• ই-পেপার

সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে বিজিবির গুলি

বীরগঞ্জে সাপের কামড়ে জামায়াত নেতার মৃত্যু

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
বীরগঞ্জে সাপের কামড়ে জামায়াত নেতার মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে জাকিরুল ইসলাম আলম (৫০) নামের এক জামায়াত নেতার মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত জাকিরুল ইসলাম আলম উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।

পারিবারিক ও দলীয় সূত্র জানায়, শনিবার গভীর রাতে তাকে একটি বিষাক্ত সাপ কামড় দেয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন দিনাজপুর জেলা শাখার সহ-সভাপতি রাশেদুন নবী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জাকিরুল ইসলাম আলমকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তিনি মারা যান।

ভাঙ্গায় বাসচাপায় আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ভাঙ্গায় বাসচাপায় আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদি বাসস্ট্যান্ডে বাসচাপায় আহত স্কুলছাত্র নূরনবী শেখ (১২) মারা গেছে। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬ জনে।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নূরনবী। সে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শুয়াদি গ্রামের তুহিন শেখের ছেলে এবং নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

এদিকে একই গ্রামের চারজন নিহত হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই তিনজনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এবং পাশাপাশি দাফন করা হয়। মৃত নূরনবী শেখকে সন্ধ্যার পর দাফন করা হয়। 

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। নিহতদের দাফন শেষে স্বজনরা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক বাস, ডিমবোঝাই পিকআপ এবং আরো দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। 

পৌরসভার গাড়ি বিক্রি করে চালকের বাড়িতে এসি, কিনেছেন জমিও

অনলাইন ডেস্ক
পৌরসভার গাড়ি বিক্রি করে চালকের বাড়িতে এসি, কিনেছেন জমিও
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের পাঁচটি সরকারি যানবাহনের খোঁজ মিলছিল না। এসব গাড়ির মধ্যে ছিল চারটি ডাম্প ট্রাক ও জরুরি রোগী পরিবহনের একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্স। জেলা প্রশাসনের অভিযানে দুটি ডাম্প ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করা হলেও, এখনো মিলছে না দুটি ট্রাক ও অ্যাম্বুল্যান্সের সন্ধান। এ ঘটনার সঙ্গে পৌরসভার গাড়িচালক কামাল হোসেনসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা উত্তোলনেরও অভিযোগ রয়েছে। আগামীর সময়ের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

পৌরসভার সাবেক এক চালকের দাবি, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ে ক্ষমতাসীন মেয়রের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে এবং পরে সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কামাল হোসেন সুবিধা নিয়েছেন। কয়েক মাস আগে কামাল নিজ গ্রাম নুরুল্যাপুরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছেন জমি। বাড়িতে লাগিয়েছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি)। সম্প্রতি এক আত্মীয়কে বিদেশ পাঠাতে দিয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ টাকা। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নথিপত্র দেখতে পারেননি।

পৌরসভার গ্যারেজে গিয়ে দেখা গেছে, ২০২১ সালে কেনা সাতটি ডাম্প ট্রাকের মধ্যে তিনটি রয়েছে সেখানে। সেগুলোও দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। বাকি চারটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। একইভাবে গ্যারেজে পাওয়া যায়নি পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্সটিও।

যদিও জেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে দুটি ট্রাক ও একটি পে-লোডার উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং মোটর ওয়ার্কস গ্যারেজে চালানো হয় এই অভিযান।

ভগীরথপুর এলাকার গ্যারেজ মালিক মনুর ভাষ্য, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থানের পর পৌরসভার অ্যাম্বুল্যান্সটি আনা হয়েছিল তার গ্যারেজে। পরে পৌরসভার চালক কামাল হোসেন সেটি নিয়ে যান। গাড়িটি সাহেপ্রতাপ এলাকার একটি গ্যারেজে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এরপর কোথায় গেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সাহেপ্রতাপ এলাকার মেকানিক নুরুল ইসলাম দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার গ্যারেজে মাধবদী পৌরসভার কোনো অ্যাম্বুল্যান্স মেরামতের জন্য আনা হয়নি।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসংগতি দেখা দিয়েছে। পৌরসভার একমাত্র অ্যাম্বুল্যান্সটি এখন কোথায় এবং কার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

পৌরসভার এক কর্মচারীর দাবি, চারটি ডাম্প ট্রাক শিবপুর উপজেলার ইটাখোলা এলাকায় মাটি বহনের কাজে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় পৌরসভার চালক কামাল হোসেন, মোস্তফাসহ কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সটিও পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে ঢাকায়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো নথি উপস্থাপন করেননি।

শুধু যানবাহন না, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিশেষ করে গাড়ি মেরামত ও জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পৌরসভার বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন সরকার পরিবর্তনের পরও প্রভাব খাটিয়ে গাড়ি মেরামতের নামে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। অন্য চালকদেরও পৌরসভার যানবাহন চালাতে দেওয় হতো বাধা। এই প্রতিবেদকের হাতে আসা গাড়ি মেরামত ও জ্বালানির একাধিক বিল-ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু ভাউচারে উল্লেখ নেই তারিখ। আবার কিছু নথিতে কোন গাড়ির জন্য নেওয়া হয়েছে জ্বালানি তেল, সেই গাড়ির নম্বরও নেই। বিভিন্ন যানবাহন মেরামতের বিলের বিপরীতে চেক ইস্যু করা হয়েছে চালক কামাল হোসেনের নামে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘৫ আগস্টের পর গাড়িগুলো নেওয়া হয়েছিল মনুর গারেজে। পরে সেগুলো কোথায় গেছে, তা জানি না আমি।’ ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির অভিযোগ নিয়ে তার ভাষ্য, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ তিনি দাবি করেন, কখনো নিজের নামে এ ধরনের কোনো বিল অফিসে জমা দেননি।

অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্যে প্রশাসনের নজর এখন তদন্তে। এর ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে অভিযোগগুলোর সত্যতা। মাধবদী পৌরসভার প্রশাসক ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা জাহান সরকার জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জানানো হবে বিস্তারিত। কারও কাছে এ বিষয়ে তথ্য বা প্রমাণ থাকলে তা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

বন্যায় দুর্গম জনপদে ত্রাণ নিয়ে অভিযাত্রিক, প্রথম ধাপে সহায়তা পেল ৪০০ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যায় দুর্গম জনপদে ত্রাণ নিয়ে অভিযাত্রিক, প্রথম ধাপে সহায়তা পেল ৪০০ পরিবার

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত দুর্গম এলাকায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশন। প্রথম ধাপে বাঁশখালী উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৪০০টি পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি, প্রাথমিক চিকিৎসার ওষুধ ও রিলিফ ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। পানিবন্দি এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্ধার নৌকারও ব্যবহার করা হচ্ছে।

রবিবার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, আজমুর রোকেয়া রহমান ট্রাস্টের সহায়তায় ২০০টি পরিবার এবং অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে আরো ২০০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল সোমবার কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও আশপাশের চরাঞ্চলের আরো ২৫০টি পরিবারের কাছে জরুরি খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ করছেন অভিযাত্রিকের জেলা শাখার স্বেচ্ছাসেবীরা।

সংগঠনটি জানায়, ত্রাণ বিতরণ শুরুর আগে চার দিন ধরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ, চাহিদা নিরূপণ এবং যেখানে এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছেনি সেসব এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। এরপর যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, ‘গত ১৬ বছর ধরে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে আছি। আমাদের লক্ষ্য এমন এলাকায় পৌঁছানো, যেখানে এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছেনি। অনেক সময় একই এলাকায় বারবার ত্রাণ গেলেও দুর্গম কিছু এলাকা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত থেকে যায়। তাই ত্রাণ বিতরণের আগে মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাইকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।’

তিনি জানান, এ উদ্দেশ্যে অভিযাত্রিক ন্যাশনাল ভলান্টিয়ার নেটওয়ার্ক (ওভিএন) চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা এলাকাভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য দিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগে অংশ নিতে পারবেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্যার পানি না কমা পর্যন্ত জরুরি খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এরপর স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে এই কার্যক্রমে জনসাধারণের অনুদান নেওয়া হচ্ছে না। নিজস্ব তহবিল ও একটি দাতা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে আরো বৃহৎ পরিসরে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে।