মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ছয় সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এতে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের হবিগঞ্জ সড়কে একটি সিএনজি পার্কিংকে কেন্দ্র করে প্রথমে মাইক্রো বাসের এক চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। এ নিয়ে সিএনজি ও মাইক্রো বাস শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষের সময় চৌমুহনা, স্টেশন রোড ও পেট্রল পাম্প এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতান বন্ধ হয়ে যায়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপে বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে, দায়িত্ব পালনকালে ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় এক পক্ষ সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।
সিএনজি শ্রমিকদের অভিযোগ, মাইক্রো বাস শ্রমিকরা তাদের স্ট্যান্ডে গিয়ে হামলা চালালে তারা প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে মাইক্রো বাস শ্রমিকদের দাবি, তাদের এক শ্রমিককে মারধরের জেরে উত্তেজনা ছড়ায়।
সংঘর্ষ চলাকালে স্কুল-কলেজ থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকেন। পরে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের সদস্য আমজাদ হোসেন বাচ্চু, সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহির। এ ছাড়া নুর মোহাম্মদ সাগর, এস কে দাস সুমন ও শেখ জসিম শ্রমিকদের ইট-পাটকেলে আহত হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল সিএনজি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘খবর পেয়ে স্ট্যান্ডে রিকশা থেকে নামতেই আমার সামনে এক সিএনজি শ্রমিকনেতাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে লাইট্রেস গাড়ির ড্রাইভার। এ সময় আরো ৪-৫ জন শ্রমিক দৌড়ে এসে আমাদের স্ট্যান্ডে এসে লাটিসোঁটা নিয়ে আমাদের মাথার ওপর মারধর শুরু করে। মারধরের সময় উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আলী ও ড্রাইভার দুলালসহ অনেকে।
তিনি আরো বলেন, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের মধ্যে ওভারটেক করাকে কেন্দ্র করে গাড়ি দুটির চালকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, ওসি জহিরুল ইসলাম মুন্না, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক নেতারা হাসপাতালে আহতদের খোঁজ নেন এবং পরে শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা নিন্দনীয়। দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মানুষ যখন উত্তেজিত হয়ে যায়, শয়তান তখন তার হিতাহিত জ্ঞান লোপ করে ফেলে। এই কারণে অনেকে তার সীমা লঙ্ঘন করে। আমরা বিষয়টি সুন্দরভাবে সমাধান করে দেব। কারণ যারা মেরেছে, মার খেয়েছে সবই আমাদের, আমরা এক পরিবারের লোক। সাংবাদিকরাও আমার ভাই।’
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।