kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

নেত্রকোনায় মাঠের হাসিতে হাসছে কৃষক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেত্রকোনায় মাঠের হাসিতে হাসছে কৃষক

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। শনি ও রবিবার নেত্রকোনা জেলার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওর ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্র ধান কাটা, মাড়াই ও শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক। প্রায় সর্বত্রই সরকারের ভর্তুকি দেওয়া কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটার দৃশ্য। ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে হাওরাঞ্চলে কৃষকদের মাঝে এক ধরণের উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বেশীরভাগ হাওরে ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকরা খুশি।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মওসুমে নেত্রকোনা জেলায় ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৯ শত ৮৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত খালিয়াজুরী উপজেলায় ২০ হাজার ১ শত হেক্টর, মদন উপজেলায় ১৭ হাজার ৩ শত ৪০ হেক্টর, মোহনগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪ শত ৯৩ মেট্রিক টন।

কৃষকরা জানায়, গত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হাওরে ব্রি আর ২৮ ধান কাটা শুরু হয়েছে। আর এখন ব্রি আর ২৯ ধান কাটা শুরু হয়েছে।

ডিঙ্গাপুতা হাওরে ধান কাটারত মল্লিকপুর গ্রামের কৃষক টিটু চৌধুরী জানান, গেল কয়েক বছরের চেয়ে এবার ডিঙ্গাপোতা হাওরে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি ৮৫ কাটা জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান আবাদ করেছেন। তিনি কাটা প্রতি ৭ থেকে ৮ মণ ধান পেয়েছেন।

শেওড়াতলী গ্রামের কৃষক ময়না মিয়া জানান, ধান কাটার পর জমিতেই ভেজা ধান ৮ শত ২৫ টাকা মণ দরে ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

হাটনাইয়া গ্রামের কৃষক শাহে আলম জানান,  এ বছর হাওরাঞ্চলে যথেষ্ট পরিমাণে হারভেস্টার মেশিন থাকায় দ্রুত জমির ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে।

মদন উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলী জানান, ধানের ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি ধার দেনা শোধ করেও ছেলে মেয়েদের নিয়ে ভালোভাবে জীবন যাপন করতে পারব।

খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লভপুর গ্রামের সঞ্জিত তালুকদার বলেন, ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে আমরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সরকার যদি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান খরিদ করতো তাহলে হাওরাঞ্চলের কৃষকরা আরো বেশী লাভবান হতো।

নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সময়মতো সঠিক পরামর্শ দেওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হাওরাঞ্চলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সম্প্রতি গরম ঝড়ো হাওয়ায় হাওরাঞ্চলে ৭ হাজার ৪ শত ৪৪ হেক্টর জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে। তারপরও আশা করছি, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হবে।

জেলা প্রশাসক কাজি মো. আব্দুর রহমান জানান, ইতিমধ্যেই হাওরাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকার কৃষকরা নির্বিঘ্নে তাদের একমাত্র ফসল ভালোভাবেই ঘরে তুলতে পেরেছেন। যা কিছু বাকী আছে আগামী কয়েক সপ্তাহ আবহাওয়া এমন ফেবার করলে এ অঞ্চলে কৃষকদের ফসল কাটার কোনো দুশ্চিন্তা থাকবে না। 



সাতদিনের সেরা