• ই-পেপার

হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সচিব জিয়াউল আলম

১৮ বারের মতো পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ বারের মতো পেছাল হাদি হত্যা মামলার তদন্ত
সংগৃহীত ছবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৮ বারের মতো পিছিয়ে আগামী ২০ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রোর (পূর্ব) সহকারী পুলিশ সুপার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর কাদির ভূঁঞা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ দিন ধার্য করেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত ৬ জানুয়ারি  অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট হয়নি ইনকিলাব মঞ্চ।

গত ১২ জানুয়ারি মামলাটি শুনানির জন্য ছিল। আবদুল্লাহ আল জাবের সেদিন অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য দুই দিন সময় চান। আদালত তা মঞ্জুর করে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করেন।‎

ওই দিন ডিবি পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

‎জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর পর গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান আততায়ী।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।

অভিযোগপত্রে উল্লেখিত আসামিরা হলেন—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭) ও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)। তাদের মধ্যে ফয়সাল করিমসহ শেষের পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই’ হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এ ছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ‘বাধাগ্রস্ত করতে’ এবং ভোটারদের মধ্যে ‘ভয়ভীতি তৈরি করতেই’ আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করে বলে অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়।

দুদকের মামলায় এস কে সুরের বিরুদ্ধে রায় ২৮ জুলাই

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুদকের মামলায় এস কে সুরের বিরুদ্ধে রায় ২৮ জুলাই

সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ দিন নির্ধারণ করেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. দেওয়ান আশিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আয়বহির্ভূত সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে এস কে সুর চৌধুরী এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী আদালতের আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য তাকে নোটিশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলেও তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় মামলা করেন। পরে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এরপর ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর আদালত এস কে সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার বিচারকালে সাতজন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনেরই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা : বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা : বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম
বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।

বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ‘জনগণের আস্থা’। আর এই আস্থা রক্ষা করাই বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মনে করেন সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকের আসন থেকে অবসরে যাওয়া বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। আজ মঙ্গলবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সংবর্ধনা পাওয়ার পর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আজ বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, কিন্তু ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়। সংবিধানের প্রতি আমার আনুগত্য, আইনের শাসনের প্রতি আমার বিশ্বাস এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রের প্রতি আমার অঙ্গীকার আজীবন অক্ষুণ্ণ থাকবে।’

সুপ্রিম কোর্টে দুই দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে এই বিচারপতি বলেন, ‘বিচার বিভাগের শক্তি এককভাবে কোনো বিচারক বা কোনো আইনজীবীর শক্তি নয়। বিচার বিভাগ আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। তাই ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের কল্যাণে বার ও বেঞ্চ একসঙ্গে কাজ করবে, এই প্রত্যাশা করি।’

অবসর গ্রহণকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা উল্লেখ করে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বিচারকের পদ থেকে অবসর নেওয়া যায়, কিন্তু ন্যায়বিচারের আদর্শ থেকে নয়। যত দিন সামর্থ্য থাকবে, তত দিন দেশের কল্যাণে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের উন্নয়নে আমার অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করব।’

বিচার ব্যবস্থাকে আরো দ্রুত ও কার্যকর করার তাগাদা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে বিচার বিভাগকে আরো দক্ষ, আরো আধুনিক এবং আরো সেবামুখী হতে হবে। বিচার শুধু প্রতিষ্ঠিত হলেই যথেষ্ট নয়; মানুষকেও তা দেখতে হবে। বিশ্বাস করতে হবে যে বিচার হয়েছে। বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা। আর এই আস্থা রক্ষা করাই বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বিচক্ষণভাবে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিচার বিভাগের দক্ষতা বাড়াবে, মানুষের ভোগান্তি কমাবে এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরো সহজ করবে। এর ফলে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতাও আরো বাড়বে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, আইনজ্ঞ আলেকজান্ডার হ্যামিল্টনকে উদ্বৃত করে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বিচার বিভাগের প্রকৃত শক্তি বলপ্রয়োগে নয়; বিচার বিভাগের শক্তি নিহিত থাকে বিচারবোধ, স্বাধীনতা এবং জনগণের আস্থায়।’

‘সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার একটি দলিল নয়’ মন্তব্য করে এই বিচারপতি আরো বলেন, ‘এটি আমাদের স্বাধীনতার চেতনা, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার। বিচার বিভাগের দায়িত্ব সেই অঙ্গীকারকে সমুন্নত রাখা।’

সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে একজন বিচারক পদের মেয়াদ ৬৭ বছর পর্যন্ত। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের জন্ম ১৯৫৯ সালের ১৫ জুলাই। সে হিসাবে গতকাল ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। এ উপলক্ষে তাঁকে ‘বিদায় সংবর্ধনা’ দেয় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। আপিল বিভাগের ১ নম্বর বিচার কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের জীবন বৃত্তান্ত ও কর্মজীবনের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৩ সালে জেলা আদালত ও ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন মো. আশফাকুল ইসলাম।

২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তাঁর নিয়োগ স্থায়ী করা হয়। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।

হত্যাচেষ্টা মামলায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি রাজার জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যাচেষ্টা মামলায় মোহাম্মদপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি রাজার জামিন
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় নবী আলম নামের এক ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘পিচ্চি রাজার’ জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার ১৯তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক মো. মমিনুল ইসলাম এই আদেশ দেন। 

সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ সহকারী তাইজুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বাদী ও আসামির মধ্যে আপস -মীমাংসা হওয়ায় আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছেন। তবে আসামির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় তিনি কারাগারে মুক্ত হতে পারবেন না।’ 

মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় চলাচল করার সময় ভুক্তভোগী নবী আলমের স্ত্রী মিষ্টি বেগমকে আসামিরা কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে নবী আলম ও তার স্বজনরা মোহাম্মদপুর থানাধীন জেনেভা ক্যাম্পের একটি দোকানের সামনে গিয়ে এই বিষয়ে জানতে চান। এ সময় আসামিরা নিজেদের প্রভাবশালী উল্লেখ করে তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কাউকে জবাবদিহি করতে পারবেন না বলে জানান। এক পর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে আসামিরা হামলা চালান।

আরো বলা হয়, প্রধান আসামি পিচ্চি রাজা ধারালো সামুরাই দিয়ে তার ছোট ভাই নবী আলমের মাথায় কোপ দেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ছাড়া হামলায় টিপু নামে আরো একজনের কপালে এবং প্রতিবেশী সজিবের চোখের ভ্রুর ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। ওই সময় আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে ফেকু নামের আরেক ব্যক্তিকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ওই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই মোহাম্মদ সেন্টু বাদী হয়ে মামলাটি করেন। 

উল্লেখ্য, গত ২০ মে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাজা বাদশা ওরফে পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।

পুলিশ জানায়, পিচ্চি রাজার বিরুদ্ধে ৩টি হত্যা, হত্যাচেষ্টা, মাদক, বিস্ফোরকসহ মোট ২৯টি মামলা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে জেনেভা ক্যাম্প ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বের হয়ে পিচ্চি রাজা আত্মগোপন করে ছিলেন। গত ২০ মে নেপাল থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করার সময়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।