নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। শুনানি শেষে আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতিও দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তিনি হাজির হন। বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আইভী আদালতে উপস্থিত হন। শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন বহাল রাখেন। পাশাপাশি আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী সময়ে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করেন।
আরো পড়ুন
সিরাজগঞ্জে স্ত্রীকে মাথায় আঘাত করে হত্যা, স্বামী পলাতক
আদালত থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের আইভী বলেন, ‘আমি সবসময় হত্যার বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। আজ আমিই কি অপরাধী? এর বিচার আল্লাহ আছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন। তারাই দেখবেন।’
আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, ‘আজ আইভীর নিয়মিত হাজিরা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার কার্যক্রম শুরু হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত হতে হবে। চার্জশিট দাখিল না হওয়া পর্যন্ত তার পক্ষে আইনজীবী হাজিরা দেবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আইভী সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শুধু এই মামলায় আদালত আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। অন্য মামলাগুলোতে এখনো এমন কোনো আদেশ হয়নি।’
নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া পুলিশের ওপর হামলার মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। আদালত তার পূর্বের জামিন বহাল রেখেছেন।’
গত বছরের মে মাসে দেওভোগে নিজবাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তারের সময় তার সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে উকিলপাড়া মোড়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় আইভীকে গ্রেপ্তারে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে সদর মডেল থানায় ২৫২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।