প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত আগামী ১৯ আগস্ট মামলার আসামিদের হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন ধানমণ্ডি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমি।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন মামলার বাদী মজুমদার আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নেওয়া হয়। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী আফজাল হোসেন মৃধা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৪ সালে ভুক্তভোগীর ভাই মজুমদার আরিফুর রহমান আদালতে মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ গত ২১ মে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।
সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হুমকি ও অপরাধে সহায়তার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, ব্যাবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এএসআর কম্পিউটারাইজড সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিক আতিকুর রহমান ও সাইদুর রহমান হাবিবের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওই বিরোধের জেরে আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকালে তার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে চেকে স্বাক্ষর নেওয়া এবং সমঝোতার নামে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছে সিআইডি।
তদন্তে মো. নাজমুল হক, মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাইদুর রহমান হাবিব ও মোকাররম হোসেন জিমির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৫০৬ ও ১০৯ ধারায় অপরাধের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।







