• ই-পেপার

কুড়িগ্রাম

বিএনপির নতুন কমিটিতে জায়গা পেলেন ৫ মাস আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিও

ছেলে নিয়ে উধাও যুবক, খোঁজ নেন না গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই মেয়ের

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ছেলে নিয়ে উধাও যুবক, খোঁজ নেন না গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই মেয়ের
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মাহমুদা আক্তার। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ভালুকায় নয় মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে ছেলে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন বিল্লাল হোসেন নামের এক বাসচালক। কোরবানির ঈদের আগে থেকে নিখোঁজ ওই ব্যক্তি এরপর আর স্ত্রী-সন্তানদের কোনো খোঁজ নেননি। আশ্রয়হীন হয়ে কয়েকদিন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানবেতর জীবন কাটানোর পর বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার।

মাহমুদা আক্তার জানান, প্রায় আট বছর আগে ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে আছিয়া আক্তার মীম (৭), মাহমুদুজ্জামান ইয়াসিন (৭) ও হাফসা জীম (দেড় বছর) রয়েছে। মীম ও ইয়াসিন জমজ।

তার অভিযোগ, কোরবানির ঈদের আগে স্বামী নতুন বাসায় ওঠার পর ছেলে ইয়াসিনকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ফোনও বন্ধ রয়েছে। ভাড়া বকেয়া থাকায় বাসার মালিক তাকে দুই মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।

মাহমুদা বলেন, স্বামীর ব্যবসার জন্য বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি নিঃস্ব। বাবাও বেঁচে নেই, ভাইদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ নেই। যাওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে গত ১৫ জুলাই রাতে ভালুকা ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের পাশে একটি টিনশেডে আশ্রয় নেন। স্থানীয় ট্রাকচালক ও দোকানদারদের দেওয়া কলা, বিস্কুটসহ সামান্য খাবার খেয়ে কয়েকদিন কাটান।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্বামী প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন করতেন।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মোস্তানছির বিল্লা জোহাদ জানান, ওই নারী ও তার দুই শিশুকে আশ্রয়হীন অবস্থায় দেখে কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে গত ১৯ জুলাই রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহেদা ফেরদৌসী হাসপাতালে গিয়ে মাহমুদা ও তার দুই শিশুর খোঁজখবর নেন।

এদিকে, ভালুকায় হ্যামকো ব্যাটারির এজেন্ট মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, বিল্লাল হোসেন তার প্রতিষ্ঠানের বাসচালক ছিলেন। কোরবানির ঈদের পর তিনি গাড়ির প্রায় ২০০ লিটার জ্বালানি বিক্রি করে এবং তিন দিনের প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তার স্বামী নিখোঁজ। শ্বশুরবাড়ি কিংবা বাবার বাড়ির কোনো আত্মীয়স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আপাতত পৌরসভার পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

প্রবল বৃষ্টিতে ঘরের ওপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে যুবক নিহত, আহত ৪

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রবল বৃষ্টিতে ঘরের ওপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে যুবক নিহত, আহত ৪
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রবল বৃষ্টির সময় পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বসতঘরের টিনের চালে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিলন মাতুব্বর (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৌলডুবি গ্রামের রব মাতুব্বরের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে প্রবল বৃষ্টির সময় পল্লী বিদ্যুতের একটি সচল মেইন লাইন ছিঁড়ে বসতঘরের টিনের চালে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে যায় এবং ঘরের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিলন মাতুব্বরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শেখ ওবাইদুর (৪০), মিঠু মাতুব্বর (৩৫) ও হেনা আক্তারকে (২৫) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সদরপুর পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সংযোগ থেকে জিআই তার দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, চোখে গুরুতর আঘাত পেলেন যাত্রী
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ছোড়া পাথরের আঘাতে এক যাত্রীর ডান চোখ গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আহত যাত্রীকে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত যাত্রীর নাম মো. সাব্বির হোসেন (২২)। তিনি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. দুলাল হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি উল্লাপাড়া ও জামতৈল রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী কোনো স্থানে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারে। একটি পাথর সাব্বির হোসেনের ডান চোখে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রাকিবুর রহমান বলেন, ‘উল্লাপাড়া ও জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী স্থানে পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রী সাব্বির গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে জামতৈল স্টেশনে নামিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আহত যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় মামলা হবে।’

পঞ্চগড়

হাসপাতালের বেডে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, রোগী আটক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
হাসপাতালের বেডে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, রোগী আটক
ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক রোগীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হয়। তবে ১৬ জুলাই ভোরে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মতিয়ার রহমান (৫৭) সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের নিতাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শিশুটি তার অসুস্থ নানাকে দেখতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাসপাতালে যায়। সেদিন রাতে ওয়ার্ডের মেঝেতে ঘুমিয়ে ছিল। একই ওয়ার্ডের ১১ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন অভিযুক্ত মো. মতিয়ার রহমান। রাত আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটির নানিকে জানান যে মেঝেতে থাকলে শিশুটির কষ্ট হবে, তাই তাকে যেন তার বেডে ঘুমানোর অনুমতি দেওয়া হয়। সরল বিশ্বাসে শিশুটির নানি নাতনিকে অভিযুক্ত মতিয়ার রহমানের বেডে ঘুমাতে পাঠান। পরে ভোর ৪টার দিকে শিশুটির চিৎকারে ওয়ার্ডের অন্যান্য লোকজনের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় শিশুটি কান্নাকাটি করতে করতে স্বজনদের কাছে অভিযোগ করে যে অভিযুক্ত মতিয়ার রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছেন। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজনরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে পুলিশকে জানানো হলে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই সদর থানায় মামলা করে শিশুটির নানি।

অভিযোগকারী বলেন, ‘আমরা ছোট্ট নাতনি হাসপাতালের একজন রোগীর কাছেও নিরাপদ না। আমরা এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’