• ই-পেপার

টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ২০, ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড

২৫ বছর পর খুঁজে পাওয়া সেই ববির কবর জিয়ারত করলেন স্বজনরা

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
২৫ বছর পর খুঁজে পাওয়া সেই ববির কবর জিয়ারত করলেন স্বজনরা
রায়পুরার নুরপুরে ববি বেগমে কবর জিয়ারত করছেন তার স্বজনরা। ছবি: কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও বাকপ্রতিবন্ধী ববি বেগমের কবর জিয়ারত করেছেন ২৫ বছর পর তাকে খুঁজে পাওয়া তার ভাই-বোন, ভাগ্নে-ভাগ্নিসহ পরিবারের ১৪ সদস্য।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে বগুড়া থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তারা রায়পুরায় এসে উপজেলার নুরপুর কবরস্থানে ববি বেগমের কবর জিয়ারত করেন। এসময় তারা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উপস্থিত ছিলেন ববি বেগমের বাকপ্রতিবন্ধী দুই বোন ফাতেমা বেগম ও রবি বেগম, বাকপ্রতিবন্ধী ভাই আনছর আলী প্রামাণিক, ভাগ্নি গোলাপি বেগম, ভাগ্নির স্বামী সৈকত ইসলামসহ পরিবারের ১৪ সদস্য।

জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ঘশাখাটিয়া গ্রামের মৃত রহিম উদ্দিন প্রামাণিকের বড় মেয়ে ছিলেন  ওয়াহিদা বেগম ওরফে ববি বেগম (৭০)। চার ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে ছাড়া প্রায় সবাই বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। বর্তমানে দুই ভাই ও তিন বোন জীবিত আছেন। ববি বেগম ও দুই ভাই ইতিমধ্যে মারা গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর ববি বেগমের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে জন্মের কিছুদিন পরই শিশুটি মারা যায়। এর কিছুদিনের মধ্যে স্বামীরও মৃত্যু হয়। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। পরে ছোট বোন ফাতেমা বেগমের সঙ্গে বসবাস করতেন। একদিন বোনের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে ট্রেনে অজানা গন্তব্যে চলে যান। সেই যাত্রায় এসে পৌঁছান রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের পরিচয় জানাতে না পারায় স্টেশনের তৎকালীন স্টেশন মাস্টার তার নাম রাখেন ববি বেগম। এরপর থেকেই স্টেশনের একটি কক্ষে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্টেশনের শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাত্রীদের দেওয়া অর্থেই চলত তার জীবন। দীর্ঘ ২৫ বছরে তিলে তিলে সঞ্চয় করেছিলেন প্রায় ২০ হাজার টাকা।

গত ৪ জুলাই ওই সঞ্চিত টাকা লুট করতে দুর্বৃত্তরা তার কক্ষে ঢুকে ববি বেগমের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। হামলায় তার চোখ, মুখ, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ৭ জুলাই রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়।

ময়নাতদন্ত শেষে মেথিকান্দা রেলস্টেশনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের নুরপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানা একটি মামলা হয়। পরে জড়িত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে ববি বেগমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ফেসবুক পোস্টে তার ছবি দেখে স্বজনরা তাকে শনাক্ত করেন।

নিহত ববি বেগমের ভাগ্নি গোলাপি বেগম বলেন, আমার ভগ্নিপতি সৈকত ইসলামের মাধ্যমে ফেসবুকে খালার ছবি দেখি। পরে আমাদের কাছে থাকা পুরোনো একটি ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হই যে তিনিই আমাদের নিখোঁজ খালা।

তিনি আরো বলেন, খালা নিখোঁজ হওয়ার পর বড় মামা বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিলেন, কিন্তু তাকে আর খুঁজে পাননি। নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পর মামাও মারা যান। পরিবারের বাকি সদস্যদের অধিকাংশই বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় আর খোঁজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে কবর জিয়ারত শেষে পরিবারের সদস্যরা মেথিকান্দা রেলস্টেশনে যান। সেখানে ২৫ বছর ধরে ববি বেগমের বসবাস করা কক্ষ, তার ব্যবহৃত আসবাবপত্র, রান্নার চুলা, শোয়ার স্থান এবং স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ঘুরে দেখেন। এসময় বোন ফাতেমা বেগম, রবি বেগম ও ভাই আনছর আলী প্রামাণিক আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে সন্ধ্যায় তারা বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন।

জানাজা শেষে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
জানাজা শেষে ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

যশোরের অভয়নগরে জানাজা নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় তারেক মল্লিক (২৬) নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শান্ত ইসলাম (৩০) নামের নিহতের এক সহকর্মী আহত হয়েছেন।

রবিবার (১২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামে শংকরপাশা জামে মসজিদের সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তারেক মল্লিক উপজেলা চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের বাচ্চু মল্লিকের ছেলে। আহত শান্ত ইসলাম শংকরপাশা গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে। তারা দুইজন নওয়াপাড়া বাজারের একটি সার ও কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ১০টা দিকে শ্রীধরপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ইদ্রিস মোল্যার জানাজার নামাজ শেষে দুই যুবক মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপাশা খেয়া ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন। শংকরপাশা জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে দ্রুত গতির একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। এসময় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু হয় এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য আরোহী যুবক আহত হন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহত যুবককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পাওয়ার পর দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ট্রাক আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ওসি আরো বলেন, শুনেছি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার জানাজার নামাজ শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

উখিয়া সীমান্তে সাড়ে ১২ লাখ টাকাসহ দুই পাচারকারী আটক

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
উখিয়া সীমান্তে সাড়ে ১২ লাখ টাকাসহ দুই পাচারকারী আটক
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে মিয়ানমারে সার ও ভোজ্যতেল পাচার করে ফেরার সময় এক রোহিঙ্গাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের গুইল্লাখালী পয়েন্ট থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৫ ব্লকের বাসিন্দা আমির হোসেনের ছেলে লোকমান হাকিম (২৫) এবং পালংখালী ইউনিয়নের পূর্ব ফারিরবিল এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে আবছার উদ্দিন (২৮)।

উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তের চোরাইপথে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সার ও ভোজ্যতেল পাচার করে বাংলাদেশে ফেরার সময় বিজিবির টহল দল তাদের আটক করে।

তিনি বলেন, আটকের পর তাদের দেহ তল্লাশি করে নগদ ১২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুইজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

আন্দোলনের মুখে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পদায়ন বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
আন্দোলনের মুখে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পদায়ন বাতিল
ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন। সংগৃহীত ছবি

আন্দোলনের মুখে অবশেষে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনের পদায়ন বাতিল করা হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব সুজিৎ দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-২ শাখার ৫ জুলাই-এর প্রজ্ঞাপনে ডা. এসএম মনিরুজ্জামান (কোড- ১০৯৯২৪), সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) (চলতি দায়িত্ব) বরিশাল বিভাগের বদলিপূর্বক পদায়নের অংশটি এতদ্দ্বারা নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো। 

পদায়নের আদেশ বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ নেই প্রজ্ঞাপনে। বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে পদায়ন পাওয়ার পর স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীরা তার প্রত্যাহার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ড্যাবের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন মনিরুজ্জামান শাহীন। তিনি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী আহতদের চিকিৎসা পর্যন্ত নিজে দেননি। প্রকাশ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। তাই আমরা তার প্রত্যাহার দাবিতে আন্দোলন করেছি। অবশেষে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৫ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে পদায়ন করা হয় সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীনকে। ৬ জুলাই তিনি যোগদান করেন বরিশালে।

ওইদিন থেকেই তাকে জুলাইবিরোধী এবং ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে আন্দোলন শুরু করে বরিশাল ড্যাব এবং মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকালে ডা. মনিরুজ্জামান শাহীনকে স্বাস্থ্য ভবন থেকে বের করে দিয়ে পরিচালকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাবস্থায় জুলাই বিপ্লবে বিরোধিতা এবং শান্তি সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ডা. এসএম মনিরুজ্জামান শাহীন। এ কারণে তার পদায়ন আদেশ বাতিল চেয়ে আন্দোলন করেন তারা। রবিবারও বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ে তার অপসারণ চেয়ে ব্যানার টানিয়ে মানববন্ধন করেন আন্দোলনকারীরা।