• ই-পেপার

মেধাবৃত্তির স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের বড় সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে : কুবি উপাচার্য

শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, দিলেন আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা, দিলেন আলটিমেটাম
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে আজ রাত ১০টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখেন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ ছেড়ে যান।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে ধানমণ্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রাহাত আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। তাই আজকের মতো কর্মসূচি স্থগিত করছি।’

এক দফা দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। আজ রাত ১০টার মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে ‘লং মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

এর আগে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ দুপুর আড়াইটার দিকে একদল শিক্ষার্থী রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধ করেন। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করার পর ‘লং মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা সচিবালয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।

বিকাল ৪টার দিকে শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখোমুখি হন শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখানেই অবস্থান নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা কর্মসূচি পালন শেষে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইল  প্রতিনিধি
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের (ইঞ্জিনিয়ারিং/অনার্স/বি.ফার্ম) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে পৃথকভাবে এ অনুষ্ঠান করা হয়।

ওরিয়েন্টেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে যাতে তোমাদের শিক্ষা কার্যক্রম কেউ ব্যাহত করতে না পারে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম যেন ক্ষুন্ন না হয়, সেদিকে তোমরা খেয়াল রাখবে। এই প্রথম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউএনডিপি-এর সহযোগিতায় ১৮ জুলাই থেকে ২১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ৪ দিনব্যাপী নবীন শিক্ষার্থীদের গ্রুমিং ও কাউন্সেলিং সেশনের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। যা তোমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হবে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার , শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফজলুল করিম, প্রক্টর প্রফেসর ড. মনির মোর্শেদ এবং নিজ নিজ বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উলে­খ্য, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১৮টি বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে মোট ৯০৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে।

অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের শঙ্কায় হত্যা করা হয় জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদকে

জবি প্রতিনিধি
অন্তরঙ্গ ভিডিও ফাঁসের শঙ্কায় হত্যা করা হয় জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদকে
গত বছর পুরান ঢাকায় ছাত্রী পড়াতে গিয়ে খুন হওয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। আসামিরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী ও প্রেমিকা বার্জিস শাবনাম বর্ষা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। পুলিশের ভাষ্য, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান সহযোগী।

বংশাল থানার এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে ৫০ জন সাক্ষীর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফরেনসিক, ডিএনএ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নুরবক্স লেনের রৌশান ভিলা বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি। সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রী বর্ষার বাসার নিচতলায় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তিনতলার সিঁড়িতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ ঘটনায় এক দিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন।

তদন্তে উঠে আসে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না; বরং ১ মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। এ ছাড়া তদন্তে বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহিরের প্রেমের সম্পর্কের বিষয়ও উঠে এসেছে। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, ‘অভিযোগপত্রটি প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় জমা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযোগপত্রটি পর্যালোচনা করছেন বলে জানা গেছে। আগামীকাল (বুধবার) এটি জিআরওতে আসবে। এরপর বিচারকের কাছে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযোগপত্রে ডিএনএ রিপোর্ট মাহিরের সঙ্গে মিলেছে। সেখানে তার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রয়েছে। মাহিরের বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এক নম্বর আসামিসহ কেউই ছাড় পাবে না।’

বদলগাছীর গাবনা প্রাথমিক বিদ্যালয়

স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন হাঁটুপানি পেরোতে হয় ১৩২ শিক্ষার্থীর

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
স্কুলব্যাগ কাঁধে নিয়ে প্রতিদিন হাঁটুপানি পেরোতে হয় ১৩২ শিক্ষার্থীর
এভাবেই প্রতিদিন হাঁটু সমান পানি পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হয় নওগাঁর বদলগাছীর গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। ছবি : কালের কণ্ঠ।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্ষা এলেই শিক্ষা যেন আর শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকে না; শুরু হয় সেখানে পৌঁছানোর লড়াই। হাঁটু সমান পানি পেরিয়ে, কাঁধে স্কুলব্যাগ আর হাতে জুতা নিয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে হয় ১৩২ জন শিক্ষার্থীকে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের একমাত্র যাতায়াতের পথ তলিয়ে যাওয়ায় শিশুদের এই দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের চিত্র।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৩২ শিক্ষার্থীর স্কুল থেকে হাঁটু পানি পেরিয়ে বাড়ি ফেরার চিত্র চোখে পরে। কারো জামা কাপড় ভেজা, কারো হাতে পায়ে কাদা। এটি কোনো দুর্গম হাওর বা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল নয়। উপজেলা সদর থেকে খুব বেশি দূরেও নয় বিদ্যালয়টি। অথচ শিক্ষার মৌলিক পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার কথা যেখানে, সেখানে বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে। ছোট ছোট শিশুদের অনেকেই বই-খাতা ভিজে যাওয়ার ভয়ে ব্যাগ মাথার ওপরে তুলে কিংবা কাঁধে ঝুলিয়ে পথ পাড়ি দেয়। জুতা হাতে নিয়েই পানির ভেতর দিয়ে হাঁটতে হয় তাদের।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ চললেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। প্রতিদিন পানি পেরিয়ে যাতায়াতের কারণে বই-খাতা ও পোশাক নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও। অনেক অভিভাবক ছোট শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

00

বিদ্যালয়ের শিক্ষক জানান, কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শুধু রাস্তা নয়, বিদ্যালয়ের পুকুর-সংলগ্ন একটি ভবনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, যথাসময়ে সংস্কার না হলে ভবনটি ধসে পরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি। অথচ এই পথ ব্যবহার করেন শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নন, আশপাশের গ্রামের মানুষও।

গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ধরে রাখতে শিক্ষার্থীরা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই স্কুলে আসছে। কিন্তু নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একটি বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে যদি প্রতিদিন হাঁটুসমান পানি পেরোতে হয়, তবে তা শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়, এটি শিক্ষা অবকাঠামোর দুর্বলতারও প্রতিচ্ছবি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সরজমিনে দেখেছি। শিশুরা খুব কষ্ট করছে, অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা ৩৪ টি বিদ্যালয়ের নতুন রাস্তা নির্মাণের চাহিদা ইউএনও অফিসে দিয়েছি। দ্রুত কাজ হওয়ার কথা।’

11

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ‘উপজেলায় অন্তত ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাতায়াতব্যবস্থায় সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতিও তার নজরে এসেছে। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাবনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩২ শিক্ষার্থীর প্রশ্ন এখন একটাই। শিক্ষার পথে এই জলাবদ্ধতার বাধা কবে দূর হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আর আশ্বাস নয়; দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।