• ই-পেপার

রংপুরে ১১ দলের সমাবেশ আজ

বিলের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

অনলাইন ডেস্ক
বিলের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর
প্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় পানিতে ডুবে ৭ বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার বেরুলিয়া উত্তরপাড়া এলাকার কচুয়া বিল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত শিশুরা হলো তানজিনা (৭) ও মারিয়া খাতুন। তানজিনা ওই এলাকার মো. আজিজুল হকের মেয়ে এবং মারিয়া খাতুন একই এলাকার মো. মাসিদুল ইসলামের মেয়ে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল থেকেই দুই শিশু নিখোঁজ ছিল। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান পাননি। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় বাড়ির পূর্ব পাশে অবস্থিত কচুয়া বিলে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন খবর দেন। পরে পরিবারের লোকজন দ্রুত বিল থেকে তাদের উদ্ধার করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুখলেসুর রহমান। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মৃত শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকাগামী বাসের গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার ৯২ হাজার ইয়াবা

৯৯৯-এ যাত্রীর ফোনে অভিযান

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
ঢাকাগামী বাসের গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার ৯২ হাজার ইয়াবা

কক্সবাজার থেকে ঢাকায় পাচারের উদ্দেশে যাত্রীবাহী একটি বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বহনের তথ্য আগে থেকেই পুলিশের কাছে ছিল। তবে কোন বাসে মাদকের চালানটি রয়েছে, তা নিশ্চিত ছিল না। এমন সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ এক যাত্রীর ফোনকল আসে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকাগামী একটি বাসের গোপন চেম্বার থেকে ৯২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে কক্সবাজার বাস টার্মিনালে কক্সবাজার সদর মডেল থানার একটি বিশেষ অভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় বাসটির হেলপারকে আটক করা হলেও চালক পালিয়ে যান।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, একটি ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করা হবে। এ তথ্যের পর রাত ৮টা থেকে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়।

তিনি জানান, নজরদারির এক পর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ এক যাত্রীর ফোনকলের মাধ্যমে নির্দিষ্ট একটি বাসে ইয়াবা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পুলিশ দ্রুত সেন্ট মার্টিন ট্রাভেলসের ঢাকাগামী বাসে অভিযান চালায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাসটির চালক নাজমুল (বাড়ি মাদারীপুর) কৌশলে পালিয়ে যান। তবে ঘটনাস্থল থেকে বাসটির হেলপার রাতুল ইসলামকে (বাড়ি সিলেট) আটক করা হয়।

আটক রাতুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসটির একটি সিটের নিচে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে তল্লাশি চালিয়ে ৯২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, জব্দ বাস ও আটক হেলপারকে থানায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ চালানের সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচারকারী চক্র জড়িত।

উদ্ধার ইয়াবার উৎস, গন্তব্য, অর্থদাতা, রিসিভার ও পলাতক চালক নাজমুলসহ চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, একই দিনে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পৃথক আরেকটি অভিযানে একটি মালবাহী পিকআপ থেকে আরো ৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে একদিনে সদর থানার দুটি অভিযানে মোট ১ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে। পৃথক এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ব্যবসায়ী নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সড়কে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন শিবগঞ্জ বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান (৭০)। তিনি রানীহাটী (নয়ালাভাঙ্গা) এলাকার মৃত গুদোড় মন্ডলের ছেলে। তিনি জেলার শিবগঞ্জ বাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়ির কাছে হেঁটে সড়ক পারাপারের সময় একটি মোটরসাইকেল ফজলুরকে ধাক্কা দিলে তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে আহত হন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই মোটরসাইকেলটি পালিয়ে যায়।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেছে। মোটরসাইকেল ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা ছলছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি। 

পানিবন্দি মানুষের পাশে এমপি শাহজাহান, ৫০০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
পানিবন্দি মানুষের পাশে এমপি শাহজাহান, ৫০০ পরিবারে ত্রাণ বিতরণ

কক্সবাজারের টেকনাফে টানা ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে তিনি উপজেলার হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাং ইউনিয়ন এবং শাহপরীর দ্বীপের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন এ সংসদ সদস্য।

পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের কথা শোনেন শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, টানা ভারি বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও নিচু এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থানের আহ্বান জানান।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা এমপির সঙ্গে পরিদর্শন করা হয়েছে। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাংসহ বিভিন্ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

সেন্ট মার্টিন প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, দ্বীপের পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত আরো বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে সেখানে ত্রাণ পাঠানো হবে।

পরিদর্শনকালে টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উপজেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।