রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এ নিয়ে তাকে ১১ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।
এদিন আসামি নাঈমের উপস্থিতিতে শুনানি হয়। এ সময় তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি গ্রেপ্তার না দেখানোর প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন৷ একই সঙ্গে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধানমণ্ডি মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. তারিকুল ইসলাম তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য ১৫ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
নাইমের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, নাইমকে এ নিয়ে মোট ১১টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই ব্যক্তিকে একের পর এক মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে জামিনের সাংবিধানিক অধিকারকে কার্যত অর্থহীন করে তোলা হচ্ছে। একটি মামলায় আদালত থেকে জামিন পেলেই আরেকটি মামলায় পুনরায় শ্যোন অ্যারেস্টে বিচার নয়, অনির্দিষ্টকাল কারাগারে আটকে রাখার একটি অপকৌশল।
তিনি বলেন, আইনের শাসনের নামে এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়া ন্যায়বিচারের চেতনা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আজ প্রায় ২ বছর ধরে কারাগারে বন্দি আসামি আনোয়ার হোসেন নাইম। অতি অমানবিক ও নিষ্ঠুরতম আচরণ বলে মনে করি। আইন ও শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে। আজকে পরিবারের সদস্যরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ধানমণ্ডি মডেল থানাধীন এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন যুবক মো. সজিব ইসলাম। সে সময় আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আক্রমণ করলে গুলিবিদ্ধ হন সজীব। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ধানমণ্ডি মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়।






