বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর পরিশোধ বা আদায়ে একটি বিশদ পদ্ধতি বা নীতিমালা করা নিয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটে প্রাথমিক শুনানির পর গতকাল রবিবার এই রুল দেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। বিয়ের সময় ধার্য করা দেনমোহর আদায় বা পরিশোধ এবং নারীর অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১০ ধারার অস্পষ্টতা দূর করে এই ধারার অধীনে একটি বিশদ পদ্ধতি বা নীতিমালা প্রণয়েনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালযয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জনস্বার্থে রিটটি করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহমিদা আখতার। গতকাল রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।
রিটকারী আইনজীবী ফাহমিদা আখতার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনানিতে হাই কোর্ট বলেছেন, ধর্মীয় বিধান উপেক্ষা করে লোক দেখানো অতিরিক্ত দেনমোহর নির্ধারণের প্রবণতা থেকেই নানা জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহ নীতির বাইরে যাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।’
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিটে অন্তর্বর্তী আদেশ চাওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আমি আপত্তি জানিয়েছিলাম। আদালত রুল জারি করেছেন।’
দেনমোহর নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৫ জুলাই দায়ের করা হয় রিটটি। এতে বলা হয়, অধিকাংশ বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রী দেনমোহরের টাকা পরিশোধের দাবি জানালেও খুব কমই পরিশোধ করা হয়। কেবল বিবাহ বিচ্ছেদের মতো বিষয় সামনে এলেই দেনমোহরের টাকা পরিশোধের প্রশ্ন আসে। আর যখন তা পরিশোধ করা হয়, তখন টাকার বাজারমূল্য আর আগের মতো থাকে না। মুদ্রাস্ফীতির হার বা সময়ের ব্যবধান বিবেচনা না করে দেনমোহরের টাকা আদায় করা বা পরিশোধ করা পক্ষপাতমূলক এবং একই সঙ্গে তা দেনমোহর ধার্য করার মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
রিটে আরো বলা হয়, যেহেতু শরীয়া আইনে নারী অধিকার সুরক্ষায় দেনমোহরসহ বেশ কিছু ইতিবাচক বিধান রয়েছে, তারপরও আর্থ-সামাজিক কারণ এবং পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের কারণে এই বিধানগুলোর কার্যকারিতা হারাচ্ছে। আইনি মানদণ্ড না থাকায় দেনমোহরের সুরক্ষামূলক উদ্দেশ্যকে অনেকাংশেই ব্যাহত করেছে। শুধু তাই না, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল নারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
রিটে বলা হয়েছিল, যেহেতু দেনমোহর একজন বিবাহিত নারীর অর্জিত এবং আইনত বলবৎযোগ্য অধিকার, তাই আইনগত অস্পষ্টতা বা কোনো নীতিমালা না থাকার কারণে তার কার্যকারিতা হারাতে দেওয়া যায় না। বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ নারীদের অধিকার ও আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচারের স্বর্থে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।




