• ই-পেপার

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ ‍জুলাই, ২০২৬

অতিবৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় পাঁচ আমল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
অতিবৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় পাঁচ আমল
সংগৃহীত ছবি

বৃষ্টি মহান আল্লাহর অন্যতম বড় নিয়ামত। এর মাধ্যমে মৃত ভূমি জীবিত হয়, ফসল উৎপন্ন হয় এবং মানুষ ও প্রাণিকুল জীবনধারণের উপকরণ পায়। মহান আল্লাহর এই বিশেষ নিয়ামতের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আকাশ থেকে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তা দ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও উদগত করি শস্য।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ৯)

তবে কখনো কখনো এই রহমতের বৃষ্টিই অতিবৃষ্টিতে রূপ নেয়, এমনকি বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের জন্য কষ্ট ও পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ রকম পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের করণীয় কী, সে বিষয়ে আলোকপাত করব, ইনশাআল্লাহ।

১. ধৈর্য ধারণ করা :  অতিবৃষ্টিকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

অতএব অতিবৃষ্টিতে কোনো মুমিনের ঘরবাড়ি, ফসল বা সম্পদের ক্ষতি হলে তার করণীয় হলো, ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদানের আশা রাখা। কেননা মুমিনের কোনো অবস্থাই প্রকৃতপক্ষে তাকে লোকসানে ফেলতে পারে না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের অবস্থা ভারি অদ্ভুত। তার সমস্ত কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য এ কল্যাণ লাভের ব্যবস্থা নেই। তারা আনন্দ (সুখশান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করে, এও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৮৪৮)
 

২. দোয়া করা : বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া সুন্নত। তিনি বৃষ্টি নেমে এলে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সইয়্যিবান নাফিআ’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! মুষধারায় কল্যাণকর বৃষ্টি দাও।’ (বুখারি, হাদিস : ১০৩২)


আর যদি অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন তিনি এই দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুত্বনিল আউদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন।’ (বুখারি, হাদিস : ১০১৪)

৩. মানুষের পাশে দাঁড়ানো : বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। অতিবৃষ্টিতে অনেক মানুষ খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সংকটে পড়ে। এ সময় সাধ্যমতো প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এটিও মহান আল্লাহর রহমত ও সাহায্যপ্রাপ্তির একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার বান্দার সাহায্য করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

৪. সংকট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক হওয়া : যাদের মহান আল্লাহ সুস্থতা ও শক্তি-সামর্থ্য দিয়েছেন, বিশেষ করে যুবসমাজ, তাদের উচিত— জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরানো, ড্রেন পরিষ্কার করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে সহযোগিতা করা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া। মানুষের কষ্ট লাঘবে আত্মনিয়োগ করা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সহায়ক হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে ঘোরাফেরা করতে দেখলাম। যে (পৃথিবীতে) রাস্তার মধ্য থেকে একটি গাছ কেটে সরিয়ে দিয়েছিল, যেটি মুসলিমদের কষ্ট দিচ্ছিল।’ (সহিহুল জামে)

৫. গুজব থেকে দূরে থাকা : দুর্যোগের সময় গুজব থেকে বিরত থাকা। দুর্যোগের সময় অনেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষকে আরো বিপদে ফেলার চেষ্টা করে, কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নেয়, কেউ আবার সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ব্যবসা করে। অথচ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা জঘন্য অপরাধ। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের খবর বিশ্বাস করা ও প্রচার করাও নিষেধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে, যেন তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো। ফলে নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬)

অতিবৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাই দুর্যোগের সময় বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার, দোয়া, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ সবাইকে এই কাজগুলো করার তাওফিক দিন। আমিন।

হতাশায় ভুগছেন? নিরাশ না হয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ১৫ আয়াতে

অনলাইন ডেস্ক
হতাশায় ভুগছেন? নিরাশ না হয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ১৫ আয়াতে
সংগৃহীত ছবি

যেকোনো বিপদ-আপদে মুমিনরা বরাবরই মহান আল্লাহর নিকট দু’হাত তুলে ধরেন। দুনিয়াবি জীবনের নানা দুশ্চিন্তা, হতাশা, রোগমুক্তি কিংবা কল্যাণ চেয়ে স্মরণ করেন মহান রবকে।

অন্যদিকে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যখন কোনো বান্দা তার নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেন না।

তবে ক্ষণিকের এ দুনিয়ায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিভিন্ন বিপদ-আপদ কিংবা নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির মাধ্যমেও বান্দার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে যারা এসব বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করে থাকেন তারাই সফলকাম হবেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে (সুরা আল-বালাদ, আয়াত : ৪)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪৬)।

এমনকি পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা এসেছে, ‘যদি কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মাত্রা রেখেছেন। (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ৩) অন্যদিকে বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে বান্দার গুনাহও মাফ হয়। হাদিসে এসেছে, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব যাতনা, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এসবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৯; সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২৩৯)

এজন্য খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে উম্মতদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশা থেকে মুক্তি চেয়ে মহান রবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনাও শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। তবে যেকোনো বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশায় কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং, প্রকৃত মুমিনের উচিত এই সময়ে মহান রবের রহমত কামনা করে তার কাছে দোয়া করা। এ ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশায় থাকলে দোয়ার পাশাপাশি কোরআনে বর্ণিত নিচের ১৫টি আয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা উচিত।

১)  وَلَا تَاْيْــَٔسُواْ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ‌ۖ إِنَّهُۥ لَا يَاْيْــَٔسُ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْقَوْمُ

অর্থ: ‘আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)

২) وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

অর্থ: ‘তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৩৯)

৩)  لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا‌ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ‌ۗ

অর্থ: ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে।’ (সুরা বাকারাহ, আয়াত : ২৮৬)

৪)  إِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا , فَإِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: ‘অতএব, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। (সুরা আশ-শারহ, আয়াত : ৫-৬)

৫)  وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ৩)

৬) قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا‌ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

অর্থ: ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৫৩)

৭) أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: ‘তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরে সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।’ (সুরা আর-রাদ, আয়াত : ২৮)

৮) وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ

অর্থ: ‘হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।’ (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত : ২১৬)

৯) يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسْتَعِينُواْ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٲةِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ

অর্থ: ‘হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

১০) وَٱصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِٱللَّهِ‌ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِى ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

অর্থ: ‘আর তুমি সবর (ধৈর্য) কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফিকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে, তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১২৭)

১১) ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

অর্থ: ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত করে না, নিশ্চিয়ই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা গাফির, আয়াত : ৬০)

১২) لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا‌

অর্থ: ‘তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ৪০)

১৩) حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

অর্থ: ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৭৩)

১৪) لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ

অর্থ: ‘ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমিই বিজয়ী হবে।’ (সুরা ত্বা-হা, আয়াত : ৬৮)

১৫) وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۝ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

অর্থ: ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ২-৩)

উজবেকিস্তানে ইমাম বোখারি (রহ.)-কে নিয়ে ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী জীবন ডেস্ক
উজবেকিস্তানে ইমাম বোখারি (রহ.)-কে নিয়ে ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

উজবেকিস্তানের সমরকন্দে ইসলামী সভ্যতা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় ‘ইসলামিক সিভিলাইজেশন : দ্য পাথ অব পিস, টোলারেন্স, অ্যান্ড এনলাইটেনমেন্ট’ শীর্ষক এ সম্মেলনে ইমাম বোখারি (রহ.), ইমাম তিরমিজি (রহ.) ও ইমাম মাতুরিদি (রহ.)-কে নিয়ে বিশ্বের ৪০টি দেশের তিন শতাধিক খ্যাতিমান ইসলামী ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও বরেণ্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

‘ইমাম আল-বোখারিস আল-জামি আস-সহিহ : দ্য বুক অব দ্য উম্মাহ’ শীর্ষক সম্মেলনের শেষ দিন সমরকন্দ ঘোষণাপত্র ও সুপারিশ ঘোষণা করা হয়েছে। উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শভকাত মির্জিয়োয়েভের সভাপতিত্বে এ ঘোষণাপত্র উপস্থাপন করেন আইসেসকোর সেন্টার ফর সিভিলাইজেশনাল ডায়ালগের পরিচালক খালিদ ফাতালরহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) আয়োজক সংস্থা আইসেসকো এক বিবৃতিতে সম্মেলনের ঘোষণা ও সুপারিশ তুলে ধরে।

ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন (আইসেসকো)-এর আয়োজনে এবং তাশখন্দের ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টার ও ইমাম বোখারি ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টারের যৌথ সহায়তায় এ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।

সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, পবিত্র কোরআনের পর নবী (সা.)-এর সুন্নাহ হলো আইনের দ্বিতীয় উৎস এবং এ দুটি অবিচ্ছেদ্য। এতে হাদিসের ইতিহাস বিষয়ক বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয় এবং গবেষকদের বিভিন্ন প্রকার হাদিস অধ্যয়ন করতে ও নবী (সা.)-এর হাদিস সম্পর্কে কিছু লোকের করা দাবি খণ্ডন করতে উৎসাহিত করা হয়।

তা ছাড়া ঘোষণাপত্রে হাদিস অধ্যয়নের পদ্ধতি নবায়ন এবং যুক্তির খণ্ডনে প্রমাণের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের গুরুত্বের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। 

তাতে আরো বলা হয়, পবিত্র হাদিসের অধ্যয়ন কেবল এর আইনগত দিকগুলো পর্যালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত সভ্যতার মূল্যবোধগুলোকেও তুলে ধরে।

এদিকে ইসলামী বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে সহিহ আল-বুখারির প্রচলনের ফলে সাংস্কৃতিক ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ আদান-প্রদান তুলে ধরার লক্ষ্যে উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্টের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘আল-বোখারি রুট’ চালু করার সুপারিশ করা হয়।

এছাড়াও ইসলামী সভ্যতার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বকে উৎসর্গ করে একটি দ্বিবার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সম্মেলনটি ইমাম মুসলিম ও তাঁর সহিহ গ্রন্থের জন্য উৎসর্গ করা হবে।

সম্মেলনে ঘোষিত সুপারিশের মধ্যে আরো রয়েছে, আন্তর্জাতিক আল-বুখারী পুরস্কার প্রবর্তন; ইমাম আল-বুখারি, তাঁর শিক্ষক, ছাত্র এবং তাঁর গ্রন্থের ওপর একটি পাণ্ডিত্যপূর্ণ বিশ্বকোষ প্রকাশ; সহিহ আল-বুখারি শিক্ষাদানের জন্য নিবেদিত বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান এবং ইনস্টিটিউটের একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা; ইমাম আল-বুখারির জীবনের ওপর একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ; জ্ঞান অন্বেষণ এবং হাদিস সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁর যাত্রার বিবরণ নিয়ে একটি বই প্রকাশ। 

একইসঙ্গে সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত নবীর সেই হাদিসগুলো নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা যেখানে মহৎ নৈতিক মূল্যবোধের বিবরণ রয়েছে। তা ছাড়া তাশখন্দের ইসলামিক সিভিলাইজেশন সেন্টারের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল ইমাম আল-বোখারি এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠার একটি উদ্যোগের ঘোষণা দেন।

আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য রাখেন সৌদি আরবের রয়েল কোর্টের উপদেষ্টা, কাউন্সিল অব সিনিয়র স্কলার্স-এর সদস্য এবং মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম শায়খ ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ, মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ড. নাজির মুহাম্মদ আইয়াদ, আইসেসকো-এর মহাপরিচালক ড. সালিম এম আল-মালিক, উজবেকিস্তানের মুসলিম বোর্ডের চেয়ারম্যান নুরিদ্দিন খালিকনাজারভসহ বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ। 
 

চেহারা না দেখিয়ে নারীর জন্য ভিডিও বানানো কি জায়েজ?

মুফতি ওমর বিন নাছির
চেহারা না দেখিয়ে নারীর জন্য ভিডিও বানানো কি জায়েজ?
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্ম মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অসংখ্য নারী চেহারা প্রকাশ না করে শুধু কণ্ঠ ব্যবহার করে, কিংবা হাত দেখিয়ে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করছেন। কেউ শিক্ষা দিচ্ছেন, কেউ রান্না শেখাচ্ছেন, কেউ দ্বীনি আলোচনা করছেন, আবার কেউ এসবের মাধ্যমে অর্থও উপার্জন করছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে— নারী যদি চেহারা প্রকাশ না করেন, শুধু কণ্ঠে কথা বলেন কিংবা হাত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করেন, তবে তা কি শরীয়তসম্মত? এবং এভাবে অর্জিত অর্থ কি হালাল?

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে নবী-পত্নীরা! তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না; তাহলে যার অন্তরে রোগ আছে, সে লোভে পড়বে। বরং তোমরা সংযত ও শালীন কথা বলো।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৩২)

এ আয়াত থেকে ফোকাহায়ে কেরাম বলেন, নারীর কথা বলা মূলত নিষিদ্ধ নয়; তবে এমনভাবে কথা বলা নিষিদ্ধ, যা ফিতনার কারণ হতে পারে। হানাফি ফিকহের গ্রহণযোগ্য মত হলো— নারীর কণ্ঠ নিজে সতর নয়। এজন্য নারী-সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে মাসআলা জিজ্ঞাসা করতেন এবং অনেক পুরুষ সাহাবিরাও তাঁদের কাছ থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে ফিতনার আশঙ্কার কারণে ফোকাহয়ে কেরাম এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।

শরীয়ত প্রয়োজনে নারীর কথা বলাকে বৈধ করেছে। যেমন— মাসআলা জিজ্ঞাসা করা, চিকিৎসা, ব্যবসায়িক লেনদেন, সাক্ষ্য প্রদান এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজন। কিন্তু নিয়মিত জনসম্মুখে বক্তব্য প্রদান, বিনোদনমূলক উপস্থাপনা বা অনুসারী বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কণ্ঠ প্রচার—এসব ক্ষেত্রে ফিতনার সম্ভাবনা থাকাটা স্বাভাবিক। তাই তা পরিহারযোগ্য। আর শুধু চেহারা গোপন রাখলেই শরীয়তের পর্দার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় না। যদি ভিডিও এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে নারী নিজেই দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে যান এবং এতে ফিতনার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, তবে তা শরীয়তের পর্দার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলামী শরীয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো— ‘সাদ্দুজ জারায়ে’ অর্থাৎ, যে বৈধ কাজ হারামের দিকে পৌঁছে দেওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, প্রয়োজনে সেই পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইমাম কারাফী (রহ.) বলেন, ‘হারামের দিকে পৌঁছে দেয় এমন বৈধ মাধ্যমকেও শরীয়ত অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করেছে।’ (আল-ফুরূক, ২/৩৩)

বর্তমানে বেশিরভাগ ইউটিউব চ্যানেলের আয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসে। বাস্তবে এসব বিজ্ঞাপনে প্রায়ই থাকে— গান-বাজনা, অশালীন দৃশ্য, সুদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রচার, হারাম পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং শরীয়তবিরোধী বিভিন্ন বিষয়। যেহেতু সাধারণ ব্যবহারকারী এসব বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তাই বহু সমসাময়িক ফকিহ এ ধরনের আয়কে সন্দেহযুক্ত অথবা অনেক ক্ষেত্রে নাজায়েজ বলে মত দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে ছবি নির্মাতারা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৫০)

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘প্রাণীর ছবি অঙ্কন হারাম হওয়ার বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে। তা কাপড়ে, দেয়ালে, মুদ্রায় বা অন্য যেকোনো স্থানে হোক; কারণ এতে আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ করা হয়।’ (শারহু সহিহ মুসলিম, ১৪/৮১)

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ডিজিটাল ফটোগ্রাফি ও ভিডিওকে ঐতিহ্যগত চিত্রাঙ্কনের একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—এ বিষয়ে সমসাময়িক ফকিহদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই এ অংশে ইজমা তথা ঐকমত্য দাবি করা যাচ্ছেনা। কেননা ইসলাম বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না। প্রয়োজন দেখা দিলে নারী— প্রয়োজনীয় কথা বলতে পারবেন, দ্বীনি মাসআলা জিজ্ঞাসা করতে পারবেন এবং শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদান করতে পারবেন। এর প্রমাণ সাহাবিয়াদের জীবন ও বহু সহিহ হাদিসে বিদ্যমান। তবে এসব হবে প্রয়োজনসীমার মধ্যে, শালীনতা বজায় রেখে এবং ফিতনার আশঙ্কা থেকে মুক্ত অবস্থায়। (রাদ্দুল মুহতার, ১/৪০৬)

তাই ইসলামের দৃষ্টিতে একজন নারীর জন্য নিজেকে এমন সব উপায় থেকেও দূরে রাখা, যা ধীরে ধীরে ফিতনা, অশ্লীলতা বা গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে।