• ই-পেপার

চট্টগ্রামে ১১৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

উক্তি

উক্তি

রাষ্ট্রীয় অপারেটর না থাকলে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলো ইচ্ছেমতো সেবার মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।

ফকির মাহবুব আনাম

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী

যুদ্ধ আর বিতর্ক ফিরিয়ে আনে যে লড়াই

নরওয়েকে বিদায় করে সেমিতে ইংল্যান্ড

নাজমুস সায়াদাত
যুদ্ধ আর বিতর্ক ফিরিয়ে আনে যে লড়াই

মেক্সিকো সিটির আকাশে তখন দুপুরের রোদ। আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে লাখো দর্শকের গর্জন। ইংল্যান্ডের গোলপোস্টের সামনে হঠাৎ উড়ে এলো বল। গোলরক্ষক পিটার শিলটন দুই হাত বাড়িয়ে বলটা যেই না ধরতে যাবেন, অমনি পাশেই লাফিয়ে উঠলেন পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চির ঝাঁকড়া চুলের এক খেলোয়াড়। মুহূর্তেই বল জড়িয়ে দিলেন জালে। ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা দেখেছেন, গোলটি মাথায় নয়, হাতে হয়েছে। তবে তিউনিশিয়ান রেফারি আলী বিন নাসেরের বাঁশি ততক্ষণে বেজে গেছে। পরে ডিয়েগো ম্যারাডোনা জানিয়েছিলেন, গোলের সময় বলে তাঁর মাথার ছোঁয়া ছিল সামান্য, বাকিটা ছিল ঈশ্বরের হাত। কয়েক মিনিট পরে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে ইংল্যান্ডের পাঁচ ফুটবলার ও গোলরক্ষককে কাটিয়ে এক অবিশ্বাস্য গোল করেন তিনি। ছিয়াশির বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সেদিন সেই দুই গোল করে ম্যারাডোনা শুধু ইংল্যান্ডকে হারাননি; তিনি যেন ইতিহাস, রাজনীতি আর জাতীয় অপমানের প্রতিশোধও নিয়েছিলেন। চার দশক পর ফের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। অন্য ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে নরওয়ে। আর তাতেই তৈরি হয়েছে লড়াইয়ের এমন এক মঞ্চ, যেটি একটি ফুটবল ম্যাচ হলেও ইতিহাস জানে, তা শুধুই ফুটবল নয়।

ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা বৈরিতার বীজ আসলে বোনা হয়েছিল তারও ২০ বছর আগে, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। সেদিন ম্যাচের মাত্র ৩৫ মিনিটে তাকানোর ভঙ্গি ভালো না লাগায় আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আন্তোনিও রাত্তিনকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন জার্মান রেফারি রুডলফ ক্রেইটলাইন। ভাষাগত সমস্যার কারণে রাত্তিন বুঝতেই পারেননি, কেন তাঁকে মাঠ ছাড়তে বলা হচ্ছে। তিনি মাঠ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে প্রায় আট মিনিট বন্ধ থাকে খেলা। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে মাঠের বাইরে নিয়ে যান। পরে জিওফ্রে হার্স্টের গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনার কাছে সেটি ছিল প্রকাশ্য অবিচার। এ ছাড়া ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের কোচ স্যার আলফ রামসি আর্জেন্টাইনদের পশু বলেও মন্তব্য করেন। তাতে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ মুহূর্তেই রূপ নেয় দুই দেশের অহমের লড়াইয়ে। ১৯৮২ সালে সেই ক্ষোভ আরো গভীর হয়। দক্ষিণ আটলান্টিকের ছোট্ট ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুদ্ধে জড়ায় দুই দেশ। ৭৪ দিনের যুদ্ধে জয়ী হয় যুক্তরাজ্য, আর্জেন্টিনার জন্য যেটি ছিল সামরিক পরাজয়ের পাশাপাশি জাতীয় অপমানের প্রতীকও। ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ছিয়াশির বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার পর তাঁদের সেই যুদ্ধের কথা মনে পড়েছিল, মনে পড়েছিল ফকল্যান্ডে নিহত তরুণদের কথা এবং ১৯৬৬ সালের অপমানও। তাইতো হ্যান্ড অব গড গোলকে তিনি প্রতারণা হিসেবে দেখেননি; দেখেছেন ইতিহাসের পাল্টা জবাব হিসেবেই।

১৯৮৬ সালের সেই হার ইংল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে এক অমোচনীয় দাগ। ১৯৯৮-র বিশ্বকাপে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। তবে ডেভিড বেকহামের লাল কার্ডে বিপদে পড়ে ইংল্যান্ড। টাইব্রেকারে ফের জেতে আর্জেন্টিনা। চার বছর পর জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে সেই ডেভিড বেকহামের গোলে অবশেষে জয়ের দেখা পায় ইংল্যান্ড। তবে সেটি ছিল গ্রুপ পর্বের ম্যাচ। তাই নক আউটের প্রতিশোধ এখনো অসম্পূর্ণ। ইংল্যান্ডের কাছে আর্জেন্টিনা এখন শুধু প্রতিপক্ষ নয়, এমন এক নাম, যা শুনলেই ফিরে আসে আজতেকার স্মৃতি।

সেই ম্যারাডোনা নেই। অবসরের পর মেসির পায়ের জাদুতে প্রেম জমেছে ডেভিড বেকহামের। শিলটন, লিনেকার, ভালদানো কিংবা বুরুচাগাও ইতিহাসের পাতায়।

ইংল্যান্ডের আক্রমণের প্রাণ এখন জুড বেলিংহাম। মাঝমাঠে তাঁর নেতৃত্ব, হ্যারি কেইনের গোল করার সক্ষমতা, বুকায়ো সাকার গতি আর টমাস টুখেলের পরিকল্পনা ইংল্যান্ডকে করেছে শিরোপার অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে ম্যারাডোনার রেখে যাওয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তরাধিকার আজও বয়ে চলেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা, যাদের প্রতিটি প্রজন্মকে শেখানো হয়ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই শুধু একটি ম্যাচ নয়। তাইতো আবারও ফিরে এসেছে ১৯৬৬ সালের বিতর্ক, ১৯৮২ সালের যুদ্ধ আর ১৯৮৬ সালের আজতেকা। ইতিহাস কখনো মাঠে খেলে না, তবে এক অদৃশ্য চাপ হয়ে বসে থাকে খেলোয়াড়দের কাঁধে। এ জন্য বুধবার রাতের সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালিস্টই নির্ধারণ করবে না; আরো একবার লিখবে ফুটবল ইতিহাসে প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক নতুন অধ্যায়। হয়তো আজতেকার সেই ক্ষত শুকাবে ইংল্যান্ডের, নয়তো আরো গভীর হবে।

 

সংসদে অর্থমন্ত্রী

রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর সরকার
আমির খসরু মাহমুদ

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজস্ব ফাঁকি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে সরকার। রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ নেওয়ার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিনা জামানতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।

গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী। নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে ধনী ব্যক্তি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। করপোরেট করদাতাদের জন্য খুব শিগগিরই ই-রিটার্ন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। অনলাইনে উৎস কর কর্তনের পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮.১৭ শতাংশে নেমে এলেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারের প্রভাবে চলতি বছরের মে মাসে তা বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জোগান সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনরর্থায়ন তহবিল ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। এই তহবিল থেকে নতুন উদ্যোক্তারা বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা এবং জামানত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার পৃথক পুনরর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ৩৯টি তফসিলি ব্যাংকের অংশীদারিতে গঠিত বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কম্পানির মাধ্যমে ইকুইটি সহায়তাও দেওয়া হবে।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ৩১ মে পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮৮ হাজার ৭০১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন রেজল্যুশন কৌশল, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রেডিট রিস্ক ব্যবস্থাপনা, জামানত মূল্যায়নের নতুন ব্যবস্থা এবং ঋণ পুনরুদ্ধারে কর্মকর্তাদের জন্য প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ রয়েছে।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদি নির্মাণ, সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এসংক্রান্ত ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণও সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী।

 

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার সংসদ চত্বরেই সমাহিত

আজ শোক দিবস পালন বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার সংসদ চত্বরেই সমাহিত

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার শোকাহত মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় জাতীয় সংসদ চত্বরে চিরনিদ্রায় সমাহিত হলেন।

গতকাল রবিবার দুই দফা জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ জাতীয় সংসদের নির্ধারিত স্থানে সমাহিত করা হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাবেক এই স্পিকারের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

গতকাল ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে শ্যামলীর স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। তিনি এক কন্যা নিলুফার জমির এবং দুই ছেলে নওশাদ জমির ও নওফেল জমিরকে রেখে গেছেন। তাঁর বড় ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করলে সংসদের স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আপসহীন এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আজ সোমবার ঢাকাসহ সারা দেশে শোক দিবস পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক : সাবেক এই স্পিকারের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শোক প্রকাশ করা হয় এবং সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণা করেন। পরে বাদ আসর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার নিচের টানেলে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা, রাজনৈতিক নেতারা, মরহুমের আত্মীয়-স্বজন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং  বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।

জানাজার শুরুতেই মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় সাবেক এই স্পিকারের স্মৃতিচারণা করে বক্তব্য দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম, বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

এর আগে ধানমণ্ডির তাকওয়া মসজিদে বাদ জোহর মরহুমের প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

গতকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৩তম কার্যদিবসে জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ছিলেন সততা ও পেশাগত সুনামের অনন্য উদাহরণ। দীর্ঘ আইনজীবী জীবনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, মক্কেল বা সহকর্মীর কাছ থেকে কখনো কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। দলের প্রতি তিনি ছিলেন শতভাগ নিবেদিতপ্রাণ।

জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার নয়াবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৌলভি মুহাম্মদ আজিজ বক্স। জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি এলএলবি পাস করে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার এট ল সনদ লাভ করেন এবং দেশেই আইন পেশায় যোগ দেন।