• ই-পেপার

৪ পুলিশ সদস্য আহত

যুবককে বিলের পানিতে চুবিয়ে হত্যা!

সংযোগ সড়ক হয়নি, বাঁশে চড়ে সেতু পার

ঠিকাদারের গাফিলতির অভিযোগ দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবি

প্রবীর সাহা, পাবনা
সংযোগ সড়ক হয়নি, বাঁশে চড়ে সেতু পার
সেতু নির্মাণ করা হয়েছে দেড় বছর আগে। এরপর কাজ বন্ধ থাকায় হয়নি সংযোগ সড়ক। তাই দুই প্রান্তে বাঁশ বসিয়ে সেতু পার হয় এলাকাবাসী। সোমবার পাবনার ফরিদপুরের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে। ছবি: কালের কণ্ঠ

গার্ডার সেতুটি নির্মাণ করা হয় দেড় বছর আগে। এরপর কাজ বন্ধ থাকায় হয়নি সংযোগ সড়ক। সম্পন্ন করা হয়নি সুরক্ষা দেয়াল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজও। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার বিএলবাড়ী ইউনিয়নের দেওভোগ-দহপাড়া গ্রামে নির্মাণ করা গার্ডার সেতুটি। 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)'র কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৮ নভেম্বর এক কোটি ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৯৫ টাকার এ প্রকল্পটির মেয়াদ  থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলতিতে নির্ধারিত সময়ে কেবল সেতুর কাজ শেষ হয়। পরে সংযোগ সড়ক, সুরক্ষা দেয়ালসহ প্রয়োজনীয় কাজের জন্য চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে সেই মেয়াদেও নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে দেড় বছর ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। 

রবিবার (২০ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির  দুই প্রান্ত জলমগ্ন। সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশ ব্যবহার করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছে এলাকাবাসী।  

স্থানীয়রা জানায়, সেতুটির পূর্ব পাশে দহপাড়া জামে মসজিদ, আর পশ্চিম পাশে দহপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে প্রতিদিন এলাকার বাসিন্দাদের  ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও কৃষকদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বারবার আশ্বাস ছাড়া দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সেতুর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সংযোগ সড়ক ও সুরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হোক। একইসঙ্গে কেন দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অসমাপ্ত রয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান প্রামানিক বলেন, ‘দেড় বছর হলো ব্রিজটি হয়েছে। এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক হয়নি। আমরা ব্রিজের সঙ্গে বাঁশ লাগিয়ে পারাপার হচ্ছি। কিন্তু এটা ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।তাই প্রশাসনের কাছে ব্রিজটির পুরোপুরি শেষ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।’ 

দহপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি দেওভোগ থেকে আসি দওপাড়া মসজিদে ইমামতি করতে। কিন্তু প্রতিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই কাদার মধ্যে আমাকে আসতে হয়। অনেকে এই কষ্টের জন্য মসজিদে আসতে চায় না। বিষয়টি খুবই অমানবিক।’ 

আরেক বাসিন্দা আব্দুল লতিফ মাস্টার বলেন, ‘সেতুটি নিয়ে আমরা অনেক হতাশায় আছি। আমাদের একটাই দাবি,  সেতুটির পরিপূর্ণ সংযোগ সড়ক চাই।’

ফরিদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মানিকুজ্জামান বলেন, ‘ঠিকাদারের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’ 

এ ব্যাপারে ঠিকাদার তানভীর আহম্মেদ সাগর বলেন, ‘বালুর অভাবে কাজ করাতে পারছি না। আশা করি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।’ 

ফরিদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইমামা বানিন বলেন, ‘ঠিকাদারকে সংযোগ সড়কসহ কাজ শেষ করতে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঠিকমতো কাজ শেষ না হলে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হবে না।’

শাবিপ্রবির ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাবিপ্রবির ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে অশালীন প্রস্তাব ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মানববন্ধনে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী খলিলুর রহমান চাঁদ বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে যে নম্বর থেকে কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেটির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ‘সাস্ট আপডেট’ পেজের অ্যাডমিনদেরও বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহি করতে হবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জিডিতে উল্লেখ করেন, ‘সাস্ট আপডেট’ নামের একটি ফেসবুক পেজে টিউশনের বিজ্ঞপ্তি দেখে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে পেজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধে নিজের মোবাইল নম্বর দেন।

জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৪ জুন রাত ৮টা ১ মিনিটে একটি নম্বর থেকে তার ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। প্রথমে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হলেও পরে ওই নম্বর থেকে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা বলা হয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ওই নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে ‘সাস্ট আপডেট’ পেজের অ্যাডমিন রাহিন ইসলাম বলেন, টিউশনের পোস্টে অনেকে মন্তব্য করেন এবং কেউ সেখান থেকে নম্বর সংগ্রহ করলে এর দায়ভার তাদের নয়। তারা ব্যক্তিগতভাবে কারো কাছ থেকে নম্বর নেননি বা দিতে বলেননি।

তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিষয়টি জানানোর পর তিনি নিজে এর প্রতিবাদ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

সিলেটে হামের উপসর্গে ৫ দিনে ১১ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটে হামের উপসর্গে ৫ দিনে ১১ শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে গত পাঁচ দিনে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৭ জনে। দেশে হামে মৃত্যুর হিসাবে ঢাকার পরেই রয়েছে সিলেটের অবস্থান।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুরা হলো—মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাজীপুর গ্রামের বিবেকের মেয়ে আরাধ্যা (৫ মাস) এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার হরিকলা গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে তাইবা। তারা দুজনই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১০৭ জন। তাদের মধ্যে ১০৬ জনই শিশু। তবে এর মধ্যে চারজনের মৃত্যুর কারণ হাম রোগ হিসেবে নিশ্চিত হয়েছে।

জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সুনামগঞ্জে। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট জেলায় ৩৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ জন মারা গেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন রোগী ভর্তি রয়েছে।

নড়াইলে বিদ্যুৎস্পর্শে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে বিদ্যুৎস্পর্শে ইলেকট্রিক মিস্ত্রির মৃত্যু
মৃত রজিবুলের স্বজনদের আহাজারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

নড়াইলে বিদ্যুৎস্পর্শে রজিবুল ইসলাম (৩০) নামের এক ইলেকট্রনিক মিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  

মৃত রজিবুল ইসলাম নড়াইল সদর উপজেলার হবখালী ইউনিয়নের হৈধরখোলা গ্রামের নান্নু মোল্যার ছেলে। 

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই নড়াইল পৌর এলাকার ভওয়াখালী গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী খোকন শেখের বাড়িতে কাজ করতে যান রজিবুল। কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত রজিবুল এবং তার সহকর্মী ওমর ফারুক বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রজিবুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রজিবুল মারা যান। বুধবার (২২ জুলাই) রজিবুলের লাশ বাড়িতে আনেন তার স্বজনরা।

মৃত রজিবুলের বড় ভাই আশরাফুল বলেন, ‘খোকনের বাড়ির ভেতর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ রয়েছে, সেটি আমার ভাই জানত না। ভাই আমার খোকনের বাড়ি কাজ করতে গিয়ে গত শনিবার বিদ্যুৎস্পর্শে আহত হয়। আজ সে মারা গেল।’ 

নড়াইল বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু দারদা বলেন, বাড়ির মালিক এবং মিস্ত্রিকে সব ধরনের কাজ করতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তারা নিষেধ অমান্য করে ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করে। পরে তারা বিদ্যুতায়িত হয়। 

নড়াইল পৌরসভা প্রশাসক মো. নাজমুল হুদা বলেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণ করায় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুবককে বিলের পানিতে চুবিয়ে হত্যা! | কালের কণ্ঠ