• ই-পেপার

রাতে চোর সন্দেহে আটক, সকালে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ঘরের ভেতর ৭ ফুট গর্ত, ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
ঘরের ভেতর ৭ ফুট গর্ত, ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
ঘরের ভেতর ৭ ফুট গর্ত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে ঘরের ভেতর সাত ফুট গভীর গর্ত পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শয্যাশায়ী বাবা আব্দুস সালাম অভিযোগ করেছেন, তাকে মাটিচাপা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ছেলে ওই গর্ত খুঁড়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পরিবারের এক স্বজন ঘরের দরজা খুলে প্রায় পাঁচ ফুট প্রস্থ ও সাত ফুট গভীর একটি গর্ত দেখতে পান। এ সময় ঘরের পাশে মাটিভর্তি কয়েকটি বস্তা ও কাদামাটির স্তূপ পাওয়া যায়।

আব্দুস সালাম জানান, তিনি পাঁচ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কোমরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। বড় ছেলে মোস্তাকিম তার দেখাশোনা করতেন।

তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে মোস্তাকিম ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে যাতায়াত করছিলেন এবং বালতিতে করে মাটি বের করে আনছিলেন। এতে তার সন্দেহ হয়। পরে স্বজনকে দিয়ে ঘর খুলে গর্ত দেখতে পান।

স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী মোস্তাকিমকে আটক করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় অভিযোগ করবেন বলে তাকে নিয়ে যান।

তবে বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাকিমের বড় বোন সুরাইয়া বেগম। তিনি বলেন, তার ভাই মাদকাসক্ত হলেও বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গর্ত খুঁড়েছে—এ অভিযোগ সঠিক নয়। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

আব্দুস সালাম বলেন, তিনি বর্তমানে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা দাবি করেছেন।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুল করিম বলেন, ঘটনার বিষয়ে মৌখিকভাবে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জে আকস্মিক বন্যায় ২৫ গ্রাম প্লাবিত, পানিবন্দি অর্ধলক্ষাধিক মানুষ
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে।

টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে খোয়াই নদী। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাড়ে ৯টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। এতে একে একে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানির প্রবল স্রোতে নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে ২৫টি গ্রামের অন্তত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। গবাদি পশু ও আসবাব নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছে বন্যাদুর্গতরা। এর আগে একই দিন দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার অন্তর্গত খোয়াই নদীর রাধাপুুর বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে হাওরে প্রবেশ করতে থাকে পানি। 

এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজার সংলগ্ন এলাকায় নদীভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙন দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাস পাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনাও রয়েছে হুমকির মুখে। এ ছাড়া চরম ঝুঁকিতে রয়েছে খোয়াই নদীর মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধ। 

স্থানীয় বাসিন্দারা দিন-রাত বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন। তারা বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। একই অবস্থা সদর উপজেলা ভাদৈ বাঁধেরও। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারণে ভাঙনের ঝুঁকি বেড়েছে। 

জানা গেছে, খোয়াই নদীর কালীগঞ্জে বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যাওয়ার পর দ্রুত বেগে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাও, নতুন বাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণরামপুর, দক্ষিনচর, রামনগর ও বনদক্ষিণ এলাকাসহ অন্তত ২৫টি গ্রামে পানি ঢুকে পড়ে। এসব এলাকার অনেক পরিবারের ঘরে কোমর সমান পানি ওঠে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা গবাদি পশু, প্রয়োজনীয় আসবাব, কাপড়চোপড় ও মূল্যবান জিনিসপত্র ও গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে শুরু করেন। আবার কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে ও অনেকে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়েছে। এ ছাড়া শহরের কামড়াপুর, দানিয়ালপুর ও যশেরআব্দা এলাকায়ও বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করে। 

অপরদিকে শুক্রবার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি উঠে যায়। অনেক অংশ পানির নিচে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে সড়কটিতে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার কারণে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ‘পানি বৃদ্ধি পেলে জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে বৃষ্টিপাত কমে আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বন্যার পরিস্থিতি তদারকি করতে কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫ লক্ষ টাকা, ১০০টন চাউল ও ১৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।’ 

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ডা. জি এম সরফরাজ বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের আশ্রয়ন কেন্দ্রে উঠার জন্য বলা হয়েছে।’ 

মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন আবু হায়াত

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেলেন আবু হায়াত
ছবি : কালের কণ্ঠ

মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেয়েছেন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি আবু হায়াত। দাফন শেষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাকে আবারও জয়পুরহাট জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কারাগার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে আবু হায়াতের মা তাহেরা বেগম (৬৫) বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আবু হায়াত প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন।

প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (১০ জুলাই) তাকে দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তায় নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন তিনি।

জানা গেছে, আবু হায়াত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মামলায় জয়পুরহাট জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি একটি অস্ত্র মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুক্তারুল আলম জানান, প্যারোলের বিধান অনুযায়ী দুই ঘণ্টার জন্য আবু হায়াতকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জানাজা ও দাফন শেষে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জয়পুরহাট জেলা কারাগারের জেলার তোফায়েল আহম্মেদ খান জানান, অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু হায়াতের প্যারোলের আবেদন আইনানুগভাবে বিবেচনা করে তাকে জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

৭ শিয়াল রান্না করে রুটি দিয়ে খেল বরিশালের বাসিন্দারা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
৭ শিয়াল রান্না করে রুটি দিয়ে খেল বরিশালের বাসিন্দারা!
ছবি : এআইয়ের সহযোগিতায় নির্মিত।

বরিশাল নগরে সাতটি শিয়াল হত্যা করে রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় জবাই করা শিয়ালের ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাংস বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি পশুপ্রেমী ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দান খোলা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সাতটি শিয়াল হত্যা করা হয়। পরে সেগুলো রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়া হয়।

এদিকে ‘নাইম রাজ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে জবাই করা শিয়ালের ছবিসহ মাংস বিক্রির একটি পোস্ট দেওয়া হয়। যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেন, পশুপ্রেমী ও পরিবেশবাদীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

স্থানীয় পরিবেশবাদীরা জানান, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে শিয়াল হত্যা এবং মাংস বিক্রির প্রচারণার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। লোক পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাতে চোর সন্দেহে আটক, সকালে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার | কালের কণ্ঠ