• ই-পেপার

কাবা প্রাঙ্গণে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আল-আকসার জন্য দোয়া (ভিডিও)

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৬ ‍জুলাই, ২০২৬

ইসলামী জীবন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৬ ‍জুলাই, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ১ সফর, ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।
আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।
মাগরিব ৬টা ৫২ মিনিটে।
এশার সময় শুরু ৮টা ১৬ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৩টা ৫৮ মিনিটে 
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৯ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার শোম্বা

অনলাইন ডেস্ক
সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে, ১২ আগস্ট আখেরি চাহার শোম্বা
সংগৃহীত ছবি

দেশের আকাশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে পবিত্র সফর মাস গণনা শুরু হবে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ আগস্ট (বুধবার) পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা পালিত হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ।

সভায় ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র সফর মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সহ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

এদিন সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী ছাড়াও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছাদেক আহমদ, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. সাহেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, ঢাকা জেলার অতিরিক্ত প্রশাসক মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও সভায় অন্যদের মধ্যে সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকার অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা ডক্টর গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ঢাকা রেসিন্ডেন্সিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মো. মহিউদ্দিন, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক মসজিদে আদদাস

তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা

ইসলামী জীবন ডেস্ক
তায়েফের বুকে যে মসজিদ মুসলিমদের জন্য এক টুকরো সান্ত্বনা
সংগৃহীত ছবি

ইসলামের ইতিহাসে এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেগুলো শুধুমাত্র স্থাপত্যের কারণে নয়, বরং ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর রহমতের অবিস্মরণীয় স্মৃতির কারণে যুগে যুগে মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। সৌদি আরবের তাইফ শহরে অবস্থিত মসজিদ আদ্দাস তেমনই একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, এখানেই নবী মুহাম্মদ (সা.) তাইফবাসীর নির্মম নির্যাতন ও প্রত্যাখ্যানের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়েছিলেন। আর এখানেই ঘটে যায় এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা—যা একজন খ্রিস্টান ক্রীতদাসের হৃদয়ে ইসলামের আলো জ্বালিয়ে দেয়।

নবুওয়তের দশম বছরে, মহানবী (সা.) প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) এবং চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর ইসলামের দাওয়াত নিয়ে তাইফে যান। কিন্তু সেখানে তিনি প্রত্যাশিত সাড়া তো পানইনি, বরং শহরের প্রভাবশালীরা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে। উসকানি দিয়ে শিশু ও দুর্বৃত্তদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দেওয়া হয়। তারা পাথর নিক্ষেপ করতে করতে তাঁকে শহরের বাইরে বের করে দেয়। এতে তাঁর পবিত্র শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায় এবং জুতা পর্যন্ত রক্তে ভিজে যায়।

মহানবী (সা.) রক্তাক্ত আর ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীর নিয়ে শহরের অদূরে অবস্থিহ একটি আঙুর বাগানে আশ্রয় নেন । দূর থেকে তাঁর অবস্থা দেখে বাগানের মালিকরা তাদের খ্রিস্টান ক্রীতদাস আদ্দাস-কে এক থোকা আঙুর দিয়ে তাঁর কাছে পাঠান। আদদাস যখন আঙুরের পাত্র নবীজির সামনে রাখল, তিনি খাওয়ার আগে বললেন, ‘বিসমিল্লাহ্’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি)। শুনে আদদাসকে থমকে গেল। তায়েফ বা মক্কার পৌত্তলিকরা এভাবে কথা বলে না। সে বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘এই উপত্যকার মানুষ তো এমন কথা বলে না। আপনি কে? মহানবী (সা.) পাল্টা প্রশ্ন করলেন, ‘তোমার আদি বাড়ি কোথায়, তোমার ধর্ম কী?’ আদদাস জবাব দিল, ‘আমি ইরাকের নিনেভা শহরের এক খ্রিষ্টান।’ নিনেভার নাম শুনে নবীজির রক্তাক্ত মুখেও এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। তিনি বললেন, ‘তুমি তবে সেই পুণ্যবান নবী ইউনুস ইবনে মাত্তার শহরের লোক!’ আদদাস আরও অবাক, এই মরুভূমির মানুষ ইউনুসের নাম জানার কথা নয়। মহানবী (সা.) বললেন, ‘ইউনুস ছিলেন আমার ভাই। তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী, আমিও আল্লাহর নবী।’

এই একটি বাক্য জাগিয়ে তুলল আদদাসের ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা বিশ্বাস। সে বুঝে গেল, সামনে বসা মানুষটি মক্কার কোনো সাধারণ নেতা নন। তিনি সেই শেষ নবী, যাঁর কথা তার নিজের কিতাবেও লেখা আছে। সে নবীজির হাতে, পায়ে, কপালে চুমু খেতে লাগল। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখে উতবা-শাইবা আফসোস করে বলল, ‘সর্বনাশ, লোকটা আমাদের দাসকেও নষ্ট করে দিল!’ ফিরে আসার পর তারা আদদাসকে জিজ্ঞেস করল, কেন সে ওভাবে চুমু খাচ্ছিল। আদদাস দৃঢ়ভাবে জবাব দিল, ‘এই পৃথিবীতে এই মানুষটির চেয়ে উত্তম আর কেউ নেই। তিনি আমাকে এমন এক সত্য বলেছেন, যা একজন নবী ছাড়া কেউ জানতে পারে না।’

এই তাৎক্ষণিক ইসলাম গ্রহণ ছিল তায়েফের সেই অন্ধকার দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক টুকরো সান্ত্বনা। সেই আঙুর বাগানের জায়গাতেই পরে গড়ে ওঠে একটি মসজিদ—মসজিদে আদদাস। বাহ্যিক ব্যর্থতার আড়ালে আসলে সফলতা লুকিয়ে থাকে। পুরো তায়েফ শহর নবীজিকে তাড়িয়ে দেয়, অথচ আল্লাহ ঠিক তখনই একজন সাধারণ দাসের অন্তর খুলে দেন। তাই আজও তায়েফে যারা বেড়াতে যান, তারা মসজিদ আদদাসের শান্ত পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হন, অস্থির হৃদয়ে সান্ত্বনা লাভ করেন। বুঝতে পারেন, যখন দুনিয়ার সব মানুষ বিপক্ষে চলে যায়, চারপাশ তাড়িয়ে দেয়, তখনও আল্লাহর রহমতের একটা আঙুরের থোকা আর একজন বিশ্বস্ত আদদাস কোথাও না কোথাও অপেক্ষা করে থাকে।

তথ্যসূত্র :  (ইবনে কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, খণ্ড ৩, পৃ. ১৩২, সীরাতে ইবনে হিশাম, সিরাতুন নবাবিয়্যাহ, ২/৭১, ইবনুল আসির, আল-কামিল ফিত-তারিখ, খণ্ড ১, পৃ. ৬৬০)

হাদিসের বাণী

ইসলামে আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষায় জবাবদিহির নির্দেশ

ইসলামী জীবন ডেস্ক
ইসলামে আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষায় জবাবদিহির নির্দেশ
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আদি ইবনে উমাইরাহ (রা.)-থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমরা কাউকে আমাদের বিভিন্ন কাজে নিয়োগ করি, আর সে যদি সেখান থেকে সুঁই বা তার চেয়ে ছোট জিনিস গোপন করে, তাহলে সেটা খিয়ানত ও চুরি হিসেবে ধর্তব্য হবে। কিয়ামতের দিন সে এই খিয়ানত নিয়ে উপস্থিত হবে। এ কথা শুনে আনসারিদের থেকে একজন কালো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, (বর্ণনাকারী সাহাবি বলেন) আমি তাকে (এখন) দেখতে পাচ্ছি।

ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনি আমার দায়িত্ব ফিরিয়ে নিন। তিনি বললেন, কেন? কী হয়েছে? সে বলল, আমি আপনাকে এমন-এমন কথা বলতে শুনলাম। তিনি বললেন, আমি এখনো বলছি, যাকে আমরা কোনো কাজে নিয়োগ দিই, সে কম-বেশি যে সম্পদই হোক, তা আমার কাছে উপস্থিত করবে। এরপর সেখান থেকে যা দেওয়া হবে, সে তা-ই গ্রহণ করবে এবং যা দেওয়া হয় না, সেটা থেকে সে বিরত থাকবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস, ৪৭৪৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ১৭৭২৩)

শিক্ষ ও বিধান
১. আমানত রক্ষা করা ঈমানের দাবি। আর যে ব্যক্তি কোনো দায়িত্ব বা চাকরিতে নিয়োজিত হয়, তার কাছে অর্পিত ছোট-বড় সব সম্পদই আমানত। এতে সামান্য পরিমাণও আত্মসাৎ করা হারাম।

২. সরকারি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পদ আত্মসাৎ করা বড় গুনাহ। এমনকি সুঁইয়ের মতো তুচ্ছ জিনিসও গোপন করে নেওয়া খিয়ানত ও চুরির অন্তর্ভুক্ত।

৩. কিয়ামতের দিন আত্মসাৎ করা সম্পদসহ হাজির হতে হবে। অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ মানুষের জন্য পরকালে লাঞ্ছনা ও শাস্তির কারণ হবে।

৪. দায়িত্বশীল ব্যক্তির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা আবশ্যক। তাই কর্মচারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য কাজ শেষে কর্তৃপক্ষের কাছে অবশিষ্ট অর্থ-সম্পদ ফেরত দেয়া আবশ্যক।

৫. অনুমতি ছাড়া কোনো উপহার বা অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ বৈধ নয়। দায়িত্ব পালনের সময় প্রাপ্ত সব সম্পদের পূর্ণ হিসাব দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ যা বৈধভাবে প্রদান করবে, শুধু তাই গ্রহণ করা যাবে।

৬. এক্ষেত্রে সাহাবিদের তাকওয়া ও আল্লাহভীতি অনুকরণীয়। হাদিস শুনে ওই সাহাবি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এটি তাদের জবাবদিহিতার ভয় ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

৭. নেতৃত্ব ও প্রশাসনে সততা অপরিহার্য। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সকল পর্যায়ে আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা ইসলামের নির্দেশ।

সর্বপরি এই হাদিস আমাদের শেখায় যে, সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তিগত—যেকোনো আমানতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সততা বজায় রাখতে হবে। সামান্য পরিমাণ সম্পদ আত্মসাৎ করাও বড় গুনাহ। একজন মুমিনের পরিচয় হলো আমানত রক্ষা করা, দুর্নীতি ও খিয়ানত থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার অনুভূতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের হাদিসের উপর পূর্ণ আমল করার তাওফিক দান করুক। আমিন। 

কাবা প্রাঙ্গণে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আল-আকসার জন্য দোয়া (ভিডিও) | কালের কণ্ঠ