• ই-পেপার

ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে হালাল উপার্জনের গুরুত্ব

বৃষ্টি দেখলে মহানবী (সা.) যে দুই দোয়া বেশি বেশি পড়তেন

ইসলামী জীবন ডেস্ক
বৃষ্টি দেখলে মহানবী (সা.) যে দুই দোয়া বেশি বেশি পড়তেন
সংগৃহীত ছবি

১. উপকারী বৃষ্টির জন্য পঠিতব্য দোয়া
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বৃষ্টি হতে দেখতেন, তখন সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ এই বিশেষ দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করতেন। দোয়াটি হলো- 

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! এই বর্ষণকে আমাদের জন্য কল্যাণকর ও উপকারী করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১০৩২)

এ দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর কাছে শুধু বৃষ্টি নয়; বরং কল্যাণকর, উপকারী ও বরকতময় বৃষ্টি কামনা করেন।

২. অতিবৃষ্টি হলে পঠিতব্য দোয়া
কখনো কখনো অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের একটি সুন্দর দোয়া শিখিয়েছেন। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, এক জুমার দিনে এক সাহাবি এসে অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের দুর্ভোগের কথা জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করেন,

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالْجِبَالِ وَالْآجَامِ وَالظِّرَابِ وَالْأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল জিবালি ওয়াল আজামি ওয়াজ জিরাবি ওয়াল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের ওপর নয়, আমাদের আশপাশে বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! টিলা, পাহাড়, বনভূমি, উপত্যকা এবং বৃক্ষরাজির স্থানে বৃষ্টি বর্ষণ করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৯৩৩)
এ দোয়া আমাদের শেখায়, আল্লাহর কাছে এমন বৃষ্টি চাইতে হবে যা রহমত হয়ে আসে, কষ্টের কারণ না হয়।

অতিবৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় পাঁচ আমল

ইসলামী জীবন ডেস্ক
অতিবৃষ্টির সময় মুমিনের করণীয় পাঁচ আমল
সংগৃহীত ছবি

বৃষ্টি মহান আল্লাহর অন্যতম বড় নিয়ামত। এর মাধ্যমে মৃত ভূমি জীবিত হয়, ফসল উৎপন্ন হয় এবং মানুষ ও প্রাণিকুল জীবনধারণের উপকরণ পায়। মহান আল্লাহর এই বিশেষ নিয়ামতের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আকাশ থেকে আমি বর্ষণ করি কল্যাণকর বৃষ্টি এবং তা দ্বারা আমি সৃষ্টি করি উদ্যান ও উদগত করি শস্য।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ৯)

তবে কখনো কখনো এই রহমতের বৃষ্টিই অতিবৃষ্টিতে রূপ নেয়, এমনকি বন্যা বা জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের জন্য কষ্ট ও পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ রকম পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের করণীয় কী, সে বিষয়ে আলোকপাত করব, ইনশাআল্লাহ।

১. ধৈর্য ধারণ করা :  অতিবৃষ্টিকে আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫)

অতএব অতিবৃষ্টিতে কোনো মুমিনের ঘরবাড়ি, ফসল বা সম্পদের ক্ষতি হলে তার করণীয় হলো, ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিদানের আশা রাখা। কেননা মুমিনের কোনো অবস্থাই প্রকৃতপক্ষে তাকে লোকসানে ফেলতে পারে না। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিনের অবস্থা ভারি অদ্ভুত। তার সমস্ত কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য এ কল্যাণ লাভের ব্যবস্থা নেই। তারা আনন্দ (সুখশান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করে, এও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৮৪৮)
 

২. দোয়া করা : বৃষ্টি শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া সুন্নত। তিনি বৃষ্টি নেমে এলে বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সইয়্যিবান নাফিআ’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! মুষধারায় কল্যাণকর বৃষ্টি দাও।’ (বুখারি, হাদিস : ১০৩২)


আর যদি অতিবৃষ্টির কারণে মানুষের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিত, তখন তিনি এই দোয়া করতেন, ‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা, আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুত্বনিল আউদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজার।’ অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশপাশে, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন।’ (বুখারি, হাদিস : ১০১৪)

৩. মানুষের পাশে দাঁড়ানো : বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। অতিবৃষ্টিতে অনেক মানুষ খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সংকটে পড়ে। এ সময় সাধ্যমতো প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এটিও মহান আল্লাহর রহমত ও সাহায্যপ্রাপ্তির একটি মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্যে থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তার বান্দার সাহায্য করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

৪. সংকট নিরসনে স্বেচ্ছাসেবক হওয়া : যাদের মহান আল্লাহ সুস্থতা ও শক্তি-সামর্থ্য দিয়েছেন, বিশেষ করে যুবসমাজ, তাদের উচিত— জনসাধারণের দুর্ভোগ কমাতে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ। প্রয়োজনে নিজেদের উদ্যোগে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছ সরানো, ড্রেন পরিষ্কার করা, জলাবদ্ধতা নিরসনে সহযোগিতা করা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া। মানুষের কষ্ট লাঘবে আত্মনিয়োগ করা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে সহায়ক হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আমি এক ব্যক্তিকে জান্নাতে ঘোরাফেরা করতে দেখলাম। যে (পৃথিবীতে) রাস্তার মধ্য থেকে একটি গাছ কেটে সরিয়ে দিয়েছিল, যেটি মুসলিমদের কষ্ট দিচ্ছিল।’ (সহিহুল জামে)

৫. গুজব থেকে দূরে থাকা : দুর্যোগের সময় গুজব থেকে বিরত থাকা। দুর্যোগের সময় অনেকে আতঙ্ক ছড়িয়ে মানুষকে আরো বিপদে ফেলার চেষ্টা করে, কেউ রাজনৈতিক ফায়দা নেয়, কেউ আবার সামাজিক মাধ্যমে ভিউ ব্যবসা করে। অথচ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা করা জঘন্য অপরাধ। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের খবর বিশ্বাস করা ও প্রচার করাও নিষেধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদাররা! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের নিকট কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে, যেন তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো। ফলে নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তোমাদের অনুতপ্ত হতে হয়।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬)

অতিবৃষ্টি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ। তাই দুর্যোগের সময় বেশি বেশি তাওবা, ইস্তিগফার, দোয়া, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল ও মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ সবাইকে এই কাজগুলো করার তাওফিক দিন। আমিন।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১২ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩, ২৬ মহররম, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ০৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫৩ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৮ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৬ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৯ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

হতাশায় ভুগছেন? নিরাশ না হয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ১৫ আয়াতে

অনলাইন ডেস্ক
হতাশায় ভুগছেন? নিরাশ না হয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন এই ১৫ আয়াতে
সংগৃহীত ছবি

যেকোনো বিপদ-আপদে মুমিনরা বরাবরই মহান আল্লাহর নিকট দু’হাত তুলে ধরেন। দুনিয়াবি জীবনের নানা দুশ্চিন্তা, হতাশা, রোগমুক্তি কিংবা কল্যাণ চেয়ে স্মরণ করেন মহান রবকে।

অন্যদিকে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। যখন কোনো বান্দা তার নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে শূন্যহাতে ফিরিয়ে দেন না।

তবে ক্ষণিকের এ দুনিয়ায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বিভিন্ন বিপদ-আপদ কিংবা নানা ধরনের বাধা-বিপত্তির মাধ্যমেও বান্দার পরীক্ষা নিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে যারা এসব বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করে কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করে থাকেন তারাই সফলকাম হবেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিঃসন্দেহে আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কষ্ট-ক্লেশের মধ্যে (সুরা আল-বালাদ, আয়াত : ৪)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪৬)।

এমনকি পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা এসেছে, ‘যদি কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তবে তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ নিজের কাজ সম্পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ প্রতিটি জিনিসের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট মাত্রা রেখেছেন। (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ৩) অন্যদিকে বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে বান্দার গুনাহও মাফ হয়। হাদিসে এসেছে, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যেসব যাতনা, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আপতিত হয়, এমনকি যে কাটা তার দেহে বিদ্ধ হয়, এসবের দ্বারা আল্লাহ তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৯; সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫২৩৯)

এজন্য খোদ রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময়ে উম্মতদের বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণের পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশা থেকে মুক্তি চেয়ে মহান রবের কাছে আশ্রয় প্রার্থনাও শিখিয়েছেন নবীজি (সা.)। তবে যেকোনো বিপদ-আপদ, দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশায় কোনোভাবেই নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং, প্রকৃত মুমিনের উচিত এই সময়ে মহান রবের রহমত কামনা করে তার কাছে দোয়া করা। এ ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা কিংবা হতাশায় থাকলে দোয়ার পাশাপাশি কোরআনে বর্ণিত নিচের ১৫টি আয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা উচিত।

১)  وَلَا تَاْيْــَٔسُواْ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ‌ۖ إِنَّهُۥ لَا يَاْيْــَٔسُ مِن رَّوْحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلْقَوْمُ

অর্থ: ‘আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।’ (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ৮৭)

২) وَلَا تَهِنُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَنتُمُ الْأَعْلَوْنَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

অর্থ: ‘তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী হবে।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৩৯)

৩)  لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا‌ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا ٱكْتَسَبَتْ‌ۗ

অর্থ: ‘আল্লাহ কোনো ব্যক্তির ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার ওপরই বর্তাবে।’ (সুরা বাকারাহ, আয়াত : ২৮৬)

৪)  إِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا , فَإِنَّ مَعَ ٱلْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: ‘অতএব, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। (সুরা আশ-শারহ, আয়াত : ৫-৬)

৫)  وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ

অর্থ: ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ৩)

৬) قُلْ يَـٰعِبَادِىَ ٱلَّذِينَ أَسْرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُواْ مِن رَّحْمَةِ ٱللَّهِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغْفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًا‌ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلْغَفُورُ ٱلرَّحِيمُ

অর্থ: ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজদের ওপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৫৩)

৭) أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

অর্থ: ‘তারাই ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর প্রশান্তি লাভ করে। জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণের মাধ্যমেই অন্তরে সত্যিকারের প্রশান্তি লাভ করা যায়।’ (সুরা আর-রাদ, আয়াত : ২৮)

৮) وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ

অর্থ: ‘হতে পারে, তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।’ (সুরা আল-বাকারাহ, আয়াত : ২১৬)

৯) يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسْتَعِينُواْ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٲةِ‌ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ

অর্থ: ‘হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৫৩)

১০) وَٱصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِٱللَّهِ‌ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِى ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ

অর্থ: ‘আর তুমি সবর (ধৈর্য) কর। তোমার সবর তো শুধু আল্লাহর তাওফিকেই। তারা যেসব ষড়যন্ত্র করছে, তুমি সে বিষয়ে সংকীর্ণমনা হয়ো না।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১২৭)

১১) ٱدْعُونِىٓ أَسْتَجِبْ لَكُمْۚ إِنَّ ٱلَّذِينَ يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِى سَيَدْخُلُونَ جَهَنَّمَ دَاخِرِينَ

অর্থ: ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব। যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত করে না, নিশ্চিয়ই তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা গাফির, আয়াত : ৬০)

১২) لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا‌

অর্থ: ‘তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত : ৪০)

১৩) حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ

অর্থ: ‘আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।’ (সুরা ইমরান, আয়াত : ১৭৩)

১৪) لَا تَخَفْ إِنَّكَ أَنتَ الْأَعْلَىٰ

অর্থ: ‘ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমিই বিজয়ী হবে।’ (সুরা ত্বা-হা, আয়াত : ৬৮)

১৫) وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا ۝ وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

অর্থ: ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না।’ (সুরা আত-ত্বলাক্ক, আয়াত : ২-৩)