পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা ও জেলা শাখার সহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে দুটি মামলা করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে সুজানগর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। দুটি মামলাতেই সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলামসহ অনেককেই মামলা দুটিতে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। নাশকতা পরিকল্পনা ও এতে সহযোগিতার অভিযোগে একটি মামলায় জেলা আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবুকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুজানগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. লালবুর রহমান।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোরে অভিযানে গেলে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর এবং মারধর করা হয়। এঘটনায় সরকারি কাজে বাধা, গাড়ি ভাঙচুর ও হত্যার উদ্দেশে পুলিশকে মারধরের অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুজ্জামান শাহিন, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এসএম সোহাগসহ ৫৫ জনকে এজহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
এদিকে একইদিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নামে আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ। এতেও প্রধান আসামি আব্দুল ওহাব। এতে আরো আসামি করা হয়েছে দলটির জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আমিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক এসএম সোহাগসহ এজহারভুক্ত ৫৭ জনকে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ও এসব কাজে সহযোগিতার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়েছে। উভয় মামলাতেই ২৫০-৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে বলেও জানায় পুলিশ।
এ ব্যাপারে সুজানগর থানার ওসি (তদন্ত) মো. লালবুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলা করে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করেছে। দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনারদিন পুলিশ জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখাসহ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল বা নাশকতার একটি পরিকল্পনা ছিল বলে বুধবার রাতে পুলিশ গোপন সংবাদ পায়। এ খবর পেয়ে দুটি গাড়িতে পুলিশের একটি সাধারণ টহল টিম মথুরাপুরের দোপপাড়া এলাকায় গেলে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ওই দলের কয়েকশ’ কর্মী সমর্থক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ওসি সহ দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন।










