মশা নিধনে পরিবেশবান্ধব ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলাস থুরিনজেনসিস ইসরায়েলেনসিস (বিটিআই) এবং এর দেশীয় উৎপাদন সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। বিটিআই প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে বসবাসকারী একটি পরিবেশবান্ধব ব্যাকটেরিয়া, যা মশার লার্ভা ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ হিসেবে স্বীকৃত। স্পোর গঠনের সময় এই ব্যাকটেরিয়া একাধিক বিষাক্ত মশানাশক প্রোটিন তৈরি করে, যা লার্ভার পাকস্থলীতে গিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বিষক্রিয়া ঘটিয়ে লার্ভা মেরে ফেলে। তবে মানুষ, গবাদি পশুসহ অন্যান্য প্রাণীর ওপর এর ক্ষতিকর কোনো প্রভাব না থাকায় একে সম্পূর্ণ নিরাপদ বিবেচনা করা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা বিটিআইকে পরিবেশবান্ধব কীটনাশক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। বহু দেশ দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক বায়োপেস্টিসাইড সফলভাবে ব্যবহার করছে। বিটিআইয়ের পাশাপাশি লাইসানিব্যাসিলাস স্পেরিকাস (এলএস) নামের আরেকটি ব্যাকটেরিয়াও কিউলেক্সসহ অন্যান্য মশা দমনে সফলভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
মশা নিধনের জন্য সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্যালেন্ট বায়োসায়েন্সেস কম্পানি থেকে বিটিআই ক্রয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। কেননা এই আমদানীকৃত পণ্যের কার্যকারিতা, পরিবেশগত প্রভাব, এমনকি দেশে এর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন কতটা হয়েছে, তা নিয়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট তথ্য নেই। এর আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিটিআই আমদানিপ্রক্রিয়া ঘিরে ভুয়া সনদ, জাল কাগজপত্র এবং চীনা পণ্যকে সিঙ্গাপুরের বলে চালিয়ে দেওয়ার মতো কেলেঙ্কারি সামনে আসে। এতে প্রমাণিত হয় বিদেশনির্ভর ব্যবস্থার ভেতর কতটা অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা লুকিয়ে থাকে। শুধু অর্থ অপচয় নয়, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত আমদানি জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় জৈবনিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এই মুহূর্তে জরুরি প্রশ্ন, আমরা কি নিজেরাই এই প্রযুক্তি ও পণ্য তৈরি করতে পারি না? কেন নিজেদের বিজ্ঞানী ও গবেষণাগারকে যথেষ্ট আস্থা ও বিনিয়োগ দিতে পারছি না?
বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, বিটিআইয়ের নানা স্ট্রেইন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মাটি ও জলাশয়ে স্বাভাবিকভাবে উপস্থিত থাকে, বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন দেশে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় পরিবেশ থেকে সংগ্রহ করা স্ট্রেইন সেই এলাকার মশা দমনে বিদেশ থেকে আনা স্ট্রেইনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। কারণ স্থানীয় স্ট্রেইন বছরের পর বছর ধরে সেই অঞ্চলের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, জলাশয়ের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং স্থানীয় মশার প্রজাতির সঙ্গে অভিযোজিত হয়ে জীববৈচিত্র্যকে সামঞ্জস্য গড়ে তোলে, যা বহিরাগত স্ট্রেইনের পক্ষে সহজে অর্জন করা সম্ভব হয় না। বাংলাদেশের জলাভূমি, ডোবা, খাল-বিল, ধানক্ষেত ও অন্যান্য কৃষিজমিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রচুর সম্ভাবনাময় বিটিআই স্ট্রেইন বিদ্যমান। সেগুলো সংগ্রহ, বিশুদ্ধকরণ ও মাননির্ধারণের মাধ্যমে সহজেই দেশীয় বায়োপেস্টিসাইড গড়ে তুলতে পারি—প্রয়োজন শুধু দূরদর্শী নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং তুলনামূলকভাবে সামান্য বিনিয়োগ।
সম্ভাবনার ঘাটতি এখানে নয়, ঘাটতি নীতি সহায়তায় ও বিনিয়োগ ইচ্ছায়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানে বিটিআই ব্যাকটেরিয়া, বায়োপেস্টিসাইড ও মশাবাহক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে দক্ষ গবেষক ও বিজ্ঞানী রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাকাজ করেছেন, আবার বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা শেষে দেশে ফিরে কাজ করতে আগ্রহী তরুণ বিজ্ঞানীদেরও সংখ্যা কম নয়। কিন্তু তাঁদের জন্য আধুনিক ল্যাব, স্থিতিশীল অর্থায়ন ও নীতিগত প্রণোদনার ঘাটতির কারণে এই মানবসম্পদকে কাঙ্ক্ষিতভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এখনই সময় রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের সামনে পরিষ্কার বার্তা তোলার—মশা নিধনের প্রযুক্তি আমাদের ‘আমদানিযোগ্য পণ্য’ নয়, বরং ‘দেশীয় উদ্ভাবন ও শিল্পায়নের সুযোগ’।
দেশীয় বিটিআইভিত্তিক বায়োপেস্টিসাইড শিল্প গড়ে তুলতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রথমে প্রয়োজন সারা দেশের জলাভূমি, মাটি, অন্যান্য স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সম্ভাবনাময় বিটিআই ও এলএস স্ট্রেইন সংগ্রহ, তাদের নির্ভুল শনাক্তকরণ ও ল্যাবরেটরি পর্যায়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং এর মধ্যে সর্বোচ্চ কার্যকর স্ট্রেইন নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত স্ট্রেইনকে ভিত্তি করে একটি মানসম্পন্ন বায়োপেস্টিসাইড গবেষণাগার গড়ে তুলতে হবে; যেখানে সংরক্ষণ, ফার্মেন্টেশন, স্পোর শুকানো এবং বিভিন্ন ফর্মুলেশন তৈরির সুযোগ থাকবে। তৃতীয় ধাপে অপেক্ষাকৃত স্বল্প খরচে একটি পাইলট স্কেলের উৎপাদন ইউনিট স্থাপন ছাড়া বড় ধরনের ঝুঁকি নেই। পাঁচ থেকে ১০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ দিয়েই এমন একটি কারখানা দাঁড় করানো সম্ভব, যা পরবর্তী সময়ে চাহিদা অনুযায়ী সম্প্রসারণযোগ্য। সর্বশেষ ধাপে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ মশাক্রান্ত শহরগুলোতে প্রাথমিক পর্যায়ে মাঠ পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণিত কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা যাচাই করা।
চসিক একবারেই প্রায় পৌনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে বিদেশি বিটিআই কিনেছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভর নীতির ফল। অথচ পাঁচ থেকে ১০ কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ দিয়েই সম্পূর্ণ দেশীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে একটি আধুনিক বায়োপেস্টিসাইড শিল্প দাঁড় করানো সম্ভব, যা দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে। স্থানীয় সরকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে জাতীয় এক ‘বায়োপেস্টিসাইড উদ্যোগ’ গ্রহণ করলে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন কিছু নয়। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ কিংবা জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম থেকে অনুদান ও স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগও জোরালোভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাংলাদেশি বিটিআই পণ্য প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে। মায়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুসহ বাহকবাহিত রোগের মারাত্মক চাপে রয়েছে; যেখানে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বায়োপেস্টিসাইডের বড় ধরনের বাজার ও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভারত, থাইল্যান্ড, চীন তাদের বিটিআই পণ্য এসব দেশে সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের কম উৎপাদন খরচ ও উষ্ণ-আর্দ্র জলবায়ু এই শিল্পের জন্য সুবিধাজনক। এভাবে একটি দেশীয় বায়োপেস্টিসাইড শিল্প গড়ে উঠলে শুধু মশা নিধনের হাতিয়ার হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে এক রপ্তানিমুখী সবুজ শিল্প খাত গড়ে উঠবে, যা কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় দুটিই নিশ্চিত করবে। বাংলাদেশে বিটিআই পণ্য উৎপাদনে অনুকূল পরিবেশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ এই শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিতে সক্ষম। ফলাফল হিসেবে একদিকে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ থুলে যাবে—এককথায় এটি হতে পারে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘সবুজ শিল্প বিপ্লব’।
জনস্বাস্থ্য ছাড়াও কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে বায়োপেস্টিসাইডের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার সহায়তায় বাকৃবির কীটতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে কমপক্ষে ১০৯টি বায়োপেস্টিসাইড নিবন্ধিত রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে জৈব কীটনাশকের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফেরোমন ও অন্যান্য সেমিওকেমিক্যাল, উদ্ভিদজাত (বোটানিক্যাল) পণ্যই বেশি এবং মাইক্রোবিয়াল বায়োপেস্টিসাইডের সংখ্যা খুবই নগণ্য। জৈব কীটনাশক এখনো মোট কীটনাশক বাজারের তুলনায় ছোট অংশ হলেও নিবন্ধিত পণ্যের সংখ্যা, সরকারি বিভিন্ন নীতি ও বেসরকারি কম্পানির আগ্রহ থেকে বোঝা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট, ফেরোমন এবং উদ্ভিদজাত কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ‘ডোবার পাশে বসার’ কথাটি রূপকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন সমাধান আমাদের দোরগোড়ায়—মাটিতে, জলাশয়ে, গবেষণাগারে এবং বিজ্ঞানীদের মেধায়। প্রয়োজন শুধু দেখার চোখ ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা। মশা দমনে বিটিআই বা অন্য মশাখেকো ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহারের প্রযুক্তি ঠিক তেমনই একটি সমাধান। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহই ছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই বছরে ডেঙ্গুতে অন্তত চার শর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানের সারসংক্ষেপ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সারা বছরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ দুই হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে ৪১২ থেকে ৪১৩ জন মারা গেছে, যা ২০২৪ সালের ৫৭৫ জন মৃত্যুর পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক মৃত্যু। চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মশার কামড়ে প্রতিবছর শত শত মানুষের মৃত্যু যখন আমাদের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে, তখন বিদেশি কম্পানির ওপর আস্থা রেখে শুধু আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধির কোনো নৈতিক বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এখন সময় সিদ্ধান্ত নেওয়ার, আমরা কি বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে অনিশ্চিত আমদানির ওপর ভর করে থাকব, নাকি নিজেদের বিজ্ঞানী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পোদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বায়োপেস্টিসাইডের এক নতুন অধ্যায় শুরু করব? সুযোগ এখনো হাতের মুঠোয়। যদি এই মুহূর্তে আমরা ব্যর্থ হই, তবে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েও যে বাস্তব সমাধান পাইনি, ভবিষ্যতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই সময় এসেছে, নিজেদের একটি আত্মনির্ভরশীল ও পরিবেশবান্ধব মশা নিধন ব্যবস্থা গড়ে তোলার।
লেখক : অধ্যাপক, কীটতত্ত্ব বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ
বিটি ও বায়োপেস্টিসাইড বিশেষজ্ঞ





উন্নত বিশ্বের এসব আধুনিক ব্যাংকিং সেবার কিছু প্রোডাক্ট অনেক উন্নয়নশীল দেশের ব্যাংকিং খাত অনুসরণ করলেও আমাদের দেশের ব্যাংকিং খাত এসবের ধারেকাছেও নেই। আমাদের দেশের ব্যাংক মূলত সঞ্চয় সংগ্রহ এবং ঋণদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সম্প্রতি অনেক ব্যাংক সঞ্চয় সংগ্রহের কাজটি ঠিক রাখলেও ঋণদান কার্যক্রমে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। ঋণ প্রদানের বিকল্প হিসেবে অনেক ব্যাংকই এখন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করছে। কিছু ব্যাংক এই ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করে তাদের বার্ষিক মুনাফার লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে। ট্রেজারি বন্ডে ব্যাংকের ব্যাপক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে এই বন্ডের উচ্চ সুদের হার এবং সর্বনিম্ন বা শূন্য খেলাপি ঝুঁকি। কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে ট্রেজারি বন্ডে গড় সুদের হার ছিল ১২ শতাংশ বা তার বেশি। সম্প্রতি এই সুদের হার কিছুটা হ্রাস পেলেও এখনো ১০ শতাংশের কাছাকাছি বলেই জেনেছি। ট্রেজারি বন্ডে সুদের হার এত বেশি হবে কেন। ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ১০ শতাংশ মূলত বাণিজ্যিক ঋণের ১৫ শতাংশ সুদের সমান বা তার বেশি। কেননা ট্রেজারি বন্ড হচ্ছে সার্বভৌম বিনিয়োগ খাত, যেখানে খেলাপি বা ডিফল্ট ঝুঁকি নেই বললেই চলে। ফলে সুদের হার নির্ধারণে ঝুঁকির মূল্য বা রিস্ক প্রিমিয়াম থাকে না।