• ই-পেপার

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে রাজধানীতে ২২৩৯ মামলা

নিবন্ধনের দাবিতে ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পদযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিবন্ধনের দাবিতে ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের পদযাত্রা

পেশাগত নিবন্ধন এবং সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগের দাবিতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ ও পদযাত্রা করেছেন ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা। তারা সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানান।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ এ কর্মসূচির আয়োজন করে। আয়োজকদের দাবি, এতে দেশের বিভিন্ন ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) ডেন্টাল অনুষদের শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রায় পাঁচ হাজার ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী এতে অংশ নেন। এছাড়া সংগঠনের কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত কর্মপরিধির আলোকে ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলর (বিএমডিসি) মাধ্যমে সীমিত পরিসরে পেশাগত নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্র-স্বীকৃত এই কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার নিজেই পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, ভর্তি, পরীক্ষা, ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান এবং সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ব্যবস্থা করেছে। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তাদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিধিও নির্ধারণ করে দিয়েছে। তবু তারা দীর্ঘদিন ধরে বিএমডিসির নিবন্ধন এবং নির্ধারিত কর্মপরিধির আওতায় সীমিত পরিসরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল বলেন, হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী বর্তমানে কর্মসংস্থানের সংকট, পেশাগত বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ ছাড়া কোর্সের নাম ও সিলেবাসের অসংগতির কারণে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কোর্সের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

বক্তারা আরো দাবি করেন, সমযোগ্যতাসম্পন্ন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টরা বিএমডিসি আইন, ২০১০-এর ১৫ ধারা ও পঞ্চম তফসিল অনুযায়ী নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া বিএমডিসি আইন, ১৯৮০-এর ১৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জীবিকার প্রয়োজনে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে এবং সেই নিবন্ধন এখনো নবায়ন করা হচ্ছে। অথচ রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীরা একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা তাদের মতে সংবিধানের ১৯, ২৬, ২৭ ও ৪০ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তারা সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে বিএমডিসি আইন, ২০১০-এর ৩৫ ধারার আওতায় তফসিল সংশোধন অথবা একই আইনের ৩৬ ধারার অধীনে ৪ বছর মেয়াদি ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।

৬ দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল

বিশেষ প্রতিনিধি
৬ দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল
ছবি : কালের কণ্ঠ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসে ছয় দফা দাবি নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছয়জন প্রতিনিধি। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবনের সামনে থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে রওনা দেন।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে ছয়জন প্রতিনিধিকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবি হলো–

১. দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যারা পুনরায় অংশ নিতে চায়, তাদের সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

২. যারা একই বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় দেবে, তাদের ক্ষেত্রে আগের ও পুনঃপরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য করতে হবে।

৩. প্রশ্নপত্রে থাকা ভুল প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দিতে হবে।

৪. চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল হওয়ার জন্য কিছু সময় দিয়ে এরপর পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৫. পূর্ব ঘোষণা ছাড়া প্রশ্নপত্রের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শিক্ষার্থীদের কাছে অপরিচিত ছিল। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নম্বর মূল্যায়ন করতে হবে।

৬. পরীক্ষা চলাকালে ‘সচেতন গার্ড’-এর নামে কিছু শিক্ষকের কঠোর ও বিভ্রান্তিকর আচরণ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা ভীত বা মানসিক চাপে না পড়ে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লং মার্চ ঘিরে সচিবালয়ে কড়া নিরাপত্তা

বিশেষ প্রতিনিধি
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের লং মার্চ ঘিরে সচিবালয়ে কড়া নিরাপত্তা
ছবি : কালের কণ্ঠ

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সচিবালয় অভিমুখে লং মার্চ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় সচিবালয়ের প্রতিটি প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ের ১ নম্বর, ২ নম্বর ও ৫ নম্বর গেট ঘুরে দেখা যায়, সাধারণ সময়ের তুলনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো কঠোর করা হয়েছে। প্রতিটি গেটে অতিরিক্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন। প্রবেশকারীদের পরিচয়পত্র যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়।

‎জানা গেছে, দুপুর দেড়টা থেকে নিলক্ষেত মোড়, সায়েন্সল্যাব মোড়, মিরপুর-১০, উত্তরা বিএনএস সেন্টারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে দেখা যায়।

‎শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রে প্রশ্নপত্র ভুল থাকা নিয়েও বিতর্ক ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হন পরীক্ষার্থীরা। ‎এরপর তারা ৮ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন। পরে সেটা তিন দফা দাবিতে পরিণত হয়। তাতে বলা হয়, উপযোগী পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে সম্পূর্ণ নম্বর দিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি বর্তমানে এক দফায় রূপ নিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।

শিক্ষা ভবনের সামনে নিরাপত্তা জোরদার

বিশেষ প্রতিনিধি
শিক্ষা ভবনের সামনে নিরাপত্তা জোরদার
ছবি : কালের কণ্ঠ

‎দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে চলমমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আজও আন্দোলনে নেমেছেন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরিক্ষার্থীরা। তাদের দেওয়া কর্মসূচি ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ শিক্ষা ভবন ও সচিবালয় ঘেরাও এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি ঘিরে শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

‎বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় শিক্ষা ভবন মোড়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়। একইভাবে সচিবালয়ের চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সচিবালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বসানো হয়েছে কড়া প্রহরা। সচিবালয়ে আগত দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। নিয়োজিত রয়েছে অতিরিক্ত সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী। সচিবালয়ের ভেতরেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে কর্তব্য পালন করছেন। 

‎জানা গেছে, দুপুর দেড়টা থেকে নিলক্ষেত মোড়, সায়েন্সল্যাব মোড়, মিরপুর-১০, উত্তরা বিএনএস সেন্টারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করতে দেখা যায়।

‎শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ‘ফার্মের মুরগি’ সম্বোধন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রে প্রশ্নপত্র ভুল থাকা নিয়েও বিতর্ক ওঠে। এতে ক্ষুব্ধ হন পরীক্ষার্থীরা।

‎এরপর তারা ৮ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন। পরে সেটা তিন দফা দাবিতে পরিণত হয়। তাতে বলা হয়, উপযোগী পরিবেশ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নে সম্পূর্ণ নম্বর দিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি বর্তমানে এক দফায় রূপ নিয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।