• ই-পেপার

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে প্রয়োজন কর্মমুখী শিক্ষা

  • এ কে এম আতিকুর রহমান

বিজিবির সাফল্যের নেপথ্যে সৈনিক ও টপ কমান্ডের রসায়ন

মোস্তফা কামাল

বিজিবির সাফল্যের নেপথ্যে সৈনিক ও টপ কমান্ডের রসায়ন

সৈনিক ও নেতৃত্বের অবিচ্ছেদ্য ধারাবাহিক কর্মতৎপরতায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাম্প্রতিক সাফল্যে মহলবিশেষ গাত্রদাহে ভুগছে। তাদের ভীষণ অসহ্য বাহিনীটির এই বীরত্ব। ভাবনমুনায় স্পষ্ট যে তারা ভিন্ন বা বিপরীত কিছুর অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু মাঠের সৈনিকের বীরত্ব, মধ্যম পর্যায়ের নেতৃত্বের কার্যকর কমান্ড এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনার সম্মিলিত পদক্ষেপে ঘটে গেছে মহলটির আকাঙ্ক্ষার বিপরীত। এর ঝাল মেটাতে তারা নেমেছে নানা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো, গুজব রটানো এবং মতলবি ফটোকার্ড তৈরির এজেন্ডায়।

বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি যখন কঠোর অবস্থান নিয়ে সাফল্যের নজির গড়েছে, তখন কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে ভর করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে বাহিনীর মনোবল ভাঙনের মিশনে বাহিনীটির শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে অপপ্রচারই করছে না, বিএসএফের হামলায় বিজিবি সদস্য আহত বা নিহত হয়েছেন এমন তথ্য দিয়ে সামাজিক প্ল্যাটফর্মে পুরনো ও অসুস্থতার ভিডিও ছড়ানোও বাদ দেয়নি। জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনের পূর্বাপরে ছড়িয়েছে অসম্পূর্ণ কিছু বিশ্লেষণ ও অনুমানভিত্তিক তথ্য। বাংলাদেশের জমি ভারতের দখলে চলে যাওয়ার মতো ভিত্তিহীন খবর ও রাষ্ট্রবিরোধী গুজবও রটিয়েছে। এসবের অন্যতম উদ্দেশ্য কর্মতৎপর বাহিনীটির অবিরাম কাজে ছেদ ফেলা।

সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে বিজিবির দৃঢ়, পেশাদার এবং সফল ভূমিকা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও প্রশংসিত। তা একদিকে বাহিনীটির জন্য গর্ব ও প্রণোদনার, অন্যদিকে মহলবিশেষের জন্য অসহ্যের। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী সৈনিক ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের সাহস, দেশপ্রেম এবং কর্মতৎপরতার সাফল্যের পেছনে শক্তিশালী নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং কার্যকর চেইন অব কমান্ডকে কৌশলে আলোচনার বাইরে রাখার আরেক সূক্ষ্ম চাতুরী তো আছেই। সেই সঙ্গে রয়েছে ‘সৈনিক ও জুনিয়র কর্মকর্তারা দেশপ্রেমিক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুর্নীতিগ্রস্ত’ মর্মে বয়ান তৈরির মতলবি কুচেষ্টা। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ঐক্য, মনোবল এবং চেইন অব কমান্ডকে দুর্বল করার এমন অপচেষ্টা এই যাত্রায় বেশিদূর এগোতে না পারলেও তা ভবিষ্যতে আরো সাবধান থাকার তাগিদ দেয়। কোনো বাহিনীর শক্তি তার সদস্যদের পারস্পরিক আস্থা, শৃঙ্খলা এবং ঐক্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নেতৃত্ব ও সৈনিককে পরস্পরের বিপরীতে দাঁড় করানো মানে সেই বাহিনীর মূল শক্তিকেই আঘাত করা।

এ ধরনের অপচেষ্টায় মাঝেমধ্যে যোগ হয়ে পড়ছে কারো কারো অতি উৎসাহ। সীমান্ত নিরাপত্তা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির ইস্পাত কঠিন অবস্থানের প্রশংসার সমান্তরালে স্থানীয় লোকজনের লাঠি-দা নিয়ে জড়ো হওয়া, ভিডিও ধারণ বা ফেসবুক লাইভ পরিস্থিতির ভিন্ন অর্থ দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এর ফের বুঝতে পেরে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে, কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা তৎপরতা নজরে এলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার না করে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে জানাতে বলা হয়েছে। এর বিপরীতে গুজববাজরা অপেক্ষাই করে ইতিবাচক তথ্য ও ফুটেজকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে একটি মহলের এটি বিশেষ এজেন্ডা। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার এবং রাজ্য থেকে কথিত ‘অনুপ্রবেশকারী’ ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ করার প্রক্রিয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নামে এই আবহ নতুন মাত্রা পায়।

এরই অংশ হিসেবে কথিত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। আটক করা হয় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুকে। পুশ ইনের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর ভারতীয় অপচেষ্টা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে রুখে দিচ্ছে বিজিবি। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং পুশ ইন ইস্যু নিয়ে একাধিকবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিজিবি ও বিএসএফের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে সত্য।  কিন্তু বড় রকমের সংঘাতের ঘটনা নেই। ভারতীয় কিছু প্রচারমাধ্যম সীমান্তে ব্যাপক সংঘাতের ফুটেজ বানাচ্ছে। ছাড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ঈশান বাংলা নামের ভারতীয় একটি সংবাদভিত্তিক ফেসবুক পেজে একজন আহত বিজিবি সদস্যকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান ও হেলিকপ্টারে করে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রচার করেছে। এর পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর ধুম পড়ে। ভারতীয় ফেসবুক থেকে বাংলাদেশ ও বিজিবিকে হেয় করে ভিডিওটি রিপোস্ট চালিয়ে মোটামুটি একটা উত্তেজনা ছড়ানো হয়। ভিডিওতে বলা হয়, ওই বিজিবি সদস্য বিএসএফের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। বিজিবির শীর্ষ নেতৃত্ব দ্রুত সময়ের মধ্যে এর রহস্য বুঝে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। নিশ্চিত হয়েছে, ভিডিওটির সঙ্গে সাম্প্রতিক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ইস্যু বা পুশ ইন ইস্যুর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মূলত ভিডিওটি বিজিবি সদস্য রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম চিম্বুলুই সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়।

ওই বিজিবি সদস্য হাবিলদার মো. এলাহান মিয়া। বাঘাইহাট ব্যাটালিয়নের (৫৪ বিজিবি) সদস্য। গত ৬ জুন তিনি কান্তালং বিওপি থেকে লিংক টহলের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় চিম্বুলুই বিওপির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছলে হঠাৎ তাঁর বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে তীব্র ব্যথা এবং অবশভাব অনুভূত হয়। ঘটনার পরপরই ব্যাটালিয়নের মেডিক্যাল অফিসার তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে ঢাকার পিলখানাস্থ বিজিবি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে তাঁর মধ্যে লেফট-সাইডেড হেমিপারেসিস জনিত উপসর্গ পরিলক্ষিত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিলকে তাল নয়, কোনো ছুঁতা পেলেই বিজিবি সদস্যদের মনোবলে আঘাত করার এই চাল বাহিনীটির শীর্ষ কমান্ড যথাসময়ে বুঝতে পারছে। এটিও গা জ্বালার বিষয় মহলবিশেষটির কাছে। তাই বিজিবি সদস্য ও কর্মকর্তা পর্যায়ে ভুল-বোঝাবুঝি রচনার মিশনটি বেশ জোরদার। সীমান্তে বিজিবির সাহসী তৎপরতা ও দৃঢ় অবস্থানে প্রথম দাগে ক্ষতি হয় চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ী এবং রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধীচক্রের। দ্বিতীয় দাগে অনুপ্রবেশ রোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দাগটি হয়ে গেছে মুখ্য।

বিজিবির এই দৃঢ়তার কারণে দেশ এবং সাধারণ জনগণ সুরক্ষিত। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অটুট থাকছে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা হচ্ছে। এতে বিজিবির প্রতি সন্তুষ্ট মহল যেমন আছে, অসন্তুষ্ট মহল থাকাও স্বাভাবিক। এই চক্র বাহিনীটির মনোবল ভাঙতে চাইবে, দুর্বল করতে চাইবে, সৈনিক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্যের গল্প বানাবে, বিভ্রান্তি ছড়াবে, তা-ও স্বাভাবিক। সীমান্ত সুরক্ষার সমান্তরালে বিজিবির কাজ বহুমুখী। পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রায় চার হাজার ১৫৬ কিলোমিটার পাহারায় সীমিত নয় তাদের কাজ। জরুরি দরকারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহায়তা, মাদক দমনসহ নানা সামাজিক কাজেও তাদের সারথি হতে হয়। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের বহুমাত্রিক কার্যক্রম কখনো কখনো বেখবরেই থাকছে। গত এক বছরে সীমান্তে তাদের অভিযানে ৯২৬ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিজিবি গত এক বছরে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ১৪ হাজার ৮০৮টি মতবিনিময়সভা আয়োজন করেছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ ৮৮ হাজার মানুষের কাছে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব এবং প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

একটি সামরিক বা সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাফল্য কখনোই শুধু মাঠের সৈনিকের একক অবদানের ফল নয়, বাহিনীর হাইকমান্ডের দক্ষ পরিচালন। সৈনিকদের সাহস ও দেশপ্রেম যেমন প্রশংসার দাবিদার, তেমনি সেই সাহস ও পেশাদারিকে সঠিক পথে পরিচালনে বাহিনীর নেতৃত্ব ব্যাটালিয়ন কমান্ডার থেকে মহাপরিচালক পর্যন্ত সমানভাবে কৃতিত্বের দাবিদার। সামরিক বিজ্ঞানের একটি মৌলিক সত্য হলো, যুদ্ধক্ষমতা বা কমবেট পাওয়ার। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে নেতৃত্ব। একজন সৈনিকের সাহস, দক্ষতা এবং দেশপ্রেম তখনই সর্বোচ্চ কার্যকারিতা অর্জন করে, যখন তিনি সঠিক নেতৃত্ব পান, সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পান। আর তা অবশ্যই কার্যকর কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে। সম্প্রতি বিজিবি সদস্যদের সীমান্তে দৃঢ়তা, সংযম এবং পেশাদারির পরতে পরতে রয়েছে মহাপরিচালক থেকে শুরু করে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যন্ত পুরো নেতৃত্বকাঠামোর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং পেশাদার নেতৃত্ব। মাঠের সৈনিকের বীরত্ব, মধ্যম পর্যায়ের নেতৃত্বের কার্যকর কমান্ড এবং সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনার সম্মিলিত রসায়নে আগোয়ান বাহিনীটির চলমান দুরন্ত ধারা ও অর্জন দেশের ইতিহাসের অংশ। তা মহলবিশেষের জন্য অবশ্যই বেদনার, অসহ্যের। এই মহল যে কখনো কখনো সফল হয়েছে, তা-ও আরেক ইতিহাস। 

 

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট, ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন

 

শিরোপা কে জিতবে বলা মুশকিল

ইকরামউজ্জমান

শিরোপা কে জিতবে বলা মুশকিল

আনন্দ, বেদনা, আলোচনা, সমালোচনা ও বিতর্কের বিশ্বকাপের বৃহৎ জাহাজটি কোয়ার্টার ফাইনালের ঘাটে এসে পৌঁছেছে। আমাদের নিজস্ব মনোভাব, বক্তব্য, প্রতিবাদ, অনুভূতির পেছনে আছে প্রত্যেকের নিজস্ব ধ্যান-ধারণার হিসাব। আর তাই বিষয়টিকে খারাপ বলার সুযোগ নেই। এই পৃথিবী চলছে কিভাবে? কিভাবে চলছে আমাদের জীবন, সমাজ ও দেশ? আর তাই ফুটবলের জীবনকে সন্দেহের চোখে দেখব কেন?

ফুটবল নিয়ে ভীষণ আনন্দ, ক্ষোভ, হতাশা ও প্রতিবাদ আছে, তা সত্ত্বেও সবাই কিন্তু স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ফুটবলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। চার বছর পর পর বিশ্বকাপ ফুটবল ফিরে আসে। সমাজের বৃহৎ জনগোষ্ঠী সেই উৎসবকে দুই হাত ভরে লুফে নেয়। অথচ বিশ্বকাপের সঙ্গে আমাদের কী ধরনের সম্পর্ক, তা সবাই জানি। তা সত্ত্বেও ফুটবলের পূর্ণিমার জোয়ারে গা ভাসিয়ে দেয়।

শিরোপা কে জিতবে বলা মুশকিলঢাকা নগরীর পাশেই একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ক্যাম্পাসে প্রতিদিন রাতে ও ভোরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী খুব মজা করে খেলা দেখে। ওরা অবশ্যই বিভিন্ন দলের সমর্থক। এর পরও খেলা দেখছে একসঙ্গে। ফুটবল পেরেছে সব মতকে একসঙ্গে খেলাতে। অসাধারণ বিষয়। যে আটটি দেশ কোয়ার্টার ফাইনালের ভিসা নিশ্চিত করেছে, তাদের মধ্যে একটি দেশেরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে এভাবে এত হাজার হাজার শিক্ষার্থী একসঙ্গে বিশাল বড় পর্দায় খেলা দেখেএ ধরনের উদাহরণ নেই। অথচ বিশ্বকাপের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। শুধু নির্মল আনন্দ উপভোগের জন্য মেতে ওঠা। দুঃখের বিষয় হলো, এই ফুটবল উৎসবে আবার বিষাদও নেমে এসেছে। অনেক তরুণ প্রাণ হারিয়ে গেছে শুধু ফুটবলের উৎসব ঘিরে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরগুলো অনুসরণ করি মনোযোগের সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য। চোখে এখনো পড়েনি বিগত দিনগুলোতে বিশ্বকাপ বিজয়ী দল উরুগুয়ে, জার্মানি ও ব্রাজিল। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগালের মতো দলগুলো যে অসময়ে বিদায় হয়েছে, এরপর সেই দেশের মানুষ কি প্রাণ দিয়েছে ফুটবলের পরাজয়ের দুঃখে? ফুটবল ঘিরে অতিরিক্ত আবেগ কখনো কাম্য নয়। ফুটবল একটি খেলা। অবশ্যই জীবনের খেলা। কিন্তু জীবন থেকে যেন ফুটবল বড় নয়। তা ছাড়া খেলাধুলা তো একটি জিনিস, যেটি পরাজয় মেনে নিতে শেখায়। আমরা সবাই জিততে চাই। সেটি তো সম্ভব নয়। জীবন সুন্দর করতে ফুটবলের নির্মল বিনোদন সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমিত হবেএটি লক্ষ্য হওয়া উচিত। খেলার ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হওয়া ঠিক নয়। আমরা সবাই জানি, বৃহৎ খেলার অনুষ্ঠানের প্রভাবকে অনেক সময় অতিরঞ্জিত করে দেখা হয়। চলমান বিশ্বকাপ এর বাইরে নয়। খেলার ভেতরেও অন্য খেলা হয়েছে। খেলা হয়েছে বাইরে। এর পরও ফুটবলের আলো নিভে যায়নি। এখানেই ফুটবলের আবেদনের জয়।

ফুটবল ঘিরে আন্তর্জাতিক কূট রাজনীতি। ফিফার বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কার্যকলাপ। মতলব হাসিলের খেলা। বৃহৎ শক্তির প্রকাশ্য ক্ষমতা প্রদর্শন। অমানবিক আচরণ অংশগ্রহণকারী দলের প্রতি। প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব। বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য চোখে পড়া ফিফার ডিগবাজি। ব্যবসায়ীদের শতভাগ স্বার্থ রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা। ফিফার প্রেসিডেন্ট মুখে মুখে লম্বা কথা বললেও শেষ পর্যন্ত মাথা নিচু করে চাটুকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। ফুটবল থেকে বাণিজ্যকে বড় করে দেখা হচ্ছে। ২১১ দেশের ফুটবল প্রতিষ্ঠান একটি বৃহৎ শক্তির কাছে কিছুই নয়এর প্রমাণ সবাই দেখলেন। তবে একটি সান্ত্বনা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি ফুটবলের সব আলোকে তাঁর দিকে নিয়ে নিতে।

তিন দেশে (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) ৪৮টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু। শেষ পর্যায়ে ১৬টি দেশ বাদ পড়েছে। এরপর ৩২ থেকে ১৬ দেশের নক আউট, যাকে বলা হয় প্রাক-কোয়ার্টার। এখানে স্থান হয়নি স্বাগতিক দেশগুলোর। এখানে এসেই ব্রাজিলের যাত্রা থেমে গেছে। ২৪ বছর অপেক্ষার অবসান হলো না। এখন আবার চার বছর পর বড় লড়াইয়ের মাঠে আসা নিশ্চিত করতে হবে। ব্রাজিল নিয়ে এত বেশি লেখালেখি আর কথাবার্তা হয়েছে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমেআর তাই চর্বিতচর্বণ অর্থহীন। ব্রাজিল কেন অসময়ে চলে গেছে, কমবেশি সবাই বুঝেছে। আমাদের ফুটবল মননে স্থান জুড়ে আছে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল। ব্রাজিল না থাকায় এরই মধ্যে বিশ্বকাপ বাংলাদেশে রং হারিয়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এটিই নিয়মকেউ সফল হবে, কেউ ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে অসময়ে চলে যাবে। দেশের মানুষের কাছে আরেকটি জনপ্রিয় দল হলো আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে লড়বে ইউরোপের সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। শেষ আটে চলে এসেছে বিশ্বকাপ ফুটবল উৎসব। তা সত্ত্বেও বলা মুশকিল শেষ পর্যন্ত কোন দল শিরোপা জিতবে। আট দলের মধ্যে লাতিন আমেরিকার আছে আর্জেন্টিনা, আফ্রিকার মরক্কো। বাকি ছয়টি ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, নরওয়ে, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড ইউরোপের দেশ। অর্থাৎ ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি ডমিনেট করছে ফুটবল বিশ্বকাপের উৎসবে। ২০২২ সালে কাতারে ইউরোপের ফ্রান্সকে পরাজিত করে জিতেছিল আর্জেন্টিনা ৩৬ বছর পর। মেসির জীবনের শেষ বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত এবার কী ঘটতে যাচ্ছে, তা এখন বলা মুশকিল। ইউরোপের দলগুলো কিন্তু ক্রমেই গোছানো এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। মরক্কো গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। এবার তাদের মোকাবেলা করতে হবে ফ্রান্সকে। মরক্কোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তারা ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলছে। এখন যে আটটি দল কোয়ার্টার ফাইনালে আছে, এর মধ্যে তো আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও স্পেন অতীতে বিশ্বকাপ জিতেছে। নরওয়ে, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড ও মরক্কো অতীতের বিশ্বকাপে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান (২০১৮), কোয়ার্টার ফাইনাল এবং কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে। শিরোপা জয় এখন উন্মুক্ত অবস্থায় আছে।

যে চারটি দেশ অতীতে বিশ্বকাপ জিতেছে, তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি, তিনবার জিতেছে। আর রানার্স আপ হয়েছে তিনবার। ফুটবলকে বোঝা মুশকিল। ফুটবলের নাটকের স্ক্রিপ্ট অনেক আগে থেকে লেখার সুযোগ নেই। আর সব রোমাঞ্চ ও উত্তেজনার মাঠেই জন্ম হয় মিনিটে মিনিটে। ৯০ মিনিট সেখানে কিছু না হলে অতিরিক্ত সময়, সেখানেও না হলে পেনাল্টি শ্যুট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্প সৃষ্টি হচ্ছে। এতে এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত। শুধু প্রার্থনা করা, যাতে প্রিয় দল শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে আর শেষ হাসি হাসতে পারে। আর এই হাসি কেড়ে নেওয়ার জন্য একটি খেলাই এখন যথেষ্ট। কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশএটি তো জগৎসংসারের অতিপরিচিত খেলা।

বিশ্বকাপের মাঠে লক্ষ করেছি যে ইউরোপের সেরা দলগুলো কোয়ার্টার ফাইনালে এসেছে। এই দেশগুলোর খেলোয়াড়দের বড় অংশই অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের নিয়ে গঠিত হয়েছে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ থেকে এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্বকাপের প্রতিটি দলের প্রাণভোমরা এখন অভিবাসী এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তান। এই সবকিছুই ফুটবলের বিশ্বায়নের অবদান।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া

মশা নিধনে বিটিআই : দেশেই উৎপাদন সম্ভব

ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার

মশা নিধনে বিটিআই : দেশেই উৎপাদন সম্ভব

মশা নিধনে পরিবেশবান্ধব ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই) এবং এর দেশীয় উৎপাদন সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। বিটিআই প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে বসবাসকারী একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাকটেরিয়া, যা মশার লার্ভা ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত। স্পোর গঠনের সময় এই ব্যাকটেরিয়া একাধিক বিষাক্ত মশানাশক প্রোটিন তৈরি করে, যা লার্ভার পাকস্থলীতে গিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে লার্ভা মেরে ফেলে। তবে মানুষ, গবাদি পশুসহ অন্যান্য প্রাণীর ওপর এর ক্ষতিকর কোনো প্রভাব না থাকায় একে সম্পূর্ণ নিরাপদ বিবেচনা করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা বিটিআইকে পরিবেশবান্ধব কীটনাশক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। বহু দেশ দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক বায়োপেস্টিসাইড সফলভাবে ব্যবহার করছে। বিটিআইয়ের পাশাপাশি লাইসানিব্যাসিলাস স্পেরিকাস (এলএস) নামের আরেকটি ব্যাকটেরিয়াও কিউলেক্সসহ অন্যান্য মশা দমনে সফলভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।

মশা নিধনের জন্য সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস কম্পানি থেকে বিটিআই ক্রয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। কেননা এই আমদানীকৃত পণ্যের কার্যকারিতা, পরিবেশগত প্রভাব, এমনকি দেশে এর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট তথ্য নেই। এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিটিআই আমদানিপ্রক্রিয়া ঘিরে ভুয়া সনদ, জাল কাগজপত্র এবং চীনা পণ্যকে সিঙ্গাপুরের বলে চালিয়ে দেওয়ার মতো কেলেঙ্কারি সামনে আসে। এতে প্রমাণিত হয় বিদেশনির্ভর ব্যবস্থার ভেতর কতটা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা লুকিয়ে থাকে। শুধু অর্থ অপচয় নয়, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত আমদানি জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় জৈবনিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এই মুহূর্তে জরুরি প্রশ্ন, আমরা কি নিজেরাই এই প্রযুক্তি ও পণ্য তৈরি করতে পারি না? কেন নিজেদের বিজ্ঞানী ও গবেষণাগারকে যথেষ্ট আস্থা ও বিনিয়োগ দিতে পারছি না?

মশা নিধনে বিটিআই : দেশেই উৎপাদন সম্ভববৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, বিটিআইয়ের নানা স্ট্রেইন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মাটি ও জলাশয়ে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করা স্ট্রেইন সেই এলাকার মশা দমনে বিদেশ থেকে আনা স্ট্রেইনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। কারণ স্থানীয় স্ট্রেইন বছরের পর বছর ধরে সেই অঞ্চলের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, জলাশয়ের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং স্থানীয় মশার প্রজাতির সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে জীববৈচিত্র্যকে সামঞ্জস্য গড়ে তোলে, যা বহিরাগত স্ট্রেইনের পক্ষে সহজে অর্জন করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের জলাভূমি, ডোবা, খাল-বিল, ধানক্ষেত ও অন্যান্য কৃষিজমিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর সম্ভাবনাময় বিটিআই স্ট্রেইন বিদ্যমান। সেগুলো সংগ্রহ, বিশুদ্ধকরণ ও মাননির্ধারণের মাধ্যমে সহজেই দেশীয় বায়োপেস্টিসাইড গড়ে তুলতে পারিপ্রয়োজন শুধু দূরদর্শী নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং তুলনামূলকভাবে সামান্য বিনিয়োগ।

সম্ভাবনার ঘাটতি এখানে নয়, ঘাটতি নীতি সহায়তায় ও বিনিয়োগ ইচ্ছায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে বিটিআই ব্যাকটেরিয়া, বায়োপেস্টিসাইড ও মশাবাহক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে দক্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানী রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাকাজ করেছেন, আবার বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শেষে দেশে ফিরে কাজ করতে আগ্রহী তরুণ বিজ্ঞানীদেরও সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তাঁদের জন্য আধুনিক ল্যাব, স্থিতিশীল অর্থায়ন ও নীতিগত প্রণোদনার ঘাটতির কারণে এই মানবসম্পদকে কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এখনই সময় রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে পরিষ্কার বার্তা তোলারমশা নিধনের প্রযুক্তি আমাদের আমদানিযোগ্য পণ্য নয়, বরং দেশীয় উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের সুযোগ

দেশীয় বিটিআইভিত্তিক বায়োপেস্টিসাইড শিল্প গড়ে তুলতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমে প্রয়োজন সারা দেশের জলাভূমি, মাটি, অন্যান্য স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সম্ভাবনাময় বিটিআই ও এলএস স্ট্রেইন সংগ্রহ, তাদের নির্ভুল শনাক্তকরণ ও ল্যাবরেটরি পর্যায়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং এর মধ্যে সর্বোচ্চ কার্যকর স্ট্রেইন নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত স্ট্রেইনকে ভিত্তি করে একটি মানসম্পন্ন বায়োপেস্টিসাইড গবেষণাগার গড়ে তুলতে হবে; যেখানে সংরক্ষণ, ফার্মেন্টেশন, স্পোর শুকানো এবং বিভিন্ন ফর্মুলেশন তৈরির সুযোগ থাকবে। তৃতীয় ধাপে অপেক্ষাকৃত স্বল্প খরচে একটি পাইলট স্কেলের উৎপাদন ইউনিট স্থাপন ছাড়া বড় ধরনের ঝুঁকি নেই। পাঁচ থেকে ১০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ দিয়েই এমন একটি কারখানা দাঁড় করানো সম্ভব, যা পরবর্তী সময়ে চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারণযোগ্য। সর্বশেষ ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মশাক্রান্ত শহরগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে মাঠ পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণিত কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা।

চসিক একবারেই প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে বিদেশি বিটিআই কিনেছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর নীতির ফল। অথচ পাঁচ থেকে ১০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ দিয়েই সম্পূর্ণ দেশীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে একটি আধুনিক বায়োপেস্টিসাইড শিল্প দাঁড় করানো সম্ভব, যা দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। স্থানীয় সরকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে জাতীয় এক বায়োপেস্টিসাইড উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন কিছু নয়। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ কিংবা জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম থেকে অনুদান ও স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগও জোরালোভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি বিটিআই পণ্য প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে। মায়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ বাহকবাহিত রোগের মারাত্মক চাপে রয়েছে; যেখানে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বায়োপেস্টিসাইডের বড় ধরনের বাজার ও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভারত, থাইল্যান্ড, চীন তাদের বিটিআই পণ্য এসব দেশে সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের কম উৎপাদন খরচ ও উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু এই শিল্পের জন্য সুবিধাজনক। এভাবে একটি দেশীয় বায়োপেস্টিসাইড শিল্প গড়ে উঠলে শুধু মশা নিধনের হাতিয়ার হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে এক রপ্তানিমুখী সবুজ শিল্প খাত গড়ে উঠবে, যা কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় দুটিই নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে বিটিআই পণ্য উৎপাদনে অনুকূল পরিবেশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ এই শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিতে সক্ষম। ফলাফল হিসেবে একদিকে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ থুলে যাবেএককথায় এটি হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ সবুজ শিল্প বিপ্লব

জনস্বাস্থ্য ছাড়াও কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে বায়োপেস্টিসাইডের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার সহায়তায় বাকৃবির কীটতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০৯টি বায়োপেস্টিসাইড নিবন্ধিত রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে জৈব কীটনাশকের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফেরোমন ও অন্যান্য সেমিওকেমিক্যাল, উদ্ভিদজাত (বোটানিক্যাল) পণ্যই বেশি এবং মাইক্রোবিয়াল বায়োপেস্টিসাইডের সংখ্যা খুবই নগণ্য। জৈব কীটনাশক এখনো মোট কীটনাশক বাজারের তুলনায় ছোট অংশ হলেও নিবন্ধিত পণ্যের সংখ্যা, সরকারি বিভিন্ন নীতি ও বেসরকারি কম্পানির আগ্রহ থেকে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট, ফেরোমন এবং উদ্ভিদজাত কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ডোবার পাশে বসার কথাটি রূপকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন সমাধান আমাদের দোরগোড়ায়মাটিতে, জলাশয়ে, গবেষণাগারে এবং বিজ্ঞানীদের মেধায়। প্রয়োজন শুধু দেখার চোখ ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা। মশা দমনে বিটিআই বা অন্য মশাখেকো ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহারের প্রযুক্তি ঠিক তেমনই একটি সমাধান। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহই ছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই বছরে ডেঙ্গুতে অন্তত চার শর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানের সারসংক্ষেপ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সারা বছরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ দুই হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে ৪১২ থেকে ৪১৩ জন মারা গেছে, যা ২০২৪ সালের ৫৭৫ জন মৃত্যুর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক মৃত্যু। চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মশার কামড়ে প্রতিবছর শত শত মানুষের মৃত্যু যখন আমাদের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে, তখন বিদেশি কম্পানির ওপর আস্থা রেখে শুধু আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধির কোনো নৈতিক বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এখন সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার, আমরা কি বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে অনিশ্চিত আমদানির ওপর ভর করে থাকব, নাকি নিজেদের বিজ্ঞানী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মেড ইন বাংলাদেশ বায়োপেস্টিসাইডের এক নতুন অধ্যায় শুরু করব? সুযোগ এখনো হাতের মুঠোয়। যদি এই মুহূর্তে আমরা ব্যর্থ হই, তবে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েও যে বাস্তব সমাধান পাইনি, ভবিষ্যতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই সময় এসেছে, নিজেদের একটি আত্মনির্ভরশীল ও পরিবেশবান্ধব মশা নিধন ব্যবস্থা গড়ে তোলার।

লেখক : অধ্যাপক, কীটতত্ত্ব বিভাগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

বিটি ও বায়োপেস্টিসাইড বিশেষজ্ঞ

সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতা যখন অনেক সমস্যার কারণ

ড. নিয়াজ আহম্মেদ

সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতা যখন অনেক সমস্যার কারণ

সমাজ যে সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাকে আমরা সহজভাবে সমাজকাঠামো বলি। একটি অবকাঠামো যেমন ইট, বালু, সিমেন্ট, কাঠ কিংবা অন্য কিছুর ওপর ভর করে থাকে, তেমনি সমাজ টিকে থাকে তার সামাজিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। ধরুন, আপনি অপরিমিত উপাদান দিয়ে একটি ভবন তৈরি করলেন। কিন্তু ভবনটি বেশিদিন টিকে থাকবে না। আপনি অস্বস্তি অনুভব করবেন এবং প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করবেন। সমাজের অবস্থাও তাই। সমাজের কাঠামো যদি ঠিক না থাকে, তাহলে সমাজ ভেঙে পড়ে, সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা সমাজে অনেক সমস্যার জন্ম দেয়। আমরা ইচ্ছা করলেও সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারি না।

আমাদের সমাজকাঠামো ঠিক রাখাই এখানে বড় কাজ। সমাজকাঠামো অনেকগুলো উপাদানের সমষ্টি। সামাজিক মূল্যবোধ, সামাজিক রীতিনীতি, আদর্শ, আইন, ধর্ম, নৈতিক মানদণ্ড ইত্যাদি উপাদান দিয়ে গঠিত। এগুলোর ভিত্তিতেই একটি সমাজে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির, দলের সঙ্গে দলের, সমষ্টির সঙ্গে সমষ্টির এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্ক যদি শুধু সাময়িক স্বার্থ কিংবা প্রয়োজনের ভিত্তিতে তৈরি হতো, তাহলে সমাজ পুরোটাই ভেঙে পড়ত। কিন্তু আমরা লক্ষ করি যে আমাদের সামাজিক সম্পর্কের মধ্যে যথেষ্ট গলদ তৈরি হচ্ছে। আমরা কেন যেন অতি মাত্রায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছি। আমরা শুধু ছুটছি আর ছুটছি, কিন্তু কোথায় থামতে হবে, তা জানি না। আমাদের যোগাযোগ মাধ্যম এতটা ভালো হওয়া সত্ত্বেও আমরা একে অপরের খোঁজখবর পর্যন্ত রাখছি না। আবার এই আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটাচ্ছি। যেখানে এক মিনিটে কারো অবস্থান এবং অবস্থা জানা সম্ভব, সেখানে আমরা কেউ মরে পচে গন্ধ বের হওয়ার পরও আমাদের নজরে আসছে না। আমাদের একজন সম্ভাবনাময় মেধাবী চিকিৎসক মারা যাওয়ার তিন দিন পর তাঁর গন্ধময় লাশ আমরা উদ্ধার করি। এই তিন দিন কি তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব ছিল না, যারা তাঁর বাসায় গিয়ে একটু খোঁজখবর নিতে পারত। তাঁর কর্মস্থল এবং বাসা একদম কাছাকাছি ছিল। ধরে নিলাম পরিবারের সদস্যরা দূরে থাকে, কিন্তু তাঁর সহকর্মী, কর্মস্থলের অভিভাবক কিংবা অন্য কেউ কি পারত না তাঁর বাসায় গিয়ে তাঁর অবস্থা জানতে। কী কারণে মারা গেছেন সেটি অন্য বিষয়, কিন্তু আমাদের ভাবার বিষয় অন্য জায়গা, যেখানে প্রতি মুহূর্তে একজনের খবরাখবর রাখা যায়, অথচ তিন দিন হয়ে গেলেও রাখছি না। ঠিক একইভাবে কয়েক মাস আগে একজন বয়স্ক মহিলার লাশ উদ্ধার করা হয়, যাঁর ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষিত। ঘটনাটি আমাদের অনেককে নাড়া দিয়েছিল। সবকিছুই সামাজিক সম্পর্কের অবনতি এবং সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতা। আমাদের সনাতন যোগাযোগ মাধ্যমের তুলনায় আধুনিক এবং সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়া সত্ত্বেও আমরা সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে।

সামাজিক মূল্যবোধ, রীতিনীতি সমাজের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বর্তায় ও রূপান্তরিত হয়ে সমাজ টিকে থাকে এবং সমাজের মধ্যে সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি মজবুত হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে আজ সেটি কমে যাচ্ছে কিংবা আমরা তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। এ ছাড়া আমাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারছে না। আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবও অন্যতম কারণ। একসময়ে আমাদের পাশের বাসা, পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে অনেক সুন্দর সম্পর্ক ছিল। আমরা প্রয়োজনে ছোট বাচ্চাদের প্রতিবেশী কারো বাসায় রেখে নিজের কাজে যেতাম। কিন্তু আজ আমরা তা পারছি না। বিশেষ করে কন্যাশিশুদের ক্ষেত্রে এটি একদম সম্ভব নয়। এমনকি আজ নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের কাছেও কন্যাশিশু নিরাপদ নয়। আমরা এমন এক সমাজে বসবাস করছি, যেখানে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা, মতবিনিময়, ভাবের আদান-প্রদান, মুখোমুখি আলাপ-আলোচনা অনেক কমে যাচ্ছে; যার পরিণতি আজকে মরে গেলেও কেউ খোঁজখবর না রাখার সমাজ। সবার কাছে আজ বড় প্রশ্ন, আমরা তো আগে এমন ছিলাম না। প্রযুক্তিজ্ঞানে আমরা দক্ষ ছিলাম না সত্য, কিন্তু সামাজিক সম্পর্কে আমরা ছিলাম অনেক ভালো। তবে কি প্রযুক্তি আমাদের দূরে সরিয়ে রেখেছে? একদম না। কেননা প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে অনেক সহজ করেছে, কিন্তু প্রযুক্তির ডামাডোলে আমরা নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি। আমরা ব্যর্থ হচ্ছি আমাদের সনাতন মূল্যবোধ এবং ধ্যান-ধারণাকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে। এবং আমরা নিজেরাও তা ধারণ করতে ব্যর্থ হচ্ছি; যার চরম পরিণতি সামাজিক সম্পর্কের দারুণ অবক্ষয়, যা প্রকান্তরে সমাজকাঠামোর ভঙ্গুরতাকে ইঙ্গিত করে। আমরা একটি টেকসই সমাজকাঠামোর প্রত্যাশা করি, যেখানে প্রত্যেকে সঠিক মূল্যবোধ ধারণ ও লালন করবে। আমরা এমন এক সামাজিক সম্পর্কের আশা করি, যেখানে প্রত্যেকে প্রত্যেকের সঙ্গে একটি সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখবে। সেই সম্পর্ক শুধু কথা দিয়ে নয়, শুধু ছবি শেয়ার করে নয়, কারো ভালো মুহূর্তগুলো শুধু প্রদর্শন এবং স্মরণ করে নয়, বরং কারো বিপদে সত্যিকারভাবে পাশে থাকা, প্রয়োজনে কারো খোঁজখবর নেওয়া এবং একটি স্বার্থহীন সম্পর্ক বজায় রাখা। সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তি হবে এমন, যেখানে মূল্যবোধের লালন হবে, লালন হবে সামাজিক রীতিনীতির, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ। সমাজের মানুষের মধ্যে প্রাত্যহিক সম্পর্ক বজায় রাখার সামর্থ্য থেকে কোনোভাবেই যেন আমরা বিচ্যুত না হই। আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে যদি আমরা আমাদের মূল্যবোধগুলো পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে আমরা অনেকটা সফল হব বলে বিশ্বাস।                

লেখক : সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট