• ই-পেপার

ফাঁড়িতে হিজড়া বাহিনীর হামলা, ছিনিয়ে নিল ২ মাদক কারবারিকে!

  • সংঘর্ষে তৃতীয় লিঙ্গের একজন নিহত

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ২০ টাকা ধরিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক, গ্রেপ্তার ২

ভোলা প্রতিনিধি
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর ২০ টাকা ধরিয়ে দেন প্রধান শিক্ষক, গ্রেপ্তার ২
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

ভোলার বোরহানউদ্দিনে হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগী ছাত্রীর হাতে ২০ টাকা ধরিয়ে দেন ওই শিক্ষক। কিন্তু ঘটনাটি জানালে তার দাদি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষকের নাম মো. মহিউদ্দিন (৫৫)। তিনি উপজেলার হাসান নগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও টবগী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ছেলামত মাঝির ছেলে। 

এদিকে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারকে টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে মো. বাচ্চু (৫০) নামের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাচ্চু হাসান নগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য। 

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পৃথক পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশু উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের হাসাননগর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৬ জুলাই দুপুরে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন কৌশলে তাকে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি পরিবারকে না জানাতে প্রাণনাশের হুমকিধমকি দিয়ে তার হাতে ২০ টাকা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এরপর শিশুটি বাড়ি ফিরলে স্বজনরা তার অস্বাভাবিক হাঁটাচলা দেখে জিজ্ঞেস করলে সে সব জানায়। পরে স্বজনরা প্রথমে বিষয়টি স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চুকে জানালে তিনি সমাধান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু (মঙ্গলবার) রাতে তিনি তাদের বাড়িতে গিয়ে ১০ হাজার টাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ভুক্তভোগীর স্বজনরা অস্বীকৃতি জানালে বাচ্চু মেম্বার ও তার লোকজন তাদের মারধর করেন।

বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তার প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দিন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি এবং সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মামলার সহযোগী আসামি। বুধবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মাকে হত্যাচেষ্টা, ছেলে কারাগারে

চাঁদপুর প্রতিনিধি
গলায় ওড়না পেঁচিয়ে মাকে হত্যাচেষ্টা, ছেলে কারাগারে
সংগৃহীত ছবি

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় ভরণপোষণের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাইফুল ইসলাম (২৬) নামের যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের খলিল মেম্বারের বাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী রেহেনা বেগম স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করছেন। তার অভিযোগ, বড় ছেলে সংসারের দায়িত্ব পালন করলেও ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস ও সমঝোতার চেষ্টা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রেহেনা বেগম ছেলে সাইফুল ইসলামের কাছে ভরণপোষণের টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। এক পর্যায়ে মাকে মারধর করেন, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্বজনরা এসে রেহেনা বেগমকে উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে তিনি শাহরাস্তি মডেল থানায় পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান জানান, মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে চাঁদপুরের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলমান।

চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুরে শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ৭ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় মো. অরুণ ভূঁইয়া (৫০) নামের এক বৃদ্ধকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়াও তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. রেজাউল করিম এই রায় দেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অরুণ ভূঁইয়া উপজেলার গজরা ভূঁইয়াবাড়ির মৃত আব্দুল কাদির ভূঁইয়ার ছেলে।

সরকারপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা মুক্তা বলেন, আদালতে মামলাটি চলমান অবস্থায় ৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামির অপরাধ স্বীকার করা ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে বিচারক এই রায় দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম প্রধান।

ভরা বর্ষায় চারা লাগানোর উৎসব

মো. তোফাজ্জল হোসেন, নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
ভরা বর্ষায় চারা লাগানোর উৎসব
টানা বৃষ্টিতে জমি প্রস্তুতের পর জমিতে চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। বুধবার নওগাঁর নিয়ামতপুরের পাড়ইল ইউনিয়নের বেলগাপুর গ্রামের একটি ক্ষেতে। ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা বৃষ্টিতে পুরোদমে রোপা আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন নওগাঁর নিয়ামতপুরের কৃষক। জমি প্রস্তুত, আগাছা পরিষ্কার, বৃষ্টির পানি জমিতে সংরক্ষণ করা, সার দেওয়াসহ নানা কাজে এখন দারুণ ব্যস্ত তারা। 

গতকাল মঙ্গলবার (২১ জুলাই) থেকে দুই দিন সরেজমিন  উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষায় সেচবিহীন কম খরচে আমন ধান চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা। সময়মতো বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জমিতে রোপা আমনের চারা রোপণে নেমে পড়েছেন তারা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৩১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৯২৮ মেট্রিক টন। 

এবার উপজেলায় স্বর্ণা ব্রি ধান ৩৪, ৪৯, ৫১, ৭৫, ৮৭, ৯০, ৯৩, ৯৪, ৯৫, ১০৩, বিনা ৭, ১৭, ২০, ২২, ও ২৬ জাতের ধান রোপণ করা হচ্ছে বেশি। ফলন ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৫.৭ মেট্রিক টন অর্থাৎ এক লাখ ৭৬ হাজার ৯২৮ মেট্রিক টন, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬৩৬ কোটি ৯৪ লাখ আট হাজার টাকা। দর প্রতিকেজি ৩৬ টাকা।

উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক তোতা জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ২৪ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে সব জমিতে চারা রোপণ করা শেষ। আষাঢ় মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টির দেখা না পেলেও তিনি পানি সেচ দিয়ে চারা রোপণের কাজ শুরু করেন। পরে বৃষ্টির দেখা পাওয়ায় দ্রুত চারা  রোপণের কাজ শেষ করেন তিনি।

উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের তুলারবাঐল গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে আমরা আমন চাষ করি। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় চারা রোপণের কাজ শেষ করছি। এখন শুধু বীজতলা রোপণের কাজ বাকি।

উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের জায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ছয় বিঘা জমিতে ধান চাষ করব। জমি চাষের কাজ শেষ। এখন শুধু চারা রোপণ করতে হবে। কিন্তু শ্রমিক না পাওয়ায় তিন দিন থেকে শ্রমিকের বাড়ি বাড়ি ঘুরছি। তবু মিলাতে পারছি না।’ তিনি বলেন, ‘এখন শ্রমিকের মজুরি চলছে বীজ তোলা থেকে লাগানো পর্যন্ত বিঘাপ্রতি ১৫০০ টাকা  থেকে ১৬০০ টাকা। আমি দুই হাজার থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে চাইছি। তবু শ্রমিক পাচ্ছি না।’

নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত অনেক কৃষক। এখন পর্যন্ত উপজেলায় কৃষকরা প্রায় ৪৫ শতাংশ কৃষক চারা রোপণ করতে পেরেছে। তবে একটু দেরিতে হলেও শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝিতে চারা রোপণের কাজ প্রায় শেষ হবে। প্রত্যেক  ইউনিয়নে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রয়েছেন। এখন আর কৃষকের কোনো সমস্যা নেই। 

ফাঁড়িতে হিজড়া বাহিনীর হামলা, ছিনিয়ে নিল ২ মাদক কারবারিকে! | কালের কণ্ঠ