• ই-পেপার

ঢাকাগামী বাসের গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার ৯২ হাজার ইয়াবা

  • ৯৯৯-এ যাত্রীর ফোনে অভিযান

রংপুরে ১১ দলের সমাবেশ আজ

রংপুর অফিস
রংপুরে ১১ দলের সমাবেশ আজ

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ বন্ধ এবং উত্তরাঞ্চলের জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ করছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে নগরীর জিলা স্কুল মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের দাবি, সমাবেশে বিভাগের আট জেলা থেকে পাঁচ লাখ মানুষ এতে অংশ নেবেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এ ছাড়া এলডিপির সভাপতি অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন।

সমাবেশ উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে জিলা স্কুল মাঠ পরিদর্শন করেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। পরে সেখানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের দাবিগুলো তুলে ধরেন তাঁরা। 

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছে। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচি ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সড়কে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন শিবগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান (৭০)। তিনি রানীহাটী (নয়ালাভাঙ্গা) এলাকার মৃত গুদোড় মন্ডলের ছেলে। তিনি জেলার শিবগঞ্জ বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ির কাছে হেঁটে সড়ক পারাপারের সময় একটি মোটরসাইকেল ফজলুরকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে আহত হন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেলটি পালিয়ে যায়।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে। মোটরসাইকেল ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা ছলছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি। 

পানিবন্দি মানুষের পাশে এমপি শাহজাহান, ৫০০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
পানিবন্দি মানুষের পাশে এমপি শাহজাহান, ৫০০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে তিনি উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ইউনিয়ন এবং শাহপরীর দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এ সংসদ সদস্য।

পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের কথা শোনেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, টানা ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও নিচু এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থানের আহ্বান জানান।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা এমপির সঙ্গে পরিদর্শন করা হয়েছে। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাংসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, দ্বীপের পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত আরো বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে ত্রাণ পাঠানো হবে।

পরিদর্শনকালে টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

নতুন বউ রেখে প্রবাসে পাড়ি, দুই মাসেই লাশ হয়ে ফিরছেন সালথার শোয়াইব

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
নতুন বউ রেখে প্রবাসে পাড়ি, দুই মাসেই লাশ হয়ে ফিরছেন সালথার শোয়াইব

নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবক। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। দেশে এসে গত মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেন। তবে তার বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে গিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।

নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।

নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান। তাছাড়া ওই বাংলাদেশি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কম্পানির পক্ষ থেকে তার লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। 

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ পাঠাতে পারবে। সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধকর্মী হয়ে থাকলে আমরা লাশ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব।