• ই-পেপার

জামালপুরে বন্যাদুর্গত ৫৫২ জনকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিল বিজিবি

বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ চবি ছাত্রদল নেতা হাসানের

চবি প্রতিনিধি
বাঁশখালীতে বন্যার্তদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ চবি ছাত্রদল নেতা হাসানের
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) আয়োজিত এ কার্যক্রমে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ।

এ সময় তিনি বলেন, ‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির ধারাবাহিক মানবিক কর্মসূচির অংশ। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

উপহারসামগ্রী বিতরণকালে চবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্কুলের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় ছাদ ধস, আহত ৬ শ্রমিক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
স্কুলের পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় ছাদ ধস, আহত ৬ শ্রমিক
ছবি: কালের কণ্ঠ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে নিলামে বিক্রি হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত ভবন ভাঙার সময় ছাদ ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এরমধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। 

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার ৭২ নং পূর্ব কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত শ্রমিকরা হলেন খুলনার কয়রা উপজেলার রানা আহম্মেদ (২৪), জয়নাল আবেদীন (৩৩), মো. জুবায়ের হোসেন (২০), মফিজুল ইসলাম (৩৫), ইদ্রিস আলী (৩৮) ও সাতক্ষীরার আশাশুনিয়া উপজেলার মো. আলাউদ্দিন (৪২)। 

স্থানীয়রা জানায়, ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা ভবন ভাঙার কাজ করার সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে। এতে ৬ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জিয়াউর রহমান বলেন, আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের সাতক্ষীরায় রেফার করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কালাম উল্লাহ জানান, ৬ জন শ্রমিক ভবন ভাঙার কাজ করছিলেন। এ সময় ছাদ ধসে তারা আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

শ্যামনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, ৭২ নম্বর পূর্ব কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি ২০০৬ সালে নির্মিত। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ২০২৩ সালে কর্তৃপক্ষ এটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে ভবনটি নিলামে তোলা হয়। গত ২৫ জুন ঠিকাদার সামছুর দোহা টুটুল ভবনটি নিলামে গ্রহণ করেন। সেই ভবন ভাঙার কাজ চলাকালেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত কমে সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাত কমে সিলেট বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

সিলেট বিভাগের চার জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। আরো ২দিন আগে থেকে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর এবার সুনামগঞ্জ জেলার নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে করে জেলাটির প্লাবিত এলাকাগুলোর পানি নেমে গেছে। এতে আপাতত বন্যার শঙ্কা কমেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণ বন্ধ থাকায় নদ-নদীর পানি কমছে। আগের দিন বিপৎসীমার ওপরে থাকা ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমে যাওয়ায় প্লাবিত হওয়া নিম্নাঞ্চলের পানি লোকালয় থেকে নেমে গেছে।

আমাদের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল কমে যাওয়ায় দুটি জেলাতেই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি কমায় নিম্নাঞ্চলগুলো থেকে পানি সরে গেছে। ফলে মানুষ বাসাবাড়িতে ফিরেছেন। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে সময় ব্যয় করছেন তারা।

সিলেটে গত সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে এসেছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সারাদিন খরতাপে পুড়েছে সিলেট। বৃষ্টিপাত কমায় ও পাহাড়ি ঢল কমে আসায় সিলেটের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিলেট জেলার ১০ পয়েন্টের সবকটিতে নদনদীর পানি অনেক কমেছে। ফলে আপাতত বন্যার শঙ্কা অনেকটাই নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ‘উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ভারী বৃষ্টিপাত কিছুটা কমেছে। ফলে সিলেটের সব নদ-নদীর পানির উচ্চতাও কমে এসেছে। ফলে বন্যার শঙ্কা আপাতত কমেছে।’

টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রীকে হত্যার দায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড
ছবি: কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এ রায় দেন। 

সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলেন টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাব্বির মিয়া (২১)।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সামিয়া ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। তখন সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর আসামি সাব্বির নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।

এ ঘটনায় পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার একদিন পর ৮ সেপ্টেম্বর সেই ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে সাব্বির স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ।

বিচার শেষে স্কুলছাত্রী সামিয়াকে হত্যার দায়ে আসামি সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালত। এ ছাড়া অপহরণের দায়ে আসামিকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টাসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলায় আসামিকে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন বিচারক।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।