পিরোজপুরের নেছারাবাদে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় আহত দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আফসানার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি জানা যায়।
গুরুতর আহত আফসানা ও তার স্বামী মো. আলী আকবর বর্তমানে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজাবাড়ী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে অনিকসহ প্রতিবেশী কয়েকজন আলী আকবরের ওপর হামলা চালান। এসময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অন্তঃসত্ত্বা আফসানাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আফসানার বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দম্পতিকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পথে ইন্দেরহাট বাজার এলাকায় তাদের ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
পরিবারের দাবি, রবিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, আফসানার গর্ভের সন্তান আর বেঁচে নেই। তাদের অভিযোগ, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি।
হামলার কারণেই মেয়ের গর্ভপাত হয়েছে বলে অভিযোগ করে বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, তার জামাতা আলী আকবর বর্তমানে কিছুটা শঙ্কামুক্ত থাকলেও আফসানার শারীরিক অবস্থা এখনো উদ্বেগজনক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অনিক জানান, তিনি কাউকে মারধর করেননি। তার দাবি, উল্টো তার বাবা-মাকে মারধর করা হয়েছে। একইভাবে আফসানা ও আলী আকবরকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চান মিয়া ও রওসোনারা।
নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, ‘এ ঘটনায় শহিদুল ইসলাম একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। তখন গর্ভপাতের বিষয়ে কোনো তথ্য জানা যায়নি। চিকিৎসকের সনদ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র জমা দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাদের দেওয়া ডায়েরি আদালতে পাঠানো হয়েছে।’