• ই-পেপার

১৮ বারের মতো পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত

অসদাচরণের অভিযোগ

চাকরি হারালেন হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাকরি হারালেন হাইকোর্টের সহকারী রেজিস্ট্রার
হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়া।

প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে কুৎসা রটানো এবং সুপ্রিম কোর্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে।গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুলস, ১৯৮৩-এর ২(৪) বিধি ৩(বি) অনুযায়ী আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ৪(১)(জি) বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইব্রাহীম আলম ভূইয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।  

এর আগে গত ৬ মে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইব্রাহীম আলম ভূঁইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘হাইকোর্ট বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার (দেওয়ানি-১) ইব্রাহীম আলম ভূইয়া ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট, প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের সম্পর্কে অগ্রহণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

এ ছাড়া তিনি ব্যক্তিস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারীদের ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান, প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিদের নামে মিথ্যা ও অসত্য কুৎসা প্রচারের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের বৈধ আদেশ পালন না করতে অন্য কর্মচারীদের ইন্ধন দিয়ে অফিসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট) এমপ্লয়িজ (শৃঙ্খলা ও আপিল) রুল ১৯৮৩-এর ২(৪) বিধি ৩ (বি) মোতাবেক গুরুতর অসদাচরণ ও অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থী। এই অভিযোগ বর্ণিত বিধির ৪ (১) মোতাবেক অপরাধ। যার সর্বোচ্চ শাস্তি চাকরি হতে বরখাস্ত করা।’

জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা : ছাত্রী বর্ষাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক
জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা : ছাত্রী বর্ষাসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
জোবায়েদ হোসাইন। ছবি : সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিন জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।  

বংশাল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় চার্জশিট জমা দেন। পুলিশের ভাষ্য, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী।

চার্জশিটে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

চার্জশিট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ঘটনায় এক দিন পর জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। 

মামলার প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।

চার্জশিটে উঠে এসেছে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না, বরং এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এ ছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, চার্জশিটটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। সেখান থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চার্জশিটটি পর্যালোচনা করছেন। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করে নথিভুক্ত করা হবে। চার্জশিটে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সচিব জিয়াউল আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সচিব জিয়াউল আলম
সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর কাফরুল থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।

আদালতে দাখিল করা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় এন এম জিয়াউল আলমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন। তদন্তের প্রয়োজনে পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে বিআরটিএ কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন মাহবুব হাসান মামুন (৩৪)। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহত মাহবুব হাসান মামুনের স্ত্রী রাজধানীর কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের মামলায় এস কে সুরের বিরুদ্ধে রায় ২৮ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুদকের মামলায় এস কে সুরের বিরুদ্ধে রায় ২৮ জুলাই

সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ দিন নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. দেওয়ান আশিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে এস কে সুর চৌধুরী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী আদালতের আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন। পরে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এরপর ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর আদালত এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচারকালে সাতজন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।