রাষ্ট্রীয় অপারেটর না থাকলে বেসরকারি মোবাইল কম্পানিগুলো ইচ্ছামতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফকির মাহবুব আনাম
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী

রাষ্ট্রীয় অপারেটর না থাকলে বেসরকারি মোবাইল কম্পানিগুলো ইচ্ছামতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।
ফকির মাহবুব আনাম
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রী

চট্টগ্রামে বন্যার পানি নামতে শুরু করতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। জেলায় ১৪ হাজার ২৮১টি বসতবাড়ি, এক হাজার ১৯০ কিলোমিটার সড়ক, ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট এবং ২১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছদাহা, নলুয়া, বাজালিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গতকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। উপজেলার ১৪৫টি ওয়ার্ড বন্যাকবলিত হয়েছিল। এর মধ্যে এখনো ১১৭টি ওয়ার্ড পানিতে প্লাবিত রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি। এসব এলাকার অনেক সড়ক এখনো পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। ছনুয়া ও ফুলছড়ি এলাকায় অনেক মাটির কাঁচাঘর ছিল, যার বেশির ভাগই বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন বন্যাকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য, কোনো মানুষ যেন না খেয়ে না থাকে। পুনর্বাসনের বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা করা হবে।’
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার সাদমান শহীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে এ বন্যায় ১৪ হাজার ২৮১টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার এক হাজার ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪৫টি সেতু ও কালভার্ট। পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদরাসাসহ ২১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি প্রাথমিক হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।’ গতকাল রবিবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।’ তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
বান্দরবানে বিধ্বস্ত সড়ক : বন্যা, পাহাড়ধস ও ভূমিধসে বান্দরবানের যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে কোথাও সড়ক ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে, কোথাও কালভার্ট ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অনেক জায়গায় পাহাড়ধসে সড়ক চাপা পড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা সদর থেকে দুর্গম রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় এ সংস্থার আওতায় প্রায় ৯০০ কিলোমিটার পাকা, কাঁচা ও ইউনিয়ন সড়ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্তত ২১ কিলোমিটার সড়ক এবং অসংখ্য ছোট-বড় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রদীপ দেওয়ান কালের কণ্ঠকে জানান, মাঠ পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় রয়েছে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার সড়ক। এর মধ্যে বান্দরবান-কেরানীহাট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, বান্দরবান-রাঙামাটি-বাঙ্গালখালিয়া সংযোগ সড়ক এবং বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের বিভিন্ন অংশ এখনো বন্যার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে অন্তত ৫৫ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে গেছে তিনটি আরসিসি সেতু ও সাতটি বেইলি ব্রিজ। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সচল করতে স্বল্প মেয়াদে প্রায় সাত কোটি টাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই পুনর্নির্মাণে আরো প্রায় ৪০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পাহাড়ি অবকাঠামোগুলো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক এবং বিস্তৃত অবকাঠামো নেটওয়ার্ক। পাহাড়ি জনপদে নির্মিত পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট এবং জনসেবামূলক স্থাপনাগুলোর বড় অংশই ক্ষতির মুখে পড়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার। রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ নেওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।
গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করপোরেট করদাতাদের জন্য খুব শিগগিরই ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। অনলাইনে উৎস কর কর্তনের পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮.১৭ শতাংশে নেমে এলেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারের প্রভাবে চলতি বছরের মে মাসে তা বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জোগান সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনরর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পৃথক পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিতে গঠিত বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কম্পানির মাধ্যমে ইকুইটি সহায়তাও দেওয়া হবে।
সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন রেজল্যুশন কৌশল, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রেডিট রিস্ক ব্যবস্থাপনা, জামানত মূল্যায়নের নতুন ব্যবস্থা এবং ঋণ পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ রয়েছে।
রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এসংক্রান্ত ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণও সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার শোকাহত মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় সংসদ চত্বরে চিরনিদ্রায় সমাহিত হলেন।
গতকাল রবিবার দুই দফা জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ জাতীয় সংসদের নির্ধারিত স্থানে সমাহিত করা হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাবেক এই স্পিকারের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি এক কন্যা নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমিরকে রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করলে সংসদের স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
আপসহীন এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আজ সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক : সাবেক এই স্পিকারের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণা করেন। পরে বাদ আসর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচের টানেলে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা, রাজনৈতিক নেতারা, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।
জানাজার শুরুতেই মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় সাবেক এই স্পিকারের স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।
এর আগে ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ জোহর মরহুমের প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ছিলেন সততা ও পেশাগত সুনামের অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, মক্কেল বা সহকর্মীর কাছ থেকে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। দলের প্রতি তিনি ছিলেন শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ।
জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলভি মুহাম্মদ আজিজ বক্স। জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি এলএলবি পাস করে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার এট ল সনদ লাভ করেন এবং দেশেই আইন পেশায় যোগ দেন।