• ই-পেপার

সন্দেহজনক লেনদেন ৭৪ শতাংশ বেড়েছে, ৯৫ শতাংশ‌ই ব্যাংকের মাধ্যমে

আজকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

বাজারে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান থাকার পরও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়ন করতে পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়ানো ও টাকার মান কমানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত রবিবার দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম গড় হিসেবে ১৩ পয়সা ও সর্বোচ্চ হিসেবে ১৫ পয়সা বেড়েছে। 

আন্তঃব্যাংকে দাম বাড়ার কারণে গ্রাহকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রেও ব্যাংকগুলো এর দাম বাড়িয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯০ পয়সা দরে আমদানি খাতে ডলার বিক্রি হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ দাম ছিল ১২৩ টাকা ৭৫ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল।

দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১৫ জুলাই ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা ০০ পয়সা
ইউরো : ১৪০ টাকা ৪৫ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৪৬ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ৭৮ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ১৫ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ২২ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৭ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ১৫ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৬৪ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৭২ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৬ টাকা ৬৬ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৪৪ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। তবে আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গত কয়েকদিনে ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, গত কয়েকদিন ডলারের সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা থাকলেও সেটি ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে। এ ছাড়া সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮৫ পয়সায়ও বিনিময় হচ্ছে। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা অস্বস্তিদায়ক।

মাসে ৩ বারের বেশি টাকা তুললে অতিরিক্ত চার্জ, ১৪ সেবায় নতুন ফির প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
মাসে ৩ বারের বেশি টাকা তুললে অতিরিক্ত চার্জ, ১৪ সেবায় নতুন ফির প্রস্তাব
ফাইল ছবি

মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংক থেকে টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১৪টি সেবায় চার্জ বসানো এবং বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন-এবিবি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দেওয়া এ প্রস্তাবে মাসে তিনবারের বেশি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করলে গুনতে হবে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। স্থগিত হয়ে যাওয়া ব্যাংক হিসাব সচলে ফি ৫০০ টাকা। ঋণ প্রক্রিয়ায় মাসুলও এক লাফে চার গুণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৪টি সেবায় নতুন ফি বসানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবিবি থেকে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আমানতকারীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ পড়ে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণ করে মুনাফা বাড়ানোরও আহ্বান বাংলাদেশ ব্যাংকের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের ওপর বাড়তি বিভিন্ন ধরনের ফি বা চার্জ আরোপ করে সেটা  সাধারণ মানুষকে ব্যাংকের প্রতি একটা অনিহা সৃষ্টি করবে। অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকবার চিন্তা করবে।

এদিকে ব্যাংকগুলো এটিকে ব্যাংকিং খাতের স্বাভাবিক চর্চা হিসেবে দেখছে। 

দেশের বাজারে আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি?

অনলাইন ডেস্ক
দেশের বাজারে আজ কত টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনার ভরি?

দেশের বাজারে সোনার নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস)।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। এর আগে, গত ১৩ জুলাই ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমল ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়নার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গয়নার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।

এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গয়নার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।

সোনার গয়নার মতো রুপার গয়নার দামও ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। 

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গয়নার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গয়নার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গয়নার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এলসি খোলার অনুমতি পেয়েছে শাইনপুকুর সিরামিকস

অনলাইন ডেস্ক
এলসি খোলার অনুমতি পেয়েছে শাইনপুকুর সিরামিকস

বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত ‘শাইনপুকুর সিরামিকস পিএলসি’-কে কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। কারখানার কার্যক্রম সচল রাখা ও কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১’-এর ১২১ ধারার আওতায় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

এর মাধ্যমে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত উক্ত আইনের ২৭(ক)(ক)(৩) ধারার প্রয়োগ এই কোম্পানির ক্ষেত্রে স্থগিত করা হয়েছে। বেক্সিমকো গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকস ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় কাঁচামাল আমদানির জন্য ঋণপত্র খুলতে পারছিল না।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোচিত ধারায় ঋণখেলাপিদের নতুন ঋণ সুবিধা গ্রহণ বা আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আইনে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলেও ঋণপত্র খোলার জন্য কঠিন শর্ত পরিপালন করতে হবে কোম্পানিটিকে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসি কেবল ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের বিপরীতে শাইনপুকুর সিরামিকসকে আমদানি এলসি খোলার অনুমতি দেবে; অর্থাৎ এলসি ইস্যু করার আগেই কোম্পানিটিকে আমদানিকৃত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য জমা দিতে হবে।

এই সুবিধাটি শুধু উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখা এবং কর্মীদের কর্মসংস্থান রক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঋণ প্রদানকারী ব্যাংকের স্বার্থ সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু শর্তও আরোপ করেছে। এতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, শাইনপুকুর সিরামিকসের কার্যক্রম থেকে অর্জিত সমুদয় অর্থ একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করতে হবে এবং সেখান থেকে আনুপাতিক হারে নিয়মিতভাবে সোনালী ব্যাংকের বকেয়া পাওনা আদায় করা হবে।

সার্কুলারে আরো স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই ঋণ সুবিধার কারণে উদ্ভূত কোনো আর্থিক দায় সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক বহন করবে না।