• ই-পেপার

পাকিস্তানে ওআইসির নারী বিষয়ক সম্মেলন শুরু

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৭৯

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

নিশ্চয়ই আমি তোমাদের দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়। যেন আল্লাহ তোমার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিগুলো মার্জনা করেন, তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করেন এবং তোমাকে সরল পথে পরিচালিত করেন। আল্লাহ তোমাকে বলিষ্ঠ সাহায্য দান করেন। (সুরা : ফাতহ, আয়াত : ১-৩)

পবিত্র কোরআনের ৪৮তম সুরা ফাতহ। মদিনায় অবতীর্ণ এই সুরায় চারটি রুকু ও ২৯টি আয়াত রয়েছে। সুরায় আল্লাহ মুসলমানদের মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ দিয়েছেন।

শিক্ষা ও বিধান

১. সুরা ফাতহ সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেন, গত রাতে আমার ওপর এমন একটি সুরা অবতীর্ণ হয়েছে, যা আমার কাছে দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সব বস্তু থেকে উত্তম।

২. প্রসিদ্ধ মত হলো, আয়াতে বিজয় দ্বারা মক্কা বিজয় উদ্দেশ্য। কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমরা (সাহাবিরা) বিজয় বলতে হুদাইবিয়ার সন্ধি বুঝে থাকি।

৩. বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে এক হাজার ৪০০ সাহাবি ছিলেন। তাঁরা বায়াতে রিদওয়ানে অংশ নেন।

৪. বাহ্যত হুদাইবিয়ার সন্ধি পরাজয় বা নতিস্বীকার ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (সা.) কসম খেয়ে বলেছেন এটা বিজয়। বিজয় বলার কারণ হলো এই চুক্তি মুসলমানদের নির্বিঘ্নে দ্বিন প্রচারের সুযোগ এনে দিয়েছিল।

৫. আয়াতে আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে পাপমুক্ত হওয়ার এবং মুমিনদের জান্নাতের জন্য ঘোষণা করেছেন।

  (তাফসিরে ইবনে কাসির : ১০/২৯৯)

মনীষীর কথা

মনীষীর কথা

মা-বাবা অতিশয় বৃদ্ধ হলেও তাদের ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া উচিত।

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.)

প্রশ্ন-উত্তর

সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন-উত্তর

রাগ করে অন্য মহল্লায় নামাজ পড়া

প্রশ্ন : আমাদের এলাকার একজন লোক আছে, তার সঙ্গে কারো বনিবনা হয় না। মসজিদে এলেও মুসল্লিদের সঙ্গে ঝগড়া হয়, তাই মাঝে মাঝে সে অনেক দিনের জন্য রাগ করে অন্য মহল্লায় গিয়ে নামাজ পড়ে। আমার প্রশ্ন হলো, যদি কেউ বিদ্বেষী হয়ে নিজ মহল্লার মসজিদ রেখে অন্য মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করে তাহলে তার বিধান কী?

      আলাউদ্দীন, কক্সবাজার

উত্তর : ইসলামের দৃষ্টিতে যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো মুসলমানের জন্য অন্য মুসলমান ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ রাখা হারাম। এতে বিদ্বেষী ব্যক্তি গুনাহগার হবে। আর প্রত্যেক মুসল্লির ওপর নিজ মহল্লার মসজিদের হক আছে। তার জন্য নিজ মহল্লার মসজিদেই নামাজ আদায় করা বেশি সওয়াবের কাজ। এতৎসত্ত্বেও কেউ বিদ্বেষী হয়ে নিজ মহল্লার মসজিদ ত্যাগ করে অন্য মসজিদে নামাজ আদায় করলে সে মহল্লার মসজিদের অধিক সওয়াব থেকে বঞ্চিত রইল। আর সে সীমা লঙ্ঘনকারী না হলে তার জন্য মহল্লার মুসল্লিদের সঙ্গে মীমাংসা করে সেখানেই নামাজ আদায় করা আবশ্যক। (বুখারি, হাদিস : ৬০৬৪, ফাতহুল বারি : ১০/৫৯২, রদ্দুল মুহতার : ১/৬৫৯)

 

ইসলামের দৃষ্টিতে

পানিবন্দি রাস্তায় গাড়ি চালানোর আদব

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা
পানিবন্দি রাস্তায় গাড়ি চালানোর আদব

বর্ষাকালের টানা বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে শহরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় একজন চালকের সামান্য অসচেতনতা যেমন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তেমনি পথচারী, দোকানদার ও অন্যান্য মানুষের দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিতে পারে। অতএব সে সময় একজন মুমিন যখন চালকের ভূমিকায় থাকবেন, তখন জনদুর্ভোগ লাঘব ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ইসলামের দৃষ্টিতে তাঁর কিছু করণীয় থাকে। নিম্নে সে করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো

ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট না দেওয়া : পানিবন্দি রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে কাদা ও নোংরা পানি ছিটকে পথচারী, দোকানদার বা অন্য যানবাহনের আরোহীদের গায়ে পড়ে, যা খুবই বিরক্তিকর বিষয়। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির মন থেকে না চাইতেও বদদোয়া এসে যায়। অতএব, মুমিন চালকদের উচিত এ রকম পরিস্থিতিতে যেন অন্যের কষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে অন্যকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয়ই তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ। (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৮)

এলোমেলো গাড়ি চালিয়ে ইচ্ছাকৃত যানজট সৃষ্টি করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলাও অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়ার শামিল। আর মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া ইসলামবিরোধী কাজ। রাসুল (সা.)  বলেছেন, প্রকৃত মুসলিম সেই, তার জিহ্বা ও হাত থেকে অপর মুসলমান নিরাপদে থাকে। (বুখারি, হাদিস : ১০)

ধীরে ও সতর্কভাবে গাড়ি চালানো : বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানির নিচে গর্ত, খোলা ম্যানহোল বা ভাঙা রাস্তা থাকতে পারে। তাই দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো নিজের ও অন্যের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কোরো না।

(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)

রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া : বন্যা বা ভারি বৃষ্টিতে গাছের ডাল, ইট, বাঁশ বা অন্যান্য প্রতিবন্ধক পড়ে থাকতে পারে। সাধ্য থাকলে সেগুলো সরিয়ে দেওয়াও একটি সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈমানের স্তর সত্তরের অধিক। তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা।

(তিরমিজি, হাদিস : ২৬১৪)

বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে এগিয়ে

যাওয়া : কোনো গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে, বৃদ্ধ, নারী বা শিশু পানিতে আটকে গেলে কিংবা কেউ দুর্ঘটনায় পড়লে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। এতে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য মেলে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহও ততক্ষণ তাঁর বান্দার সাহায্য করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)

মনে রাখা উচিত বর্ষাকালে পানিবন্দি সড়কে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো শুধু ট্রাফিক আইন মানার বিষয় নয়, এটি ইসলামী নৈতিকতারও অংশ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় মানুষের কল্যাণকামী হয়ে ধীরগতিতে চলা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া, যানজট না বাড়ানো, রাস্তার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোএসব কাজ আল্লাহর কাছে ইবাদত ও সওয়াবের মাধ্যম হতে পারে। একজন সচেতন মুসলিমের পরিচয় হলো তার উপস্থিতিতে মানুষ নিরাপদ থাকে এবং তার আচরণ মানুষের জন্য রহমত হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।