• ই-পেপার

ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে শীর্ষে ভারত, বাংলাদেশ ৩৫তম

বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ও এর প্রয়োজনীয়তা।

লেনদেনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার রবিবার (২৪ মে, ২০২৬) বিনিময় হার—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
ইউরো : ১৪২ টাকা ৪১ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৮১ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৯৪ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ৮৬ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৭৫ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৫ টাকা ৯২ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৭ টাকা ৪৪ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময়হার পরিবর্তন হতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন।

ঈদের আগে রিজার্ভে বড় সুখবর

অনলাইন ডেস্ক
ঈদের আগে রিজার্ভে বড় সুখবর
সংগৃহীত ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরো বেড়েছে। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমান ৩৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

শনিবার (২৩ মে) রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মে পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৫৬৯ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ ৩৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৯১২ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

এর আগে গত ২১ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ হাজার ৫৩৯ দশমিক ০৮ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ২৯ হাজার ৮৭৯ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে রিজার্ভে কয়েক কোটি ডলার যোগ হওয়ায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

ঈদুল আজহার আগে গতকাল শনিবার দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে। প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা ওইদিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। 

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার এ নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন
ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত : ট্রাম্প

ইরানের সাথে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত : ট্রাম্প

 

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৫ হাজার ২৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

এর আগে, সব শেষ গত ২১ মে সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

ওষুধ নিয়ে এসকেএফের প্রতারণার ফাঁদ

করোনার ওষুধ আবিষ্কারের নামে জালিয়াতি ওষুধ সিন্ডিকেটের মূল হোতা

অনলাইন ডেস্ক
ওষুধ নিয়ে এসকেএফের প্রতারণার ফাঁদ

২০২০ সালে করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। কোনো চিকিৎসা নেই। মরণব্যাধি এ ভাইরাসের বিস্তার রোধের কোনো পথ জানা ছিল না বিশ্বের বিজ্ঞানী এবং চিকিৎসকদের। লাখো মানুষের মৃত্যু গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। বিশ্বের বড় বড় ওষুধ কোম্পানি করোনা মোকাবিলার জন্য ওষুধ এবং ভ্যাকসিন আবিষ্কারে দিনরাত পরিশ্রম শুরু করে। এ মহামারির মধ্যে মানুষের অসহায়ত্ব পুঁজি করে প্রতারণা এবং জালিয়াতির এক ঘৃণ্য নজির স্থাপন করে বাংলাদেশের একটি ওষুধ কোম্পানি। ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন এসকেএফ এ সময় করোনার মুখে খাওয়ার ওষুধ আবিষ্কারের কথা বলে জ্বরের ওষুধ বাজারে ছেড়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

২০২১ সালের ১০ নভেম্বর এসকেএফ ঘোষণা করে যে তারা করোনা চিকিৎসায় বিশ্বে প্রথম অনুমোদিত ওষুধ ‘মলনুপিরাভির’ বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এসেছে। ওইদিন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের রাজধানীর বনানী কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এ ওষুধের বাজারজাত করার কথা জানানো হয়। সেখানে এসকেএফের একজন কর্মকর্তা বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা ওষুধটি বাজারে এনেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেড় বছরের বেশি বিশ্বে ৫০ লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় এতদিন অনুমোদিত কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ ছিল না। ৪ নভেম্বর এর চিকিৎসায় মলনুপিরাভিরের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য। করোনা সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একজন প্রাপ্তবয়স্ককে সকালে চারটি ও রাতে চারটি ক্যাপসুল সেবন করতে হবে। এভাবে পাঁচ দিনে ৪০টি ক্যাপসুল সেবন করতে হবে। প্রতি ক্যাপসুলের দাম ধরা হয়েছিল ৫০ টাকা। অর্থাৎ একজন ব্যক্তিকে ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হবে। কিন্তু ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল জার্নালের তথ্যানুযায়ী, এটি আদৌ করোনার ওষুধ নয়। করোনার সময়ও এটি আবিষ্কার করা হয়নি। ব্রিটেনে চিকিৎসকরা এ ওষুধ উচ্চ জ্বরে আক্রান্তদের জন্য ব্যবহার করেন। মেডিসিন জার্নালের তথ্যানুযায়ী, মলনুপিরাভির মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল বা বড়ি। সাধারণত ফ্লুর চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হতো। করোনার একটি বড় উপসর্গ হলো উচ্চমাত্রার জ্বর। সেজন্যই যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার সময় জ্বর প্রশমনে এটির ব্যবহার বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) মলনুপিরাভিকে জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। কোনোভাবেই এটি করোনার ওষুধ নয়। কিন্তু এসকেএফ এটিকে করোনার ওষুধ হিসেবে প্রচার করে। প্রতিষ্ঠানটি এ ওষুধের বাজারজাতকরণের ঘোষণায় বলে, Eskayef is very happy to share the launching news of UK MHRA Approved Oral Anti-Covid drug Molnupiravir with brand name MONUVIR 200 Capsule, which is world’s 1st generic Molnupiravir from UK MHRA Approved Plant.

বিষয়টি চিকিৎসকদের নজরে এলে তাঁরা এ ওষুধকে করোনার ওষুধ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তদন্ত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসকেএফ এ ওষুধটি বাজার থেকে সরিয়ে ফেলে। এখন বাজারে এই ভুয়া করোনার খাওয়ার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে এ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না-একাধিক ওষুধের দোকানে জানতে চাওয়া হলে দোকানিরা জানান, কোম্পানি বাজার থেকে ওষুধটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

বাংলাদেশের ঔষধ প্রশাসন আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যেতে পারে। কিন্তু এ রকম ভয়ংকর প্রতারণার পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসকেএফের এই প্রতারণার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসকেএফের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা এ বিষয়ে মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কেবল করোনার ওষুধই নয়, অন্যান্য ওষুধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। যেমন এসকেএফ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য বাজারে দুটি আলাদা ওষুধ বিক্রি করে। Esoral MUPS (ইসোমিপ্রাজল MUPS) এবং Losectil (লোসেকটিল-ওমেপ্রাজল)। দুটি ওষুধের কার্যকারিতা একই, তার পরও কারসাজি করার জন্য একই ওষুধ দুই নামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ ওষুধ দিয়ে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বাজারে সিন্ডিকেট করে এসকেএফ। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ওষুধের দাম বাড়ানো হয়। ঔষধ প্রশাসনের নাকের ডগায় এসকেএফ তাদের ওষুধের দাম ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে বিক্রি করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পরিচালক এসকেএফের বাজার সিন্ডিকেটের কথা স্বীকার করেন। কিন্তু তারা যেহেতু প্রভাবশালী তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঔষধ প্রশাসন ভয় পায়। এ ছাড়া ঔষধ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এসকেএফের বেশ কিছু ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই কোম্পানির Ostocal GX (অস্টোক্যাল জিএক্স- ক্যালসিয়াম+ভিটামিন D3) ভিটামিন এবং Xinc B (জিঙ্ক ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স)-এর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফার্মাসিস্টরা। এসব ওষুধের আদৌ কোনো কার্যকারিতা আছে কি না তা পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে বারবার। ফার্মা বিশেষজ্ঞদের মতে চিকিৎসকদের নানানরকম প্রলোভনের মাধ্যমে অপ্রয়োজনে এসব ওষুধ রোগীদের দেওয়া হয়। কিন্তু এসকেএফের মালিকানায় দুটি প্রভাবশালী সংবাদপত্র থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে ভয় পায়।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন