• ই-পেপার

এবার চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা আহত

চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় মো. আকতার সর্দার (২৪) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ধর্ষণে অভিযুক্ত আকতার সর্দার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি এলাকার কাদের সর্দার বাড়ির সাত্তার সর্দারের ছেলে।

রবিবার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। রায়ের সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেণ। সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নগরের সদরঘাট থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ী সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। শিশুর বাবা একটি জুতার কারখানায় এবং মা একটি গার্মেন্টে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। অভিযুক্ত আকতার সর্দার প্রতিবেশী হওয়ায় প্রায়ই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং শিশুটিকে বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। ২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে গেলে বিকেল দিকে বাসায় একা থাকা শিশুটিকে ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত আকতার।

তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেন। পরে ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা বিষয়টি জানতে পারেন। তখন পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের আলামত দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানিয়ে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। 

এ ঘটনায় শিশুর বাবা মনির হোসেন সদরঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল চার্জগঠন করে বিচার শুরু হয়।

আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, খুলছে নতুন দুয়ার

উদ্বোধন ২৭ জুলাই  ব্যয় ৪১৮৯ কোটি

সুমন শাহ, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)
আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, খুলছে নতুন দুয়ার
চট্টগ্রামের আনোয়ারার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে ৭৮৩ একর জমিতে সরকার-টু-সরকার ব্যবস্থাপনায় গড়ে তোলা হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। সম্প্রতি তোলা। -সংগৃহীত

কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ে শিল্পায়নের যে স্বপ্ন দীর্ঘদিন ধরে লালিত হয়ে আসছিল, এবার তা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ জুলাই প্রতিক্ষিত ‘বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন)’-এর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সূচিত হতে যাচ্ছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আনোয়ারা এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম কৌশলগত শিল্প হাব হওয়ার পথে। প্রকল্পটি কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়; এটি এই অঞ্চলের কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রার মান বদলে দেওয়ার চাবিকাঠি।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানিয়েছে,আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থাপনায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি স্বাক্ষরের পর মূল অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হবে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় বৈদেশিক অর্থায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে এক হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, এক হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতার পানি সংরক্ষণাগার, ৪.২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন, ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, দৈনিক ৬০ টন সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার বাউন্ডারি ওয়াল এবং দুটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত এক লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব গড়ে উঠবে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আনোয়ারা স্বাধীন চেতনার প্রজন্ম ফাউন্ডেশনের সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘আনোয়ারা হলো দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশমুখ। আনোয়ারা উন্নত হলে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার জেলায় তার প্রভাব পড়বে। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ফলে কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার যেমন বাড়বে,  তেমন আনোয়ারা তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে ‘

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম এমপি বলেন, ‘আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার বিষয়টি এই এলাকার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে। সর্বপরি দেশের উন্নয়ন হবে।’ 

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

কিশোরকে তুলে নিয়ে খুনের পর অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
কিশোরকে তুলে নিয়ে খুনের পর অভিযুক্তকে পিটিয়ে হত্যা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর ওই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আরেক যুবককে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ইরানের (৪৫) ঘর-বাড়িও জ্বালিয়ে দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরের নাম নাঈম (১৫) ও নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকার নুরুল ইসলাম ইরান একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার কিছু ইয়াবা তার এক সঙ্গী হারিয়ে ফেলেন। এসব খুঁজতে শুরু করলে সঙ্গী জানান, ইয়াবাগুলো এলাকার কিশোর নাঈম (১৫) ও এমরানের (২০) কাছে আছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইরান তার দলবল নিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে নিজবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নাঈম ও এমরানকে ব্যাপক মারধর করেন।

নাঈমকে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চামড়া ও নখ তুলে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নিজবাড়ির সামনে ফেলে যান ইরান। এছাড়া একই সময়ে এমরানকে মারতে থাকলে তার বাড়ির লোকজন তার কাছে এমরানের প্রাণ ভিক্ষা চান। এতে তিনি টাকা দাবি করলে তাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে এমরানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। সেই থেকে নাঈম ও এমরান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে নাঈম মারা যায়।

এদিকে, শনিবার বিকেল ৫টায় নাঈমের জানাযায় মাইকে গ্রামবাসী ঘোষণা করে যে এরকম অত্যাচার তারা মেনে নেবেন না। এতে পাল্টা হুমকি হিসেবে ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ইরানকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার ১০-১২টি আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে তার ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।

নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক জানান, নাঈম খুবই দরিদ্র পরিবারের ছেলে কিন্তু ভালো ছেলে। ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে গেলে তার এক সঙ্গী নিজে বাঁচতে বলেন যে—ইয়াবাগুলো নাঈম ও ইমরানের কাছে আছে। এতে তিনি নাঈম ও এমরানকে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার শুরু করেন। এক পর্যায়ে নাঈমের নখ, চামড়া তুলে নেওয়া হয়। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যান তারা।

এমরানের মা হাসিনা বেগম জানান, ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ইরানের হাত থেকে এমরানকে উদ্ধার করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরপর নাঈমের জানাযা শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইরানকে হত্যা করে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ইরানের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো এমন ১০-১২টি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী।’

এক দশক পর শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামের চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ

অনলাইন ডেস্ক
এক দশক পর শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামের চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণকাজ

এক দশক অপেক্ষার পর অবশেষে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুল আলোচিত চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে। সোমবার (২৬ জুলাই) প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বাস্তবায়ন কার্যক্রম।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসার পাশাপাশি এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এক লাখের বেশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

সকাল ১০টায় আনোয়ারার প্রকল্প এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় প্রায় ৮০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি। সরকার মনে করছে, এটি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের ভিত্তি সম্প্রসারণ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষায়িত এই অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরো শক্তিশালী করবে। তাঁর মতে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আরো বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, বর্তমানে পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাপড়, অ্যাকসেসরিজ ও বিভিন্ন কাঁচামালের বড় অংশ চীন থেকে আমদানি করতে হয়। এসব উপকরণ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হলে সরবরাহের সময় কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।

বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ বছর সময় ধরা হলেও প্রথম তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে।

গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি আসে। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন বেজা ও চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় করা হয়।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পরে জানান, দীর্ঘদিন আটকে থাকা প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় প্রায় সব প্রক্রিয়া নতুন সরকারের প্রথম চার মাসেই সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০টির বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান এ অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূতের ভাষ্য, বেইজিং ও ডালিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বৈঠকের পর বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সিইআইজেড প্রকল্পের অগ্রগতি সেই আগ্রহেরই প্রতিফলন।

কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধার দিক থেকে কৌশলগত গুরুত্ব বহন করবে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম আরো সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারের মতে, শিল্পায়নের গতি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সমঝোতা স্মারক সই হয়। ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ডেভেলপার নিয়োগ, অর্থায়ন চূড়ান্তকরণ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন হয়নি। পরে ২০২২ সালে চীন সরকার সিআরবিসিকে প্রকল্পের ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করলে বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে গত ১৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করে। এর মধ্যে চীন সরকার রেয়াতি ঋণের মাধ্যমে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা দেবে। অবশিষ্ট অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার।

সহায়ক অবকাঠামোর আওতায় নির্মাণ করা হবে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি সংযোগ সড়ক, ৩৩০ মিটার দীর্ঘ সেতু, ১ হাজার ১৮১ মিটার চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন সক্ষমতার বহুমুখী জেটি, গ্যাস সঞ্চালন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন, জলাধার এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানাপ্রাচীর।