রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে জুন মাসে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানি অবকাঠামো, স্যাটেলাইট কেন্দ্রসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নানা স্থাপনায় অব্যাহত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। শুরুর দিকে বেশ সাফল্যও পেয়েছিল তারা। রাশিয়ার মতো তেল উৎপাদনকারী দেশেও তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। কিন্তু ইউক্রেনের জন্য ব্যাপারটা হয়ে যায় ভিমরুলের চাকে ঢিল দেওয়ার মতো।
আরো পড়ুন
স্থানীয় নির্বাচন : ২৭ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ
পুতিন ইউক্রেনের চাপে কাবু হওয়ার বান্দা নন। তীব্রভাবে পাল্টা হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এখন একদম তার শুরুর দিকের তীব্রতায় ফিরে গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত জুন মাসটিই ছিল ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাস। মৃত্যু, হামলা, আগুন, ধ্বংসস্তুপ যেন কিয়েভের নিত্যচিত্র। আর সাইরেন শুনলেই শেল্টারে আশ্রয় নেওয়া ছিল নাগরিকদের নিত্য রুটিন। শেল্টারে সবাই আশ্রয় নিতে পারেননি।
ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ার হামলায় জুন মাসে অন্তত ২৯৩ জন ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ফলে চলতি বছরের এ পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক মৃত্যুর সংখ্যা ১,৪০০ তে পৌঁছেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৭ ভাগ বেশি, আর ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তবে জুনের চেয়ে চলতি জুলাই মাস আরো ভয়ংকর হতে যাচ্ছে। জুলাই মাঝামাঝি সময়েই এ পর্যন্ত ২৪০ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। যুদ্ধের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে, জুলাই মাসে মৃত্যু আগের সব পরিসংখ্যানকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশন প্রধান ড্যানিয়েল বেল বলেন, জুনের পরিসংখ্যান ক্রমবর্ধমান বেসামরিক হতাহতের সাথে একটি উদ্বেগজনক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখায়, যা শক্তিশালী অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণে ঘটছে। এই অস্ত্রগুলো ঘনবসতিপূর্ণ শহর এলাকায় ব্যবহারের ফলে এর প্রভাব হয় মারাত্মক।
বেসামরিক মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে পর্যবেক্ষণ মিশন দনিপ্রো, ওদেসা এবং রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের আবাসিক ভবনগুলোতে দূরপাল্লার রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের হামলাকেই দায়ী করেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দূরপাল্লার অস্ত্রের কারণে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে ৬০ ভাগ বেড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ফ্রন্ট লাইনের সবচেয়ে কাছের এলাকাগুলোতে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু এবং আঘাতের বড় অংশের জন্য দায়ী ছিল স্বল্পপাল্লার ড্রোন। বেল বলেন, এই ড্রোনগুলো ফ্রন্ট লাইনের কাছাকাছি বসবাসকারী বেসামরিক নাগরিকদের জন্য যুদ্ধ পরিস্থিতি একেবারেই বদলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘অনেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা খাবার কেনাকাটা, কুকুর নিয়ে হাঁটা, সাইকেল চালানো, উঠানে কাজ করা বা নিরাপদ স্থানে যাওয়ার মতো সাধারণ দৈনন্দিন কাজগুলো করার সময়ও হামলার স্বীকার হয়েছেন।’
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ রাশিয়ান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছে। তারা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ইউরোপীয় মিত্রদের কাছে সাহায্য চেয়েছে।