• ই-পেপার

কুমিল্লায় মহাসড়কে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল দুই নারীর

রান্নার সময় সবুজ হলো গরুর মাংস, চাঞ্চল্য পাইকগাছায়

খুলনা অফিস
রান্নার সময় সবুজ হলো গরুর মাংস, চাঞ্চল্য পাইকগাছায়
ছবি: কালের কণ্ঠ

খুলনার পাইকগাছায় গরুর মাংস রান্না করতে গিয়ে অস্বাভাবিক রং পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবারের (২২ জুলাই) এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, পাইকগাছা পৌর বাজারের একজন মাংস ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ফ্রিজে সংরক্ষিত গরুর মাংস কেনেন স্থানীয় মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা। পিকনিকের জন্য তারা মোট তিন কেজি ৯০০ গ্রাম গরুর মাংস ক্রয় করেন। রান্নার সময় হঠাৎ মাংসের রং সবুজ হয়ে যেতে দেখে তারা বিষয়টি স্থানীয়দের জানান। পরে ওই মাংস পাইকগাছা থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ তা জব্দ করে থানার হেফাজতে রাখে।

অভিযোগের বিষয়ে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল কসাই বলেন, বুধবার সকালে তিনি আরো অনেক ক্রেতার কাছে একই মাংস বিক্রি করেছেন, কিন্তু মডার্ন বেকারির কর্মচারী ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাননি। 

তিনি দাবি করেন, গত ১৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন। বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো রং বা রাসায়নিক ভুলবশত রান্নার সময় মিশে যাওয়ার কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তিনি দাবি করেন।

পাইকগাছা থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মাংসের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই রং পরিবর্তনের প্রকৃত কারণ এবং কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ভেজালের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অভিযানে ধরা পড়ল বাসি খাবার, নোয়াখালীর দুই বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
অভিযানে ধরা পড়ল বাসি খাবার, নোয়াখালীর দুই বিরিয়ানি হাউজকে জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

নোয়াখালীতে বাসি খাবার সংরক্ষণ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে দুই বিরিয়ানি হাউজকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নোয়াখালী সদর উপজেলার টাউনহল মোড় ও দত্তেরহাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে জেলা শহরের টাউন হল মোড়ের মেসার্স হাজী বিরিয়ানি হাউজে বাসি খিচুড়ি, তেহারি, বিরিয়ানি ও সিদ্ধ ডিম পলিথিনে ভরে ফ্রিজে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সংরক্ষণ করা বাসি খাবার জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।

অন্যদিকে, দত্তেরহাট এলাকার মেসার্স টোকিও কাচ্চি বাড়িতে কাচ্চিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নিষিদ্ধ কেওড়া জল ও খাবার রঙিন করতে ‘কাশ্মীরি চিলি’ নামে রং ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া ফ্রিজে রান্না করা ও কাঁচা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এসব অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে আরো ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়।

এ ছাড়া অভিযানে সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করা হয়। অভিযানে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আছাদুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে জেলা বিশেষ টাস্কফোর্স টিম ও জেলা ব্যাটালিয়ন আনসারের একটি দল অংশ নেয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সড়কে প্রাণঘাতী নসিমন, সাদুল্লাপুরে নিহত ভ্যানচালক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
সড়কে প্রাণঘাতী নসিমন, সাদুল্লাপুরে নিহত ভ্যানচালক
প্রতীকী ছবি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের টিয়াগাছা পশ্চিমপাড়া এলাকায় ধানবোঝাই একটি নসিমনের চাকায় পিষ্ট হয়ে জব্বার আলী (৫০) নামে এক ভ্যান চালক নিহত হয়েছেন। নিহত জব্বার উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের টিয়াগাছা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খেজের উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ধানবোঝাই একটি নসিমন সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানচালক জব্বারকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে নসিমনের চাকায় পিষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

এ খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দেবীদ্বার

পুকুরে ভেঙে পড়ছে পাকা সড়ক, ঝুঁকিতে চলাচল

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
পুকুরে ভেঙে পড়ছে পাকা সড়ক, ঝুঁকিতে চলাচল
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে একটি পাকা সড়কের বেশির ভাগ অংশ পুকুরে ভেঙে পড়েছে। ভাঙনের কবলে পড়া সড়ক দিয়ে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে হাজারো মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখাঁর এলাকার বাইতুস সুজুদ জামে মসজিদসংলগ্ন সড়কে দেখা গেছে এমন চিত্র।

জানা গেছে, সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আঁতাপুর বাজার থেকে ধামতী বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এ সড়কের দুই পাশঘেঁষে স্থানীয় প্রভাবশালীরা একাধিক পুকুর খনন করেছেন। এখন সড়কটির বেশির ভাগ অংশ এসব পুকুরে ধসে পড়ছে। ফলে সড়কটি অনেকটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। সম্প্রতি টানা বর্ষণে সড়কে ফাটলের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এতে সামান্য অসাবধানতায় যানবাহন পুকুরে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা তৌফিকুর রহমান ও আজহারুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন। দক্ষিণ খাঁর গ্রামের বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষও এই সড়ক ব্যবহার করেন। মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে এবং বৃষ্টির সময় চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। স্কুল-কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা এই সড়কটি ব্যবহার করতে পারছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কুমিল্লা মেডিক্যালের চিকিৎসক ডা. শাহেদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, সড়কটি কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হলেও বছর না যেতে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া সড়কের অনেকাংশে পুকুরের কারণে ভেঙে যায়। এ সড়ক দিয়ে গ্রামের মানুষ ঢাকা-কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করে। সড়কটি নির্মাণের সময় ঠিকাদার পুকুরের পাড়ে মাটি দেয়নি, যার কারণে বৃষ্টিতে সড়কটির বেশির ভাগ অংশ পুকুরে ভেঙে পড়ছে। যদি এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হয় তাহলে ভাঙার পরিমাণ আরো বাড়বে।

ধামতী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ইব্রাহীম খলিল বলেন, বর্তমানে এ সড়কে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেড়-দুই বছর আগে সড়কটির সংস্কার করে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ। কিন্তু ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ভাঙা দেখা দেয়। সড়কের পাশে আলাদা বরাদ্দে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হলেও সেখানেও নিম্নমানের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়। তখন আমরা বাধা দিয়েছিলাম, কিন্তু ঠিকাদার কথা শুনেননি। শুধু দক্ষিণখাঁর এলাকায় নয়, এ সড়কটি পাশে যতগুলো পুকুর আছে সব স্থানে সড়ক এমন ধসে পড়ছে। একটি রাস্তা ভালোমতো দুই বছরও টিকল না।

দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, সড়কটি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কয়েক বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। বৃষ্টি ও যানবাহনের চাপে সড়কটির কয়েকটি অংশ দেবে গেছে। পুকুর মালিকেরা পুকুরের পাড় বেঁধে দিলে সড়কটি ভাঙত না। এটি মেরামতের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় মহাসড়কে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল দুই নারীর | কালের কণ্ঠ