• ই-পেপার

এশার আজানের মাঝেই লুটিয়ে পড়লেন ইমাম, বাঁচানো গেল না

একই সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল তিন জমজ বোন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
একই সঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল তিন জমজ বোন
ছবি : কালের কণ্ঠ

একই দিনে জন্ম, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। এবার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাতেও একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কুড়িগ্রামের তিন জমজ বোন।

মেধাবী এই তিন শিক্ষার্থী হলেন তাবিয়া রহমান, তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান। তারা কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক ও গৃহিণী শাহিনা আক্তারের কন্যা। তিন মেয়ের একযোগে এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে পরিবার, শিক্ষক ও স্বজনরা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তাহিয়া রহমান ও তাকিয়া রহমান কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবং তাবিয়া রহমান অর্জুনডারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে।

বর্তমানে তাহিয়া ও তাকিয়া কুড়িগ্রাম সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং তাবিয়া কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটোবেলা থেকেই তিন বোনের পড়াশোনার প্রতি ছিল প্রবল আগ্রহ। নিয়মিত অধ্যয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পরিবারের উৎসাহ-অনুপ্রেরণাই তাদের এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিয়েছে। একজনের অনুপ্রেরণা অন্য দুজনকে আরও ভালো করার উৎসাহ জুগিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বাবা আইনজীবী তারিকুর রহমান তারিক বলেন, ‘এটি আল্লাহর অশেষ রহমত। মেয়েরা যেন ভবিষ্যতে সুশিক্ষিত, সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘একই পরিবারের তিন জমজ বোনের একসঙ্গে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন সত্যিই বিরল ঘটনা। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো কুড়িগ্রামের জন্যই গর্বের।’

রামুতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে পথচারীর মৃত্যু

রামু (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
রামুতে পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে পথচারীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারের রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে পা ফসকে তলিয়ে গিয়ে নিরঞ্জন দাস (৬৫) নামের এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

রবিবার (১২ জুলাই) রাত ৮টার দিকে কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নিরঞ্জন দাস একই ইউনিয়নের দোছড়ি পূর্বদাশপাড়া গ্রামের মৃত সুধীর দাসের ছেলে।

নিহতের ভাই ডালিম দাস জানান, নিরঞ্জন দাস নাইক্ষ্যংছড়ির একটি দোকানে চাকরি করতেন। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টমটমে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু গর্জনিয়া বাজার সড়কের ফাক্রিকাটা এলাকায় পৌঁছে দেখা যায়, সড়কের ওপর হাঁটুসমান পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ঝুঁকির কারণে টমটমচালক পানি পার হতে রাজি না হলে নিরঞ্জন দাস হেঁটে সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি আরো জানান, ফাক্রিকাটা বিলসংলগ্ন সড়কের মাঝামাঝি অংশে পানির স্রোত বেশি ছিল। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী নিরঞ্জন দাস রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় একটি গর্তে পা পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে স্রোতের পানিতে তলিয়ে যান। আশপাশের লোকজন ছুটে এলেও মুহূর্তের মধ্যে তিনি পানির নিচে হারিয়ে যান।

খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তার আগেই স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করেন।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, নিহতের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেছেন। এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধারকাজে পাঠানো হয়। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হবে।’

এদিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া ঢলপ্রবণ এলাকা ও স্রোতযুক্ত সড়ক পারাপার না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

থানচির থুইসাপাড়ায় আটকা পড়া ৪ পর্যটককে উদ্ধার করল বিজিবি

১০ দিনে উদ্ধার ১২০ পর্যটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
থানচির থুইসাপাড়ায় আটকা পড়া ৪ পর্যটককে উদ্ধার করল বিজিবি
বান্দরবানের খাড়াই পাহাড়, ভয়ংকর খরস্রোতা নদী, পাথুরে ছড়া এবং গভীর ও দুর্গম বনাঞ্চল পাড়ি দিয়ে থানচির থুইসাপাড়া এলাকায় আটকা পড়া আটকা পড়া পর্যটকদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসছেন বিজিবির সদস্যরা।

খাড়াই পাহাড়, ভয়ংকর খরস্রোতা নদী, পাথুরে ঝিরি আর গভীর দুর্গম বনাঞ্চল পাড়ি দিয়ে টানা ৪৮ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযানে বান্দরবানের থানচি উপজেলার থুইসাপাড়ায় আটকা পড়া ৪ পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পরিচালিত এই উদ্ধার অভিযান স্থানীয়দের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া চার পর্যটক হলেন, ঢাকার সূত্রাপুর থানার বাসিন্দা মো. মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম, তামিম রায়হান সৌরভ এবং শ্যামপুর থানার বাসিন্দা মাহাদি আল মাহবুব। তাদের মধ্যে তামিম রায়হান সৌরভ নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী এবং অন্য তিনজন এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

একই সঙ্গে গত ১০ দিনের টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস, পাহাড়ধস ও সড়ক বিচ্ছিন্নতার কারণে থানচির নাফাখুম, অমিয়াখুমসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকা এবং দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় আটকা পড়া মোট ১২০ জন পর্যটককে উদ্ধার করেছে বিজিবি। এছাড়া ৬ শতাধিক দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবাও প্রদান করেছে বাহিনীটি।

বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৪ জুলাই অমিয়াখুম ভ্রমণের উদ্দেশ্যে চার পর্যটক থানচির থুইসাপাড়ায় যান। কিন্তু ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং নদীর পানির উচ্চতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় নৌপথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তারা থুইসাপাড়ায় আটকা পড়েন।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিজিবির সদস্যরা চার পর্যটককে সঙ্গে নিয়ে থুইসাপাড়া থেকে বিকল্প দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে জিন্নাপাড়া, হালিরামপাড়া ও নিকোলাসপাড়া অতিক্রম করে ঝিরি ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে অংসাউপাড়া এলাকায় পৌঁছান। পথে একাধিক পাহাড়ধস, ঝিরিতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, প্রবল স্রোত এবং দিনব্যাপী বৃষ্টির কারণে সেদিন সীমান্ত সড়ক পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে অংসাউপাড়ায় বিজিবির তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের নিরাপদে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে অংসাউপাড়া ক্যাম্প থেকে বিজিবির আরেকটি দল অভিযানে যুক্ত হয়। প্রায় ৪ ঘণ্টা দুর্গম পাহাড়ি পথ ও পাথুরে ঝিরি অতিক্রম করে তারা সীমান্ত সড়কসংলগ্ন নেপিউপাড়া বিওপিতে পৌঁছান। সেখান থেকে বিজিবির গাড়িতে করে ৪ পর্যটককে নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।

খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধীন জিন্নাপাড়া ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে থুইসাপাড়ায় পৌঁছে পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় কারবারিদের সহযোগিতায় থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়। পুরো সময়জুড়ে বিজিবি সদস্যরা তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় ১১ জুলাই আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। বিজিবির সদস্যরা চার পর্যটককে সঙ্গে নিয়ে থুইসাপাড়া থেকে বিকল্প দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে জিন্নাপাড়া, হালিরামপাড়া ও নিকোলাসপাড়া অতিক্রম করে ঝিরি ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে অংসাউপাড়ায় পৌঁছান। তবে পথে একাধিক পাহাড়ধস, ঝিরিতে পানির তীব্র স্রোত, পানি বৃদ্ধি এবং সারাদিনের বৃষ্টির কারণে সেদিন সীমান্ত সড়কে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে অংসাউপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে পর্যটকদের নিরাপদে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।

উদ্ধার হওয়া পর্যটকরা জানান, থুইসাপাড়ায় আটকা পড়ার পর থেকেই বিজিবি তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। পরে জীবনবাজি রেখে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে বিজিবির সদস্যরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও মানবিক ভূমিকার জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রুবায়াত জামিল বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যেকোনো দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থেকে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দিতে বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।’

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বিজিবি ১১৬ জন পর্যটকসহ ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে। এছাড়া দুর্গত মানুষের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং অন্তত ৪৮ জনকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

টানা বর্ষণে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও বিজিবির ধারাবাহিক উদ্ধার তৎপরতায় আটকা পড়া পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজন ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাঁচবিবিতে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
পাঁচবিবিতে বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

জয়পুরহাট পাঁচবিবিতে বজ্রপাতে রাশেদুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বাশখুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ ওই গ্রামে মোজাফ্ফর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

স্থানীয়রা জানান, রবিবার রাত ৮টার দিকে শালাইপুর বাজার থেকে রাশেদ মাঠের মধ্য দিয়ে নিজ বাড়িতে ফেরার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।