বর্ষাকালের টানা বৃষ্টিতে সাময়িকভাবে শহরের অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় একজন চালকের সামান্য অসচেতনতা যেমন দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, তেমনি পথচারী, দোকানদার ও অন্যান্য মানুষের দুর্ভোগও বাড়িয়ে দিতে পারে। অতএব সে সময় একজন মুমিন যখন চালকের ভূমিকায় থাকবেন, তখন জনদুর্ভোগ লাঘব ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় ইসলামের দৃষ্টিতে তাঁর কিছু করণীয় থাকে। নিম্নে সে করণীয়গুলো তুলে ধরা হলো—
ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে কষ্ট না দেওয়া : পানিবন্দি রাস্তায় দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে কাদা ও নোংরা পানি ছিটকে পথচারী, দোকানদার বা অন্য যানবাহনের আরোহীদের গায়ে পড়ে, যা খুবই বিরক্তিকর বিষয়। এ সময় আক্রান্ত ব্যক্তির মন থেকে না চাইতেও বদদোয়া এসে যায়। অতএব, মুমিন চালকদের উচিত এ রকম পরিস্থিতিতে যেন অন্যের কষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা। কারণ পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ অন্যায়ভাবে অন্যকে কষ্ট দিতে নিষেধ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের তাদের কৃত কোনো অন্যায় ছাড়াই কষ্ট দেয়, নিশ্চয়ই তারা বহন করবে অপবাদ ও সুস্পষ্ট পাপ।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৮)
এলোমেলো গাড়ি চালিয়ে ইচ্ছাকৃত যানজট সৃষ্টি করে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলাও অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়ার শামিল। আর মানুষকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দেওয়া ইসলামবিরোধী কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত মুসলিম সেই, তার জিহ্বা ও হাত থেকে অপর মুসলমান নিরাপদে থাকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১০)
ধীরে ও সতর্কভাবে গাড়ি চালানো : বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানির নিচে গর্ত, খোলা ম্যানহোল বা ভাঙা রাস্তা থাকতে পারে। তাই দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো নিজের ও অন্যের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আর পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা নিজ হাতে নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কোরো না।’
(সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ১৯৫)
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া : বন্যা বা ভারি বৃষ্টিতে গাছের ডাল, ইট, বাঁশ বা অন্যান্য প্রতিবন্ধক পড়ে থাকতে পারে। সাধ্য থাকলে সেগুলো সরিয়ে দেওয়াও একটি সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেছেন, ঈমানের স্তর সত্তরের অধিক। তার সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা।
(তিরমিজি, হাদিস : ২৬১৪)
বিপদে পড়া মানুষের সাহায্যে এগিয়ে
যাওয়া : কোনো গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে, বৃদ্ধ, নারী বা শিশু পানিতে আটকে গেলে কিংবা কেউ দুর্ঘটনায় পড়লে সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। এতে আল্লাহর রহমত ও সাহায্য মেলে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য করে, আল্লাহও ততক্ষণ তাঁর বান্দার সাহায্য করেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৬)
মনে রাখা উচিত বর্ষাকালে পানিবন্দি সড়কে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো শুধু ট্রাফিক আইন মানার বিষয় নয়, এটি ইসলামী নৈতিকতারও অংশ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় মানুষের কল্যাণকামী হয়ে ধীরগতিতে চলা, অন্যকে কষ্ট না দেওয়া, যানজট না বাড়ানো, রাস্তার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বিপদে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজ আল্লাহর কাছে ইবাদত ও সওয়াবের মাধ্যম হতে পারে। একজন সচেতন মুসলিমের পরিচয় হলো তার উপস্থিতিতে মানুষ নিরাপদ থাকে এবং তার আচরণ মানুষের জন্য রহমত হয়ে ওঠে। মহান আল্লাহ সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।