• ই-পেপার

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, খুলছে নতুন দুয়ার

  • উদ্বোধন ২৭ জুলাই 
  • ব্যয় ৪১৮৯ কোটি

কিশোরকে তুলে নিয়ে খুনের পর অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
কিশোরকে তুলে নিয়ে খুনের পর অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আরেক যুবককে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ইরানের (৪৫) ঘর-বাড়িও জ্বালিয়ে দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরের নাম নাঈম (১৫) ও নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকার নুরুল ইসলাম ইরান একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার কিছু ইয়াবা তার এক সঙ্গী হারিয়ে ফেলেন। এসব খুঁজতে শুরু করলে সঙ্গী জানান, ইয়াবাগুলো এলাকার কিশোর নাঈম (১৫) ও এমরানের (২০) কাছে আছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইরান তার দলবল নিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে নিজবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নাঈম ও এমরানকে ব্যাপক মারধর করেন।

নাঈমকে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চামড়া ও নখ তুলে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নিজবাড়ির সামনে ফেলে যান ইরান। এছাড়া একই সময়ে এমরানকে মারতে থাকলে তার বাড়ির লোকজন তার কাছে এমরানের প্রাণ ভিক্ষা চান। এতে তিনি টাকা দাবি করলে তাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে এমরানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। সেই থেকে নাঈম ও এমরান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে নাঈম মারা যায়।

এদিকে, শনিবার বিকেল ৫টায় নাঈমের জানাযায় মাইকে গ্রামবাসী ঘোষণা করে যে এরকম অত্যাচার তারা মেনে নেবেন না। এতে পাল্টা হুমকি হিসেবে ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ইরানকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার ১০-১২টি আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে তার ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক জানান, নাঈম খুবই দরিদ্র পরিবারের ছেলে কিন্তু ভালো ছেলে। ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে গেলে তার এক সঙ্গী নিজে বাঁচতে বলেন যে—ইয়াবাগুলো নাঈম ও ইমরানের কাছে আছে। এতে তিনি নাঈম ও এমরানকে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার শুরু করেন। এক পর্যায়ে নাঈমের নখ, চামড়া তুলে নেওয়া হয়। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যান তারা।

এমরানের মা হাসিনা বেগম জানান, ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ইরানের হাত থেকে এমরানকে উদ্ধার করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরপর নাঈমের জানাযা শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইরানকে হত্যা করে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ইরানের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো এমন ১০-১২টি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী।’

এক দশক পর শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামের চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ

অনলাইন ডেস্ক
এক দশক পর শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামের চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ

এক দশক অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। সোমবার (২৬ জুলাই) প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার পাশাপাশি এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

সকাল ১০টায় আনোয়ারার প্রকল্প এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি। সরকার মনে করছে, এটি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষায়িত এই অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আরো বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, বর্তমানে পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়, অ্যাকসেসরিজ ও বিভিন্ন কাঁচামালের বড় অংশ চীন থেকে আমদানি করতে হয়। এসব উপকরণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হলে সরবরাহের সময় কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ বছর সময় ধরা হলেও প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে।

গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি আসে। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন বেজা ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পরে জানান, দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রক্রিয়া নতুন সরকারের প্রথম চার মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০টির বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, বেইজিং ও ডালিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈঠকের পর বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিইআইজেড প্রকল্পের অগ্রগতি সেই আগ্রহেরই প্রতিফলন।

কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধার দিক থেকে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করবে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম আরো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের মতে, শিল্পায়নের গতি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ডেভেলপার নিয়োগ, অর্থায়ন চূড়ান্তকরণ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ২০২২ সালে চীন সরকার সিআরবিসিকে প্রকল্পের ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করলে বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করে। এর মধ্যে চীন সরকার রেয়াতি ঋণের মাধ্যমে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা দেবে। অবশিষ্ট অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার।

সহায়ক অবকাঠামোর আওতায় নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, ৩৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু, ১ হাজার ১৮১ মিটার চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন সক্ষমতার বহুমুখী জেটি, গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন, জলাধার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীর।

এবার চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

অনলাইন ডেস্ক
এবার চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

এবার চট্টগ্রামের খুলশীতে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসীর ছুরিকাঘাতে ডবলমুরিং থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

তার নাম মোবিনুল ইসলাম (৩৬)। তিনি ডবলমুরিং থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অন্তত ১৭টি মামলার আসামি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি আলমগীরকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ডবলমুরিং থানার একটি বিশেষ দল আমবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় দুষ্কৃতকারীরা অতর্কিতভাবে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীর ছুরিকাঘাতে ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোবিনুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে রাত পৌনে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের মিনি অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) চিকিৎসাধীন।

চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক জানান, এসআই মবিনুল ইসলামের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করা হয়েছে। তিনি এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ছুরিকাঘাত করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত পুলিশের ওই কর্মকর্তার নাম মো. ওসমান গনি। তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ঢাকার ইমিগ্রেশন শাখায় কর্মরত।

চট্টগ্রামের পাহাড়ে ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের পাহাড়ে ৪ আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৩টি দেশীয় অস্ত্র ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কয়েক ধাপে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় দুটি একনলা বন্দুক, দুটি দেশীয় তৈরি এলজি, ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি দামাদা, একটি লোহার কাটার যন্ত্র এবং দুটি মোবাইল ফোন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—কেলিশহর ইউনিয়নের কিল্লাপাড়া এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৪) ও মো. মহসিন (৩৩)।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে জেলা ডিবির একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেলিশহরের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে কিল্লাপাড়ায় দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে একই এলাকার ছাতিভাঙ্গা আফছারের গাছবাগানে অভিযান চালিয়ে মাটির নিচে ও ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে রাখা চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি বা সংঘাতের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত রাখা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে অস্ত্র চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেলিশহরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীদের গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে আসছে। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিস্তীর্ণ বাগান ও পাহাড়ি জঙ্গলের কারণে অপরাধীরা এসব এলাকায় আত্মগোপন ও অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে পারে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান কঠোর। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের উৎস, এগুলো কারা ব্যবহার করত এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—সব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরো বলেন, জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্রের উৎস, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে।