• ই-পেপার

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে : সারজিস আলম

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে : জি এম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে :  জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলনকে তিনি সফল বা ব্যর্থ—কোনোটিই বলতে চান না। তার ভাষায়, আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এটি এখনো ‘অসমাপ্ত’ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরো বড় রাজনৈতিক আন্দোলন কিংবা নতুন পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রংপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘পল্লী নিবাসে’ কালের কণ্ঠকে তিনি এ কথা বলেন। পরে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।

জি এম কাদের বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনকে আমি সফল বা ব্যর্থ বলতে চাই না। কারণ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা, বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। তাই আমি বলব, আন্দোলনটি এখনো অসমাপ্ত।’

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন ধীরে ধীরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। জনগণ আশা করেছিল রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বাস্তবে প্রশাসনে দলীয়করণ, নিয়োগে বৈষম্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব এখনো বিদ্যমান। ফলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। তারা এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করে, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, বিরোধী মতকে সম্মান করা হবে এবং আইনের শাসন নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি, মামলা-হামলা এবং নানা ধরনের অনিশ্চয়তা এখনো বিদ্যমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় আন্দোলন কিংবা নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জোরালো হতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা দীর্ঘদিন উপেক্ষা করা হলে নতুন সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে জি এম কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হতে হবে। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং নিয়োগপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে না পারলে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে জনগণের আস্থা। সেই আস্থা অর্জন করতে হলে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে, বৈষম্য দূর করতে হবে এবং সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

দেশে মাদকের বিস্তার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মাদক এখন সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এর ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা করা কঠিন হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মাদক নির্মূলে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে মাদকের প্রবেশ বন্ধে আরো কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।’ জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল থেকে রংপুর মহানগর ও জেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সকাল ৯টায় পল্লী নিবাসে স্মরণসভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

এ সময় জি এম কাদের বলেন, ‘পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উন্নয়ন দর্শন আজও বাংলাদেশের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, পল্লী জনপদের অগ্রগতি এবং রংপুর অঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর যে অবদান, তা মানুষ কখনো ভুলবে না। তাঁর আদর্শ ধারণ করেই জাতীয় পার্টি জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।’

দল গোছানোর উদ্যোগ বিএনপির

৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও মেয়াদোত্তীর্ণ স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্ব চলতি বছরই দলীয় কাউন্সিলের তোড়জোড়

অনলাইন ডেস্ক
দল গোছানোর উদ্যোগ বিএনপির

এবার দল পুনর্গঠনে মনোযোগ দিয়েছে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল হওয়ায় এর মধ্যে দলের অনেকে সরকারে চলে গেছেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা হয়েছেন অনেকে। এ কারণে দলের কর্মকান্ডে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মকাণ্ড চাঙা করতে দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য দলীয় কাউন্সিল আয়োজনসহ অঙ্গসংগঠনগুলো পুনর্গঠন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা জানান, তিন বছর মেয়াদি কমিটি গঠনে সর্বশেষ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। এ ছাড়া দলটির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টি কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিএনপির ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। বিশেষ করে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেই দল গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।

অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন : বিএনপির ১১টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ১০টিই মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে এসব কমিটি দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের চিন্তা করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় দলীয় নেতারা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন।

তাদের মতে, দুর্বল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো সুযোগ নিতে পারে। তাই নির্বাচন সামনে রেখে মূল দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোকে নতুন নেতৃত্বে পুনর্গঠন করাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও ওলামা দল- এই ৯টি হলো বিএনপির অঙ্গসংগঠন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও শ্রমিক দল বিএনপির সহযোগী সংগঠন। তবে এসব সংগঠনের অধিকাংশেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই। প্রায় ৪৭ বছরেও ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র তৈরি হয়নি।

বিএনপির কাউন্সিল : বিএনপির গঠনতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও এক দশকেও তা হয়নি। তবে এ সময়ে নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ। কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কেউ দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। দলীয় দায়িত্বশীল নেতারা জানান, চলতি বছরের শেষের দিকে দলের সপ্তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। এজন্য দায়িত্বশীলদের ৮২টি সাংগঠনিক জেলা ও অধিভুক্ত উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোতেও অধিকাংশ নেতা কাউন্সিল করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। একই সঙ্গে কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘোষণার জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে জাতীয় স্থায়ী কমিটি। দায়িত্বশীলরা আভাস দিয়েছেন, এবার কাউন্সিলে থাকবে নতুন নতুন চমক। পরিবর্তন হবে দলীয় গঠনতন্ত্রের কিছু ধারা-উপধারা। দীর্ঘ ৯ বছর পর দলের কাউন্সিলে ১৬ বছর রাজপথে থাকা নেতাদের আমলনামা অনুসারে ভাগ্য নির্ধারণ হবে। যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে নবরূপে সাজানো হবে বিএনপিকে।

বিএনপির ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ : বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও সাংগঠনিক তৎপরতায় পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। সারা দেশে ৮২ কমিটির মধ্যে এখন ৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ। শুধু সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি নয়; সারা দেশে বিএনপির থানা-উপজেলা এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। জানা গেছে, সারা দেশে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এসব কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৮ জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরো তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়েও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেবে কেন্দ্র। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

স্থানীয় নির্বাচনে গুরুত্ব : স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাফল্য পেতে চায় বিএনপি। সেজন্য দল শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত শনিবার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আগামী স্থানীয় নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে থেকে শুরু হতে পারে এবং দল কীভাবে প্রস্তুতি নেবে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

সূত্র জানায়, নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে এবার সতর্ক অবস্থান নিতে চায়। এজন্য বিভিন্ন এলাকায় জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং হবে। তাই এখন থেকেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করা সংগঠনের চলমান প্রক্রিয়া। তবে জাতীয় কাউন্সিল হলে সংগঠনটি নতুন নেতৃত্ব পায়। দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা ত্যাগী, সংগ্রামী, পরীক্ষিত নেতারাই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পান। এতে ত্যাগীরা যেমন মূল্যায়িত হন, তেমনি সংগঠনও শক্তিশালী হয়।

কাউন্সিলের বিষয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের সীমাহীন নির্যাতনে বিএনপি তখন স্বাভাবিক দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে পারেনি। তাই উদ্যোগ নেওয়ার পরও দলের জাতীয় কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। এখন রাজনীতির পরিবেশ এসেছে। তাই দলের জাতীয় কাউন্সিলও হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপির কাউন্সিল এই বছরের মধ্যেই। এখনো আমরা সময় নির্ধারণ করিনি। দলের কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের লোক অনেকে সরকারে চলে গেছেন। সেই জায়গাগুলো পূরণ হতে সময় লাগবে। এটা বিচ্ছিন্ন ব্যাপার না। এটা আলাদা করে দেখা যাবে না। সরকার তার কাজ করবে, দল তার কাজ করবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

শফিকুর রহমানের বক্তব্যের জবাব দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ফাইল ছবি

জুলাই জাতীয় সনদ ও উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৭ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। তবে বিরোধী দলের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি সদস্যপদ শূন্য রাখা হয়েছে।

এদিকে জনরায়কে উপেক্ষা করে এই বিশেষ কমিটি গঠনের অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। এ সময় নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নেওয়া নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের কড়া জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (১৩ জুলাই) ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

কমিটির সদস্যরা হলেন সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ (কক্সবাজার-১), সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (বরগুনা-২), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), জয়নাল আবেদিন (বরিশাল-৩), মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), হাবিবুর রহমান (ভোলা-১), মোহাম্মদ নুরুল হক (পটুয়াখালী-৩), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), ফারজানা শারমিন (নাটোর-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-১), মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩) ও মোহাম্মদ অলিউল্লাহ (বরগুনা-১)।

প্রস্তাবিত কমিটি উত্থাপনের পর সংসদে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি প্রথম অধিবেশনেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উত্থাপন করেছিলেন এবং সেই দিনই বিরোধী দল অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কয়েক দফায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বৈঠক করলেও বিরোধী দল কমিটির জন্য কোনো সদস্যের নাম দেয়নি। কারণ বিরোধী দল নীতিগতভাবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তারা জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ, যেমনটি বর্তমান সরকারি দলও নির্বাচনের আগে ওয়াদাবদ্ধ ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের আগে সব দলই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানিয়েছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। এরই প্রেক্ষিতে তারা দুটি শপথ নিয়েছেন— একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। বিরোধী দল মনে করে তাদের দুটি শপথই বহাল ও কার্যকর আছে। সুতরাং, সেই সংস্কার পরিষদকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যদি এই সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়, তবে তারা এই প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছেন।

তিনি আরো বলেন, তারা আগের অবস্থানেই অনড় আছেন। গণতন্ত্রের মূল দাবিই হচ্ছে জনগণের মতামতকে মেনে নেওয়া, যা এই ক্ষেত্রে ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের রায়। এই বিপুল জনমতকে অবলীলায় শেষ করে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে এবং বিদ্রোহী হয়ে উঠবে।

জনগণের এই মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য করা উচিত হবে না উল্লেখ করে ড. শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, জনগণের রায়কে সম্মান না জানানোর প্রতিবাদে তারা শুধু এই কমিটিতে অংশগ্রহণ থেকেই বিরত থাকবেন না, বরং সংসদ থেকে ওয়াকআউট করবেন। এই বক্তব্য শেষ করেই তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের অনুমতি নিয়ে এর কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে পয়েন্টে ওয়াকআউট করছেন তা তাদের বিবেচনায় সঠিক হতে পারে, তবে গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের মূল প্রত্যাশা হলো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা। এই লেজিসলেচারে যদি পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা না হয়, তবে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্ট রায় দিলেও দেশকে ওই বিতর্কিত সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করেই চলতে হবে। সুতরাং, সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন ও সংবিধান সংশোধন ছাড়া জাতিকে নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

বিরোধীদলীয় নেতার দুটি শপথের দাবির প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুটি শপথ নিলে প্রথম শপথটিই তো অবৈধ হয়ে যায়। কারণ বর্তমান সংবিধান অনুসারেই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন এবং সেই সংবিধান অনুযায়ীই সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সরকারি ও বিরোধী উভয় দল আলোচনা করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানে কোথায় আছে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়া যাবে? তিনি একে সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি উপদেষ্টা পরিষদের সিদ্ধান্তে আইনি উপদেষ্টার নথিতে পাস করে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল, যা প্রথম দিন থেকেই অবৈধ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এবং তৃতীয় তফসিল লঙ্ঘন করে ব্লু পেপারে সংসদ সদস্যদের জন্য আরেকটি শপথের যে ফর্ম ছাপানো হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’ বা বাতিল এবং এর কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।

গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের যে আদেশ, যেটিকে ‘জুলাই আদেশ’ বা ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংস্কার আদেশ’ নাম দেওয়া হয়েছে, সেটি প্রথম দিন থেকেই এখতিয়ারবহির্ভূত ও সংবিধানের সঙ্গে প্রতারণা ছিল, যা রাষ্ট্রপতি করতে পারেন না। রাজনৈতিক সমঝোতার জুলাই সনদের কোথাও এমন কিছু ছিল না যেখানে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, জুলাই জাতীয় সনদে যে সমঝোতা হয়েছে তার চার ভাগের সাড়ে তিন ভাগ তারা মানেন, কিন্তু বাকি আধা খানি অংশ সংবিধানের ওপর অবৈধ হাত বাড়িয়েছে। বিরোধী দলকে সংসদে এসে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় রাস্তায় গিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কমিটি করলে সংবিধান সংশোধন না করে তারা বসে থাকতে পারবেন না। আর সংবিধান সংশোধন না করলে জাতিকে শেখ হাসিনার দেওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়েই চলতে হবে, যা কেউ চায় না।

অবিলম্বে এই সংবিধান সংশোধনী কমিটি কাজ শুরু করবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জুডিশিয়ারি, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, ডিজিটাল ও প্রিন্ট মিডিয়ার সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংসদ ও সংসদের বাইরে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। এরপর সব স্টেকহোল্ডারদের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বিরোধীদলীয় সদস্যরা আবেগসর্বস্ব রাজনীতি পরিহার করে একটি শক্তিশালী সংবিধান সংশোধনী বিল আনার স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করবেন।

বিএনপি জুলাই সনদ না মানলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে : গোলাম পরওয়ার

ফেনী প্রতিনিধি
বিএনপি জুলাই সনদ না মানলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে : গোলাম পরওয়ার
সোমবার ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যের সেমিনারে বক্তব্যে দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘বিএনপি জুলাই সনদ না মানলে আবারও ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসবে। তারা ক্ষমতায় এসে দেশের জনগণের সঙ্গে দেওয়া ওয়াদা ভুলে গেছে। তাদের কারণে একটি সন্ত্রাস চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তারা গণভোটের আগে জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে ছিল, ভোটের পর তারা ইউটার্ন নিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো তাহলে কেন গণভোট অনুষ্ঠিত হলো?

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ফেনী ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির ষড়যন্ত্রের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হয়নি। এজন্য স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে তারা নিজেদের লোক বসাচ্ছে। আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য চেয়েছি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের সভা আহ্বান করার কথা থাকলেও তারা সভা আহ্বান করলেন না, তারা ইচ্ছে করে এসব করছে। তারা সংবিধান সংশোধন চায়, সংস্কার চায় না। এজন্যই কি ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে? তাদের মুখে এক অন্তরে আরেক। তারা মুখে বললেও অন্তরে জুলাই সনদ মানেনি এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে সব অস্বীকার করছে। এ জন্য তারা গণভোটের গণরায় মানেনি অথচ তারা জাতির সঙ্গে আগে অক্ষরে অক্ষরে মানার ওয়াদা করেছিল। এখন ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটকে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনে একমত ছিল এখন ক্ষমতায় গিয়ে অস্বীকার করে এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি জনগণকে বিভক্ত করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। বিএনপি যদি জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশ গঠন না করে তাহলে রাজপথে দাবি আদায় করা হবে।’

জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া ও কুমিল্লা জেলার সাবেক আমির আবদুস সাত্তার, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য এ কে এম সামছুদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর এর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরউদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, এবি পার্টির জেলা সভাপতি মাষ্টার আহছান উল্লাহ, এনসিপির জেলা সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিকসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।