কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে ঘুরতে এসে নিখোঁজ হওয়া এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে তিনি নিখোঁজ হন।
নিহত কাউসার ইসলাম (২৬) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি ঢাকার উত্তরা এলাকায় বে কম্পানির একটি শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসে। তারা ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় গাড়িতে পৌঁছে সেখান থেকে নৌকাযোগে বগাডুবি সেতু এলাকায় যায়।
তিনি জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে সেতু-সংলগ্ন ডুবে যাওয়া সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় স্রোতে একজন তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন কাউসার। এক পর্যায়ে তিনি নিজেই পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউসার সাঁতার জানতেন না বলেও জানান তার ভাই।
কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের আরেক সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে গেলে তারাও স্রোতের কবলে পড়েন। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মঙ্গলবার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ওই দিনের অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার সকালে পুনরায় অভিযান শুরু হলে দুপুর ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।






