• ই-পেপার

মার্কিন হামলায় ৭ ইরানি সেনা নিহত

দুই বছর ধরে চীনে মার্কিন বিজ্ঞানী আটক, নেপথ্যে কী

অনলাইন ডেস্ক
দুই বছর ধরে চীনে মার্কিন বিজ্ঞানী আটক, নেপথ্যে কী
সস্ত্রীক চেন ইউলিন | ছবি : রয়টার্স

প্রায় দুই বছর ধরে চীনে আটক রয়েছেন ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা পর্যবেক্ষণকারী এক মার্কিন ভূকম্পবিজ্ঞানী চেন ইউলিন। ৫৪ বছর বয়সী উত্তর কোরিয়ার এই সিসমোলজিস্টের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। 

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং তার পরিবারের দাবি, বিজ্ঞানী ইউলিন চেনকে অন্যায়ভাবে আটক রাখা হয়েছে এবং এখনো তার বিচার শুরু হয়নি।

মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেন, ভূকম্পবিজ্ঞানী (সিসমোলজিস্ট) ইউলিন চেনকে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে অন্যায়ভাবে আটক করে রেখেছে চীন।

পরিবার ও জিম্মি বিষয়ক অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘গ্লোবাল রিচ’ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে বেইজিংয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন ইউলিন। বেইজিং তাকে মুক্তি দেওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখানোর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার।

ইউনিলিনের স্ত্রী এবং সহকর্মী রোং ইউফাং বলেন, তার স্বামী চীনা সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভুল এবং তার কাজের ধরনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

তিনি আরো জানান, ৬০০ দিনের বেশি সময় ধরে তিনি স্বামীর সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। প্রথম ১৩ মাস ইউলিনকে কোনো আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইউলিনের গবেষণার মূল বিষয় ছিল চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর কোরিয়া। পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ও ভূগর্ভস্থ পরীক্ষার জন্য দেশটির ওপর দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

তবে ইউলিনের কাজ বেইজিংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচির কোনো অংশ স্পর্শ করেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, চীন নতুন অস্ত্রভাণ্ডার তৈরি করছে এবং গোপনে পরীক্ষা চালিয়েছে। যদিও বেইজিং এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, বিচার বিভাগ আইন অনুযায়ী মামলাটি পরিচালনা করছে। ‘অন্যায়ভাবে আটকে রাখার’ মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। চীনে গুপ্তচরবৃত্তির সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুও হতে পারে।

চীনে জন্ম নেওয়া ইউলিন ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। এরপর থেকে তিনি বোস্টনের বাসিন্দা। মার্কিন সরকারের অর্থায়নে কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করা এই বিজ্ঞানী ভূকম্পন সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে পরমাণু পরীক্ষা শনাক্ত করার বিশেষজ্ঞ। তার গবেষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে চীন তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ করছে ‘গ্লোবাল রিচ’।

মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি বলেন, ‘ইউলিনের প্রতি বেইজিংয়ের এই আচরণ দুই দেশের অংশীদারিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে অন্য গবেষকরাও চীনে কাজ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।’

পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে খুঁজতে ৯ বছরে ১৮ কোটি রুপি ব্যয়!

অনলাইন ডেস্ক
পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে খুঁজতে ৯ বছরে ১৮ কোটি রুপি ব্যয়!
ছবি : রয়টার্স

প্রতারিত মানুষ কতটা বেপরোয়া হতে পারেন, তার প্রমাণ রাখলেন চীনের এক ব্যবসায়ী। ভালোবেসে বিয়ে করা স্ত্রী তার নগদ টাকা, সম্পত্তির দলিল, মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে পালিয়ে  যান। তার আগে বিয়ের পরপরই গাড়ি ব্রেক নষ্ট করে তাকে হত্যারও চেষ্টা চালান সেই নারী।

বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি লি পিং নামের সেই বিনিয়োগ ব্যবসায়ী। পালিয়ে যাওয়া স্ত্রীকে খুঁজে পেতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যয়বহুল এক অভিযান শুরু করেন তিনি। 

৯ বছর ধরে অভিযান চালিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত বের করেন সেই প্রতারককে। এতে তার ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি রুপি। ৫২ বছর বয়সী লি পিং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিষয়টি চীনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চীনা একটি নিউজ পোর্টাল জানিয়েছে, ১৫ মিনিটের ভিডিওতে ৬৯ হাজারেরও বেশি বেশি লাইক পড়েছে, মন্তব্য করেছে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লি জানিয়েছেন যে ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে তিনি ৭০ মিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি আয় উপার্জন করেছিলেন। ২০১৪ সালে একটি ব্যাবসায়িক ফোরামে অংশ নেওয়ার সময় তার সঙ্গে ঝাং শুদান নামের এক নারীর পরিচয় হয়, যিনি একটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ছিলেন। 

আলাপে জানতে পারেন, তারা দুজনেই চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশের হানঝংয়ের বাসিন্দা ছিলেন। পরিচয়ের এক পর্যায়ে ঝাং লির কাছে তার জীবনের বেদনার কাহিনি তুলে ধরেন। ঝাং দাবি করেন, তার বাবা-মা তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। এক দরিদ্র দম্পতির কাছে তিনি বেড়ে উঠেছেন।

ঝাং আরো দাবি করেন, নিজের চেষ্টায় পড়াশোনা করে তিনি ব্যাংকার হতে পেরেছেন। পরে লি বুঝতে পারেন, পরিচয়ের আগেই ঝাং তার আর্থিক সামর্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন। 

সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হলে লি ঝাং যে ব্যাংকে কাজ করতেন সেখানে ২০ মিলিয়ন ইউয়ান জমা রাখেন। যে বৃদ্ধ দম্পতি ঝাংকে আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের চিকিৎসার কথা বলে ঝাং প্রায়ই লির কাছ থেকে অর্থ ধার নিতেন। ২০১৫ সালের শুরুতে ঝাং জানায় তিনি লি’কে ভালোবাসেন। 

তিনি লির সন্তানের মা হওয়া, একসঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন দেখান। ঝাং লির আট বছর বয়সী মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ারও অঙ্গীকার করে। ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ঝাং দাবি করেন যে তিনি গর্ভবতী। পরের মাসে লি শেনঝেনে সাড়ে ৭ মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনে সেটি ঝাংয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এর কিছুদিন পরই তারা বিয়ে করেন। 

বিয়ের পর দিন লি তার এক বন্ধুর সঙ্গে গাড়ি চালিয়ে শেনঝেনে ফিরছিলেন। আর ঝাং ফিরছিলেন বিমানে। পথে গাড়ির ব্রেক বিকল হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। তখনও লি কোনো সন্দেহ কনেননি। স্ত্রী, সংসার আর অনাগত সন্তানের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন তিনি।

কয়েক দিন পর, ঝাং লির কাছে অনুরোধ জানান তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যেন ১০ মিলিয়ন ইউয়ান জমা দেওয়া হয়। ঝাং দাবি করে এতে তার পেশাগত উন্নতির পথ সহজ হবে। পুরো অর্থ না পারলেও লি ২ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ইউয়ান জমা করেন ঝাংয়ের অ্যাকাউন্টে। 

তার পরই হাওয়া হয়ে যান ঝাং। পরে পুলিশ জানতে পারে, ঝাং হংকং হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে গেছেন। লি দাবি করেন, যাওয়ার সময় ঝাং তার অর্থ, চারটি সম্পত্তির মালিকানার দলিল এবং মূল্যবান সব কাগজপত্র নিয়ে গেছেন। 

ভালোবাসার স্ত্রী এভাবে ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া লি খুব কষ্ট পেয়েছেন। পরে যখন জানতে পারেন, সব সম্পত্তি দখল করতে ঝাং এবং তার এক সহযোগী মিলে গাড়ির ব্রেক নষ্ট করে তাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তখন সেই কষ্ট আরো বাড়ে। 

লি তার ভিডিওতে বলেছেন, ‘তিনি যদি কেবল আমার টাকা আত্মসাৎ করতে চাইতেন, তবে আমি হয়তো এই বিষয়ে আর এগোতাম না। কিন্তু আমাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে তার আমার গাড়িটি নষ্ট করা উচিত হয়নি। তার পরিকল্পনা স্পষ্টতই ছিল আমার স্ত্রী হিসেবে আমার সব সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়া।’

ঝাংকে খুঁজে বের করতে মরিয়া লি তার হদিস পেতে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চীনা সামাজিক সংস্থা, গির্জা এবং মাতৃত্বকালীন ক্লিনিকে যোগাযোগ করেন। লি চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে আইনজীবী ও ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের পুলিশ অবশেষে ঝাং এবং তার সন্তানকে খুঁজে পায়। পরে একটি ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, সন্তানটি লির নয়। 

লি জানান, ঝাং আইনগতভাবে তখনও তার স্ত্রী থাকায় প্রাথমিকভাবে তার প্রতারণার মামলাটি থমকে গিয়েছিল। তবে শেনঝেনের একটি আদালত তাদের বিয়ে বাতিল করে এবং ঝাংয়ের নামে নিবন্ধিত চারটি সম্পত্তি লির কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। 

লি আরো দাবি করেন, ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত ঝাং-কে প্রতারণা, অবৈধ অভিবাসন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, শিশু অপহরণ এবং মানবপাচারসহ ২৩টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ৬৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এসব অপকর্মে ঝাংয়ের বেশ কয়েকজন সহযোগীও ছিল বলে দাবি করেন লি।

মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, যা বললেন আহমাদিনেজাদ

অনলাইন ডেস্ক
মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, যা বললেন আহমাদিনেজাদ
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ছবি : সংগৃহীত

সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল তার। মোসাদ তাকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এই দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছেন আহমাদিনেজাদ।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদুলু এজেন্সির খবরে বলা হয়, মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি তার জনমতকে বিভ্রান্ত করতে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিভাজন উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এমন মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আহমাদিনেজাদের দপ্তর।

বিবৃতিতে আহমাদিনেজাদ গৃহবন্দি থাকার বিষয়টিও অস্বীকার করে বলা হয়েছে, এ ধরনের দাবি অযৌক্তিক ও মনগড়া। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ প্রচারিত সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

এর আগে সোমবার ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোসাদ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতা করতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল এবং তাকে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখছিল। প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয় যে, সাবেক ইরানি এই প্রেসিডেন্ট গৃহবন্দি রয়েছেন।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে প্রাথমিক হামলার পর দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ ছিল এই পরিকল্পনা।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদকে বাসস্থান ও ভ্রমণের জন্য অর্থ প্রদান করেছে এবং ইসরায়েলি এজেন্টরা বিদেশে বেশ কয়েকবার তার সঙ্গে দেখা করেছে, যার মধ্যে বুদাপেস্ট সফরও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, এই প্রচেষ্টাটি ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরায়েলি সংঘাতের শুরুর দিনগুলোতে চূড়ান্ত রূপ নেয়, যখন ইসরায়েলি গোয়েন্দারা ইরানের সরকারকে উৎখাত করে আহমাদিনেজাদকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে তেহরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি ইসরায়েলি বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের কম্পাউন্ডকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যেখানে তার দেহরক্ষীদের ব্যবহৃত একটি ভবন এবং তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, চারজন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, হামলার পর একটি কালো পিউজো গাড়ি এসে সাবেক প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে একটি গোপন নিরাপদ বাড়িতে নিয়ে যায়।

অভিযানটির সঙ্গে পরিচিত আমেরিকান ও ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গাড়িটি চালাচ্ছিল মোসাদের সদস্যরা। গত সপ্তাহে, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী আহমাদিনেজাদ, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন। তিনি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

পাকিস্তান

বেলুচিস্তানের ৮৫% নিয়ন্ত্রণের দাবি, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চাইলেন বেলুচ নেতা

অনলাইন ডেস্ক
বেলুচিস্তানের ৮৫% নিয়ন্ত্রণের দাবি, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি চাইলেন বেলুচ নেতা
ছবি : রয়টার্স

বেলুচ আন্দোলনের নেতা মীর ইয়ার বেলুচ দাবি করেছেন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা এখন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বেলুচিস্তানকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

১৩ জুলাই তারিখের একটি চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মীর বেলুচ দাবি করেন, বেলুচিস্তান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, অঞ্চলটির জন্য একটি জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত তৈরি করা হয়েছে। ‘বেলুচি ফালুস’ নামে একটি মুদ্রাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসন ও নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

মীর বেলুচ আরো দাবি করেন, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বেলুচিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনা ও তামার খনি, গ্যাসক্ষেত্র এবং কয়লাখনি।

চিঠিতে আরো দাবি করা হয়েছে, সামরিক, নৌ, বিমান ও বেসামরিক সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বাহিনী বেলুচিস্তানের প্রশাসন পরিচালনা করছে। তাদের লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ অঞ্চল থেকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া।

মীর ইয়ার বেলুচ আরো জানান, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত অনেক বেলুচ ও পশতুন সদস্য চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, কথিত ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’কে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই রাষ্ট্র তার ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা উপকূল কোনো প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। তবে চিঠিতে করা এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পাকিস্তান সরকার বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত বেলুচিস্তানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। 

এ ছাড়া অঞ্চলটির ওপর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় কিন্তু তুলনামূলকভাবে কম জনবহুল প্রদেশ বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী সেখানে স্বাধীনতা বা আরো বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে।

তবে পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানের ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌম কর্তৃত্বের দাবি করে। ইসলামাবাদ বরাবরই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সেখানে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। এ পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বাধীন ‘বেলুচিস্তান প্রজাতন্ত্র’কে স্বীকৃতি দেয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে বেলুচিস্তান পাকিস্তানের অংশ হিসেবেই স্বীকৃত।