• ই-পেপার

বিধি-নিষেধ তুলে নিয়ে পবিত্র হজ আয়োজনের ঘোষণা সৌদির

ভিসা কেনাবেচার ব্যবসা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?

মুফতি ওমর বিন নাছির
ভিসা কেনাবেচার ব্যবসা কি জায়েজ, ইসলাম কী বলে?
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান সময়ে বিদেশে কর্মসংস্থান, ব্যবসা কিংবা বসবাসের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশের ভিসার ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে অনেক স্থানে ‘ভিসা ব্যবসা’ নামে একটি প্রচলিত প্রথা গড়ে উঠেছে। দেখা যায়, কেউ সরকারি বা কোম্পানির দেওয়া ভিসা অধিক মূল্যে বিক্রি করছেন, আবার কেউ ভিসা সংগ্রহে নিজের খরচ ও পরিশ্রমের বিনিময়ে নির্ধারিত অর্থ নিচ্ছেন। এ দুটি বিষয়কে অনেকে একই মনে করলেও ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে এদের বিধান এক নয়। 

কেননা ভিসা নিজেই কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়; বরং এটি একটি অনুমতিপত্র। তাই এর ওপর শরিয়তের সাধারণ ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান প্রযোজ্য হয় না। তবে ভিসা সংগ্রহে বৈধ সেবা, সময়, শ্রম ও ব্যয়ের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদাররা! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কোরো না; তবে পারস্পরিক সম্মতিতে বৈধ ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইসলাম বৈধ ব্যবসাকে অনুমোদন দিয়েছে; কিন্তু এমন কোনো লেনদেন বৈধ নয়, যেখানে বিক্রয়ের উপযুক্ত বস্তুই নেই বা অন্যায়ভাবে অর্থ গ্রহণ করা হয়।

ভিসা কি ব্যবসার পণ্য?
শরিয়তের দৃষ্টিতে বিক্রয়যোগ্য বস্তুর কিছু শর্ত রয়েছে। যেমন— এক. তা মাল (সম্পদ) হতে হবে। দুই. বিক্রেতার মালিকানায় থাকতে হবে। তিন. শরিয়তসম্মতভাবে হস্তান্তরযোগ্য হতে হবে। কিন্তু ভিসা কোনো সম্পদ নয়; বরং এটি একটি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদত্ত প্রবেশ বা কাজের অনুমতি। ফলে এটি স্বাধীনভাবে কেনাবেচার পণ্য নয়। এ কারণেই ফুকাহায়ে কেরাম (নিরেট অধিকার)-এর ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ বলেননি।

আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ির গ্রন্থে এসেছে, ‘নিরেট অধিকার-এর বিনিময় বা বিক্রয় বৈধ নয়।’ আবার রাদ্দুল মুহতার-এ আল্লামা ইবনে আবিদিন (রহ.) বলেন, ‘অগ্রক্রয়ের অধিকার (حق الشفعة)-এর মতো বিমূর্ত অধিকার বিক্রি করা যায় না। এর ওপর ওয়াকফ বা হিবা (দান) করাও বৈধ নয়।’ (রাদ্দুল মুহতার, ৪/৫১৮, ৭/৩৩–৩৪)
অতএব, ভিসা যেহেতু একটি অনুমতিগত অধিকার, তাই সেটিকে স্বতন্ত্র পণ্য হিসেবে বিক্রি করা শরিয়তের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাহলে ভিসার জন্য অর্থ নেওয়া কখন বৈধ?
যদি কোনো ব্যক্তি—
১. ভিসা সংগ্রহে বৈধভাবে আবেদন করেন,
২. দৌড়ঝাঁপ করেন,
৩. কাগজপত্র প্রস্তুত করেন,
৪. সময় ও শ্রম ব্যয় করেন,
৫. সরকারি ফি বা অন্যান্য বৈধ খরচ বহন করেন,

তাহলে তিনি তার প্রকৃত ব্যয় এবং বৈধ সেবার পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন। এটি ভিসা বিক্রি নয়; বরং বৈধ সেবা বা প্রতিনিধিত্ব-এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ।

কখন ভিসা বিক্রি হারাম হবে?
নিম্নোক্ত অবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বৈধ হবে না—
১. কোম্পানি বা সরকার কাউকে বিনামূল্যে ভিসা দিয়েছে কর্মী আনার জন্য;
২. ভিসা সংগ্রহে কোনো ব্যক্তিগত ব্যয় বা শ্রম হয়নি;
৩. শুধুমাত্র ‘ভিসা আছে’—এই কারণে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে বিক্রি হচ্ছে একটি অনুমতি, যা বিক্রয়যোগ্য সম্পদ নয়। ফলে এভাবে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ অন্যায় উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত হবে।

সুতরাং ভিসা নিজেই কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। এটি একটি অনুমতিপত্র বা নিরেট অধিকার মাত্র। আর ‘কোনো জিনিসের শুধুমাত্র অধিকার’ সাধারণভাবে কেনাবেচা করা শরিয়তসম্মত নয়। তবে ভিসা সংগ্রহে প্রকৃত খরচ, বৈধ শ্রম, সময় ও সেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ। কোনো খরচ বা শ্রম ছাড়াই শুধু ভিসার বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বৈধ নয়। দালালি, এজেন্সি বা প্রতিনিধিত্বের সেবার পারিশ্রমিক এবং ভিসা বিক্রি—এ দুটি বিষয় এক নয়।

ইসলাম মানুষের উপার্জনকে হালাল ও স্বচ্ছ রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তাই ভিসাকে ব্যবসার পণ্য বানিয়ে মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে, যদি কেউ বৈধভাবে সেবা প্রদান করে তার ন্যায্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন, তবে তা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রকৃত শ্রম, ব্যয় বা বৈধ সেবার বিনিময় ছাড়া শুধুমাত্র ভিসাকে পণ্য বানিয়ে অধিক মূল্যে বিক্রি করা ইসলামী ফিকহের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অতএব, এ বিষয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উচিত আল্লাহভীতি অবলম্বন করা, সন্দেহজনক লেনদেন থেকে বিরত থাকা এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য মুফতিদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ঘটনার আলোকে ফতোয়া গ্রহণ করা। কারণ হালাল উপার্জন শুধু দুনিয়ার বরকতেরই কারণ নয়; বরং আখিরাতের সফলতারও অন্যতম ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা আমাদের হালাল উপার্জনের তাওফিক দান করুক। আমিন। 

হাদিসের বাণী

জন্মের পূর্বেই যে চার বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যায়

ইসলামী জীবন ডেস্ক
জন্মের পূর্বেই যে চার বিষয়ের ফায়সালা হয়ে যায়
সংগৃহীত ছবি

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সত্যবাদী ও যার কথা সত্যায়িত করা হয়, সেই রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণনা করেছেন, তোমাদের যেকেউ তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন যাবৎ বীর্য আকারে অবস্থান করতে থাকে। তারপর তা চল্লিশ দিন পরে জমাটবদ্ধ রক্ত-টুকরোতে পরিণত হয়। এরপর চল্লিশ দিন পরে গোশতের টুকরোর মতো হয়। এরপরে তার কাছে ফেরেশতা আগমন করে। ফেরেশতা তার মধ্যে রুহ ফুঁক দেন (স্থাপন করেন)। তখন ওই ব্যক্তির জন্য চারটি বিষয় লিখে রাখারে নির্দেশ প্রদান করা হয়। (সেগুলো হলো-)

 ১. তার রিজিক, ২. তার মৃত্যু, ৩. তার আমল এবং ৪. পাপী নাকি সফলকাম। সেই সত্তার শপথ করে বলছি, যিনি ব্যতীত আর কোনো সত্যবাদী ইলাহ নেই, তোমাদের কেউ কেউ জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকবে, এবং তার ও জান্নাতের মাঝে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। অতঃপর তার লিপিবদ্ধ বিষয় তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসে, ফলে সে জাহান্নামিদের মতো আমল করতে থাকে, অবশেষে সে জাহান্নামে প্রবেশ করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ জাহান্নামিদের মতো আমল করে এবং তার ও জাহান্নামের মাঝে মাত্র এক হাত ব্যবধান থাকে। অতঃপর সে তাকদিরের লিখন অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যায়। এবং সে জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকে, অবশেষে সে জান্নাতে প্রবেশ করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২০৮, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৭২৩, মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ৩৯৩৪) 

শিক্ষা ও বিধান 
১. মানুষের সৃষ্টি আল্লাহর নির্ধারিত পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হয়। মাতৃগর্ভে মানুষের সৃষ্টি ধাপে ধাপে—নুতফা (বীর্য), আলাকা (জমাট রক্ত), মুদগাহ (গোশতের টুকরা)—এভাবে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হয়।

২. রুহ আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতার মাধ্যমে ভ্রূণের মধ্যে ফুঁকে দেওয়া হয়। এটি প্রমাণ করে যে মানুষের জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এক মহান নিয়ামত।

৩. প্রত্যেক মানুষের রিজিক, জীবনকাল, আমল এবং চূড়ান্ত পরিণতি আল্লাহর জ্ঞানে পূর্ব থেকেই নির্ধারিত। তবে এই তাকদির মানুষের ইচ্ছাশক্তি ও কর্মের দায়িত্বকে বাতিল করে না; মানুষকে সৎ আমল করারই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৪. রিজিকের ব্যাপারে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা উচিত। কারণ আল্লাহ প্রত্যেকের রিজিক নির্ধারণ করে রেখেছেন।

৫. মৃত্যুর সময় ও আয়ু নির্ধারিত। তাই মৃত্যু সম্পর্কে সচেতন থেকে সর্বদা নেক আমলের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।


৬. আমলের ওপর শেষ পরিণতি নির্ভর করে। তাই শুধু দীর্ঘদিনের ইবাদতই যথেষ্ট নয়; জীবনের শেষ পর্যন্ত ঈমান ও নেক আমলের ওপর অবিচল থাকা জরুরি।


৭. কোনো ব্যক্তির পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা উচিত নয়। কেননা বাহ্যিক আমল দেখে কাউকে নিশ্চিত জান্নাতি বা জাহান্নামি বলা ইসলামী আদবের পরিপন্থী।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ঈমানের ওপর অটল রেখে উত্তম পরিণতি দান করুন। আমিন।

প্রিয়জনের বিচ্ছেদে পঠিতব্য দোয়া

ইসলামী জীবন ডেস্ক
প্রিয়জনের বিচ্ছেদে পঠিতব্য দোয়া
সংগৃহীত ছবি

প্রিয়জনের বিচ্ছেদ মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি। বাবা-মা, সন্তান, জীবনসঙ্গী, আত্মীয় কিংবা প্রিয় কোনো মানুষের মৃত্যু বা বিচ্ছেদ হৃদয়কে গভীরভাবে শোকাহত করে। এমন মুহূর্তে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন, কিন্তু ইসলাম শোককে হতাশায় নয়—ধৈর্য, দোয়া ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসায় রূপান্তর করতে শিক্ষা দেয়। তাই বিপদ-আপদ ও প্রিয়জন হারানোর বেদনাময় সময়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতকে একটি মহামূল্যবান দোয়া শিখিয়েছেন। দোয়াটি হলো—

 إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا

উচ্চারণ : ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসিবাতি, ওয়া আখলিফ লী খাইরাম মিনহা।
অর্থ : নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। হে আল্লাহ! আমার এই বিপদে আমাকে সওয়াব দান করুন এবং এর পরিবর্তে আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করুন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৯১৮)

সুরা মুলক তিলাওয়াতের মহিমান্বিত ফজিলত

মুফতি ওমর বিন নাছির
সুরা মুলক তিলাওয়াতের মহিমান্বিত ফজিলত
সংগৃহীত ছবি

মৃত্যুর পরই শুরু হয় আখিরাতের প্রথম ধাপ—আলমে বরজাখ বা কবরের জীবন। এ জীবনে সফলতার জন্য প্রয়োজন ঈমান, নেক আমল এবং আল্লাহর রহমত। তাই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এমন কিছু আমল নির্ধারণ করে দিয়েছেন, যা আখিরাতের পথে আলোর দিশা হয়ে দাঁড়ায়। সেই মহামূল্যবান আমলগুলোর অন্যতম হলো প্রতিদিন সুরা মুলক তিলাওয়াত করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সুরার এমন ফজিলতের কথা জানিয়েছেন, যা প্রত্যেক মুমিনের হৃদয়ে এ সুরার প্রতি বিশেষ ভালোবাসা সৃষ্টি করে।

সুরা মুলক পবিত্র কোরআনের ৬৭তম সুরা। এতে মোট ৩০টি আয়াত রয়েছে। ‘মুলক’ অর্থ—রাজত্ব, সার্বভৌমত্ব ও সর্বময় ক্ষমতা। সুরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন—‘অতি বরকতময় তিনি, যাঁর হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ১)
এই সুরায় আল্লাহর অসীম ক্ষমতা, সৃষ্টি জগতের নিখুঁত ব্যবস্থা, মৃত্যু ও জীবনের উদ্দেশ্য, কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম এবং মানুষের জবাবদিহিতার বিষয় অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

সুরা মুলক পাঠের মহিমান্বিত ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সুরা আছে। তা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকবে, অবশেষে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। সেটি হলো—‘তাবারাকাল্লাজি বিইয়াদিহিল মুলক’।” (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৮৯১; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৪০০)»

অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘এটি (সুরা মুলক) কবরের শাস্তি থেকে রক্ষাকারী।’ (সুনান নাসায়ি)

সহিহ হাদিসে আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা সাজদা ও সুরা আল-মুলক তিলাওয়াত না করে ঘুমাতে যেতেন না।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৮৯২)
এসব হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাতে ঘুমানোর আগে সুরা মুলক তিলাওয়াত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

সুরা মুলকের বিষয়বস্তু
১. আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতার ঘোষণা (আয়াত ১–৪) এ অংশে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, জীবন-মৃত্যুর উদ্দেশ্য এবং সাত আসমানের নিখুঁত সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

২. জান্নাত ও জাহান্নামের বাস্তবতা (আয়াত ৫–১৫) অবিশ্বাসীদের পরিণতি, জাহান্নামের ভয়াবহতা এবং মুমিনদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ তুলে ধরা হয়েছে।

৩. আল্লাহর শাস্তির সতর্কবার্তা (আয়াত ১৬–২২) মানুষকে অহংকার ত্যাগ করে আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৪. মানুষকে আত্মসমালোচনার আহ্বান (আয়াত ২৩–২৪) আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দেন—তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও হৃদয় দিয়েছেন; অথচ মানুষ খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

৫. কিয়ামত সম্পর্কে মানুষের প্রশ্ন (আয়াত ২৫–২৭) অবিশ্বাসীরা কিয়ামতের সময় জানতে চাইলেও এর জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে।

৬. আল্লাহর ওপর পূর্ণ নির্ভরতার শিক্ষা (আয়াত ২৮–৩০) শেষ আয়াতগুলো মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয়—জীবন, পানি, রিজিক—সবকিছুই আল্লাহর দান; তিনি চাইলে মুহূর্তেই তা কেড়ে নিতে পারেন।

কখন সুরা মুলক পড়বেন?
রাসুলুল্লাহ (সা.) সুরা সাজদা ও সুরা মুলক তিলাওয়াত না করে কোনো দিন ঘুমাতেন না। তার মানে এই নয় যে সুরাটি দিনে পড়া যাবে না। যেকোনো সময়ই পড়া যাবে, তবে রাতে বিশেষ জিকির হিসেবে এ সুরা পড়া উত্তম। সুরাটি নামাজের সঙ্গে পড়াও ভালো। মুখস্থ না থাকলে দেখে দেখে অর্থ বুঝে পড়লে বিশেষ সওয়াব পাওয়া যায়।

আমাদের করণীয়
১. প্রতিদিন রাতে সুরা মুলক তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা।
২. সুরাটি মুখস্থ করার চেষ্টা করা।
৩. অর্থ ও তাফসির বুঝে পড়া।
৪. এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা।
৫. সন্তানদেরও এ সুরা শেখানো।

সুরা মুলক আল্লাহর মহিমা, আখিরাতের জবাবদিহি এবং ঈমানকে দৃঢ় করার এক অনন্য শিক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সুরার বিশেষ মর্যাদার কথা জানিয়েছেন এবং নিয়মিত তিলাওয়াতের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এ সুরা পাঠ করা, এর অর্থ অনুধাবন করা এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গঠন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুরা মুলকের বরকত লাভের তাওফিক দান করুন, কবরের শাস্তি থেকে হেফাজত করুন এবং কিয়ামতের দিন এ সুরার সুপারিশ নসিব করুন। আমিন।
 

বিধি-নিষেধ তুলে নিয়ে পবিত্র হজ আয়োজনের ঘোষণা সৌদির | কালের কণ্ঠ