার নির্দেশও চেয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। কোম্পানিটির দাবি, তারা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়। এজন্য সময় নিয়ন্ত্রণ, অভিভাবকদের তদারকি এবং নিরাপদ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন টুল চালু করা হয়েছে।
মেটার আরও দাবি, কিশোর-কিশোরীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়। পরিবার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সমাজ—সব পক্ষেরই এ দায়িত্ব রয়েছে।
এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মেটার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক আইনি লড়াইয়ের অংশ। এর আগে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি মামলায় শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতির অভিযোগে মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।







