• ই-পেপার

অতিবৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় পাঁচ আমল

ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

সাইয়্যিদ মুনিব মুর্শিদ
ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব
সংগৃহীত ছবি

ইসলামী অর্থনীতির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি জীবিকাকে শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে না; বরং সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবেও দেখে। এ কারণেই কোরআন বৈধ উপার্জনের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের সম্পদের মধ্যে অন্যের অধিকারও নির্ধারণ করে দিয়েছে।

অর্থাৎ একজন মানুষ তাঁর শ্রম, মেধা ও উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করবেন—এটি যেমন তাঁর অধিকার, তেমনি সেই সম্পদের ব্যবহারে ন্যায়, ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও তাঁর দায়িত্ব।
অর্থনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, শ্রমকে সম্পদ সৃষ্টির প্রধান ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বহু চিন্তাবিদ। স্কটিশ অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ ‘The Wealth of Nations’-এর সূচনাতেই লিখেছেন, ‘The annual labour of every nation is the fund which originally supplies it with all the necessaries and conveniences of life which it annually consumes.’

অর্থাৎ একটি জাতির মানুষের বার্ষিক শ্রমই তাদের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের মূল উৎস। আধুনিক অর্থনীতির বিকাশে এই পর্যবেক্ষণ গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তবে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি এখানে আরো একটি মৌলিক মাত্রা যোগ করে। ইসলাম শ্রমকে শুধু উৎপাদনের উপায় হিসেবে মূল্যায়ন করে না; শ্রমের নৈতিকতাকেও সমান গুরুত্ব দেয়। কারণ অন্যায় উপায়ে অর্জিত বিপুল সম্পদের চেয়ে সৎ পরিশ্রমে অর্জিত সামান্য উপার্জনও ইসলামের দৃষ্টিতে অধিক মর্যাদাপূর্ণ। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) ব্যবসায়ীদের শুধু লাভের পথ দেখাননি; শিখিয়েছেন সততার পথও। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গী হবে।’ (জামে তিরমিজি)

ব্যবসা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার জন্য এই হাদিসটির গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে ব্যবসাকে শুধু বৈধ জীবিকার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি; বরং সততার সঙ্গে পরিচালিত ব্যবসাকে এমন এক নৈতিক মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছে, যা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ইবাদতের চেতনার সঙ্গে যুক্ত করে। অর্থ উপার্জনের লক্ষ্য তখন শুধু মুনাফা থাকে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় আমানতদারি, জবাবদিহি এবং আল্লাহভীতি। ইসলামের ইতিহাসে বাজার ছিল শুধু কেনাবেচার স্থান নয়; ছিল সামাজিক আস্থারও প্রতীক।

ক্রেতা ও বিক্রেতার পারস্পরিক সম্পর্ক টিকে থাকত বিশ্বাসের ওপর। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ (সা.) বাজারে প্রতারণা, মজুদদারি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, পণ্যের ত্রুটি গোপন করা কিংবা ওজনে কম দেওয়ার মতো আচরণের কঠোর নিন্দা করেছেন। কারণ বাজারে একবার বিশ্বাসের সংকট তৈরি হলে ক্ষতি শুধু একজন ক্রেতা বা একজন বিক্রেতার হয় না; তার অভিঘাত পুরো অর্থনৈতিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। আজকের বিশ্বের বহু আর্থিক সংকটও শেষ পর্যন্ত এই আস্থাহীনতার দিকেই আমাদের দৃষ্টি ফেরায়।

মুসলিম মনীষীদের অর্থনৈতিক চিন্তায়ও এই নৈতিকতার প্রশ্নটি বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে। হানাফি ফকিহ ইমাম আবু ইউসুফ তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘কিতাবুল খারাজ’-এ রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক দায়িত্ব আলোচনা করতে গিয়ে ন্যায়ভিত্তিক রাজস্বনীতি, কর আদায়ে সংযম এবং জনগণের সম্পদের সুরক্ষাকে সুশাসনের অপরিহার্য শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের শক্তি কর বৃদ্ধিতে নয়; বরং এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্যে, যেখানে মানুষ নিরাপদে শ্রম দেবে, ব্যবসা করবে এবং উৎপাদনে উৎসাহিত হবে। এ কারণেই ‘কিতাবুল খারাজ’ ইসলামী রাজস্বনীতি ও জন-অর্থব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে আজও সমাদৃত।

একই ধারার চিন্তাকে আরো বিস্তৃত রূপ দিয়েছেন ইতিহাসবিদ ইবন খালদুন। তাঁর অমর গ্রন্থ ‘মুকাদ্দিমা’য় শ্রম, উৎপাদন, রাষ্ট্র এবং সভ্যতার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, মানুষের শ্রমই সম্পদের প্রকৃত ভিত্তি। কিন্তু সেই শ্রম তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন মানুষ তার শ্রমফল ভোগের নিরাপত্তা অনুভব করে। অন্যায় করনীতি, জুলুম কিংবা সম্পদের অনিরাপত্তা মানুষের কর্মস্পৃহা নষ্ট করে, উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেও দুর্বল করে ফেলে। কয়েক শতাব্দী আগে উপস্থাপিত এই বিশ্লেষণ আজও অর্থনৈতিক গবেষণায় বিস্ময়করভাবে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়।

এখানেই ইসলামী অর্থনীতির স্বাতন্ত্র্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ইসলাম মানুষকে সম্পদ অর্জনের আহবান জানায়, কিন্তু সম্পদের জন্য বিবেক বিসর্জনের অনুমতি দেয় না। ব্যবসাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে মর্যাদা দেয়, কিন্তু প্রতারণাকে কখনো ব্যাবসায়িক কৌশল হিসেবে মেনে নেয় না। শ্রমকে সম্মানিত করে, তবে শ্রমিকের অধিকার উপেক্ষা করে অর্জিত মুনাফাকে বৈধ বলে না। অর্থনৈতিক সাফল্য ইসলামের কাছে কাম্য, কিন্তু সেই সাফল্যের ভিত্তি হতে হবে ন্যায়, সততা ও মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

আজকের বিশ্বে দক্ষতা, প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদনশীলতার গুরুত্ব নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু এই বাস্তবতার পাশাপাশি আরেকটি সত্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ—অর্থনীতির প্রকৃত শক্তি শুধু পুঁজি বা প্রযুক্তিতে নয়; মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাসে। যখন বাজারে আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন শক্তিশালী আইনও অনেক সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক রাখতে পারে না। অথচ যেখানে সততা সামাজিক মূল্যবোধে পরিণত হয়, সেখানে বাজারও স্বাভাবিকভাবে স্থিতিশীলতা লাভ করে। ইসলামী অর্থনীতি তাই মানুষের হাতে সম্পদ তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সেই হাতকে বিশ্বস্ত, ন্যায়পরায়ণ ও জবাবদিহিমূলক করে গড়ে তুলতে চায়। এখানেই হালাল উপার্জনের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।

ইসলামী অর্থনীতির আলোচনা অনেক সময় সুদ কিংবা জাকাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অথচ একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রকৃত প্রাণ নিহিত থাকে তার উপার্জন-সংস্কৃতিতে। মানুষ কিভাবে সম্পদ অর্জন করছে, লেনদেনে কতটা বিশ্বস্ত, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কতটা আন্তরিক—এসবের ওপরই শেষ পর্যন্ত একটি অর্থনীতির স্থায়িত্ব নির্ভর করে। যে সমাজে প্রতারণা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হিসেবে প্রশংসিত হয়, সেখানে আইন আরো কঠোর করা যায়; কিন্তু মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। বিপরীতে যে সমাজে সততা সামাজিক মর্যাদায় পরিণত হয়, সেখানে অর্থনৈতিক সম্পর্কও স্বাভাবিকভাবেই দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়। এই নৈতিক ভিত্তিকেই আরো সুস্পষ্ট করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘যে আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম)

হাদিসটি সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। এখানে প্রতারণাকে শুধু একটি ব্যাবসায়িক অনিয়ম হিসেবে দেখা হয়নি; বরং মুসলিম সমাজের নৈতিক পরিচয়ের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন মুসলমানের ব্যাবসায়িক পরিচয় তাঁর ঈমানি পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই ইসলাম ব্যবসাকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে, কিন্তু অসততাকে কখনো ব্যাবসায়িক দক্ষতা বা কৌশল হিসেবে বৈধতা দেয়নি।

হালাল উপার্জনের ধারণা শুধু একটি ধর্মীয় বিধান নয়; এটি একটি সুস্থ অর্থনৈতিক সভ্যতার ভিত্তি। এই দর্শন মানুষকে সম্পদ অর্জনে নিরুৎসাহ করে না; বরং সম্পদকে নৈতিকতার আলোয় পরিচালিত করতে শেখায়। ইসলাম চায় মানুষ স্বাবলম্বী হোক, উদ্যোগী হোক, ব্যবসায় সফল হোক, সম্পদশালী হোক; কিন্তু সেই সফলতার ভিত গড়ে উঠুক সৎ শ্রম, বৈধ ব্যবসা, আমানতদারিতা এবং মানুষের অধিকারের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধার ওপর।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচক সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, নীতিমালা বদলে যায়, বাজারের কাঠামোও রূপান্তরিত হয়। কিন্তু একটি সত্য কখনো পুরনো হয় না, অন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত সমৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ব্যক্তি, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র—সবার ক্ষেত্রেই টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তি নির্মিত হয় বৈধ উপার্জন, ন্যায়ভিত্তিক লেনদেন এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর।

এ কারণেই ইসলামী অর্থনীতি সম্পদের হিসাব শেখানোর আগে সম্পদ অর্জনের নৈতিকতা শেখায়। কারণ উপার্জনের পথ নির্মল হলে সম্পদ কল্যাণ বয়ে আনে, সমাজে আস্থা সৃষ্টি করে এবং রাষ্ট্রের ভিতকে শক্তিশালী করে। আর সেই পথ কলুষিত হলে প্রাচুর্যও অনেক সময় আশীর্বাদের পরিবর্তে অস্থিরতা, বৈষম্য ও অবিশ্বাসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ব্যক্তি ও সমাজ—উভয়ের কল্যাণের জন্য তাই হালাল উপার্জন শুধু একটি ধর্মীয় নির্দেশনা নয়; এটি ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক জীবনের অপরিহার্য ভিত্তি।

বৃষ্টি দেখলে মহানবী (সা.) যে দুই দোয়া বেশি বেশি পড়তেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বৃষ্টি দেখলে মহানবী (সা.) যে দুই দোয়া বেশি বেশি পড়তেন
সংগৃহীত ছবি

১. উপকারী বৃষ্টির জন্য পঠিতব্য দোয়া
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বৃষ্টি হতে দেখতেন, তখন সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ এই বিশেষ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন। দোয়াটি হলো- 

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! এই বর্ষণকে আমাদের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩২)

এ দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে শুধু বৃষ্টি নয়; বরং কল্যাণকর, উপকারী ও বরকতময় বৃষ্টি কামনা করেন।

২. অতিবৃষ্টি হলে পঠিতব্য দোয়া
কখনো কখনো অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের একটি সুন্দর দোয়া শিখিয়েছেন। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক জুমার দিনে এক সাহাবি এসে অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করেন,

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالْجِبَالِ وَالْآجَامِ وَالظِّرَابِ وَالْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল জিবালি ওয়াল আজামি ওয়াজ জিরাবি ওয়াল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, আমাদের আশপাশে বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! টিলা, পাহাড়, বনভূমি, উপত্যকা এবং বৃক্ষরাজির স্থানে বৃষ্টি বর্ষণ করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৩৩)
এ দোয়া আমাদের শেখায়, আল্লাহর কাছে এমন বৃষ্টি চাইতে হবে যা রহমত হয়ে আসে, কষ্টের কারণ না হয়।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৬ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৮ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৯ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

হতাশায় ভুগছেন? নিরাশ না হয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ১৫ আয়াতে

অনলাইন ডেস্ক
হতাশায় ভুগছেন? নিরাশ না হয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ১৫ আয়াতে
সংগৃহীত ছবি

যেকোনো বিপদ-আপদে মুমিনরা বরাবরই মহান আল্লাহর নিকট দু’হাত তুলে ধরেন। দুনিয়াবি জীবনের নানা দুশ্চিন্তা, হতাশা, রোগমুক্তি কিংবা কল্যাণ চেয়ে স্মরণ করেন মহান রবকে।

অন্যদিকে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যখন কোনো বান্দা তার নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেন না।

তবে ক্ষণিকের এ দুনিয়ায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিভিন্ন বিপদ-আপদ কিংবা নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির মাধ্যমেও বান্দার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে যারা এসব বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করে থাকেন তারাই সফলকাম হবেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে (সুরা আল-বালাদ, আয়াত : ৪)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪৬)।

এমনকি পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা এসেছে, ‘যদি কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মাত্রা রেখেছেন। (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ৩) অন্যদিকে বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে বান্দার গুনাহও মাফ হয়। হাদিসে এসেছে, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব যাতনা, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এসবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৯; সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২৩৯)

এজন্য খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে উম্মতদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশা থেকে মুক্তি চেয়ে মহান রবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনাও শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। তবে যেকোনো বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশায় কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং, প্রকৃত মুমিনের উচিত এই সময়ে মহান রবের রহমত কামনা করে তার কাছে দোয়া করা। এ ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশায় থাকলে দোয়ার পাশাপাশি কোরআনে বর্ণিত নিচের ১৫টি আয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা উচিত।

১)  وَلَا تَاْيْــَٔسُواْ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ‌ۖ إِنَّهُۥ لَا يَاْيْــَٔسُ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْقَوْمُ

অর্থ: ‘আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)

২) وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

অর্থ: ‘তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৩৯)

৩)  لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا‌ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ‌ۗ

অর্থ: ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে।’ (সুরা বাকারাহ, আয়াত : ২৮৬)

৪)  إِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا , فَإِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: ‘অতএব, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। (সুরা আশ-শারহ, আয়াত : ৫-৬)

৫)  وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ৩)

৬) قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا‌ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

অর্থ: ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৫৩)

৭) أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: ‘তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরে সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।’ (সুরা আর-রাদ, আয়াত : ২৮)

৮) وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ

অর্থ: ‘হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।’ (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত : ২১৬)

৯) يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسْتَعِينُواْ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٲةِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ

অর্থ: ‘হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

১০) وَٱصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِٱللَّهِ‌ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِى ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

অর্থ: ‘আর তুমি সবর (ধৈর্য) কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফিকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে, তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১২৭)

১১) ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

অর্থ: ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত করে না, নিশ্চিয়ই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা গাফির, আয়াত : ৬০)

১২) لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا‌

অর্থ: ‘তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ৪০)

১৩) حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

অর্থ: ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৭৩)

১৪) لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ

অর্থ: ‘ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমিই বিজয়ী হবে।’ (সুরা ত্বা-হা, আয়াত : ৬৮)

১৫) وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۝ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

অর্থ: ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ২-৩)