• ই-পেপার

প্রত্যাহার হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিসিরা

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

১৩ মিনিটের ঝড়ে মিসর বিদায়, আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে

মামুন উর রশীদ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

পেনাল্টি মিস করেছিলেন, দুটি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল দলও। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুরুদুরু বুকে কাঁপতে শুরু করেছিল ভক্তরা। কারণ চোখ রাঙাচ্ছিল দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও ব্রাজিলের মতোই বিদায়ের শঙ্কা। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে অদম্য লিওনেল মেসিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি মিসরের রক্ষণভাগ, তিনি কোটি ভক্তের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আবারও ত্রাতার ভূমিকায়। পরের ১৩ মিনিটে (যোগ করা সময়সহ) তাঁর পায়েই রচিত হয়েছে আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রোমাঞ্চকর জয়ের গল্প। ম্যাচের ২১ মিনিটে স্পট কিকে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলেও পরে একটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন এবং আরেকটি নিজেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের গোলে ৩-২ গোলে মিসরকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় গতকাল মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাল না ছাড়া লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা পরের ১৩ মিনিটে তিন গোল করে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নেয় মেসি ম্যাজিকে।

ফর্মের তুঙ্গে আছেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার সব ম্যাচেই; কিন্তু সেই মেসি করেন দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি মিস। এতেই এক আসরে দুইবার স্পট কিকে গোল করতে না পারা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে যান তিনি। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৫ মিনিটের সময় মারওয়ান আতিয়ার ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে মিসরকে এগিয়ে নেন ইব্রাহিম ইয়াসের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজেদের গৌরবময় বিশ্বকাপের সাফল্য আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নেমেই সাফল্য পায় মিসর। বিশ্বকাপে এই প্রথম দুই দলের সাক্ষাৎ এটি। অবশ্য সমতায় ফেরার মোক্ষম সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই; কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা মেসি। এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে আটবার বিশ্বকাপে পেনাল্টি নিয়ে সর্বাধিক চারবার মিস করলেন তিনি। টানা তিন বিশ্বকাপে স্পট কিকে গোল করতে না পারার দুর্ভাগ্যও একমাত্র মেসির। ২০১৮ সালের আসরে আইসল্যান্ড এবং ২০২২ সালের আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আরো কয়েকটি সুযোগ প্রতিহত করেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। তাঁর দক্ষতার কারণেই সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসিলেস্তেরা। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনা দাপট নিয়ে খেলেও পাচ্ছিল না গোলের দেখা। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে মিসর আরেকটি গোল করে, যদিও ভিএআর বিশ্লেষণে তা বাতিল হয় ফাউলের কারণে। তবে ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিসর (২-০)। কিন্তু আক্রমণের ধার কমেনি আর্জেন্টিনার। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড কমিয়ে দেয় ব্যবধান (২-১)। আরো উজ্জীবিত আলবিসিলেস্তেরা চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং ৮৩ মিনিটেই সমতায় ফেরে তারা। এবার গনসালো মনতিয়েলের পাসে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি (২-২)। এটি বিশ্বকাপে তাঁর টানা ৯ ম্যাচে গোল।

৯৬ বছর আগের ইতিহাস ফিরিয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন হিসেবে তিনিও এক বিশ্বকাপে করলেন আট গোল। ১৯৩০ সালে গিলের্মো স্তাবিল করেছিলেন আটটি গোল।

হতাশ মিসরীয়রা আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ে। যোগ করা সময়ে (৯২ মিনিট) লাউতারো মার্তিনেসের ডান প্রান্ত থেকে করা লম্বা ক্রসে হেড করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দে ভাসান এনসো ফের্নান্দেস (৩-২)। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জিতল আলবিসিলেস্তেরা। স্নায়ুচাপের সেই জয় এলো মেসির ক্যারিসমায়, শেষ আটে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর তাই ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন মেসিও, সেটি হারের মুখ থেকে অবাক প্রত্যাবর্তনে যুদ্ধজয়ের সাফল্যের কান্না।

উক্তি

উক্তি

বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার।

সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিসিসিসিআই সভাপতি

বিদেশি বিনিয়োগে প্রধান বাধা জ্বালানি ও অবকাঠামোগত নিশ্চয়তার অভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদেশি বিনিয়োগে প্রধান বাধা জ্বালানি ও অবকাঠামোগত নিশ্চয়তার অভাব
খোরশেদ আলম

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, লাইসেন্স বা অনুমোদনের প্রক্রিয়ার তুলনায় শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে না পারাই বর্তমানে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অনুমোদনপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

ব্যবসার সহজীকরণে সরকারের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোরে আলোচনায় খোরশেদ আলম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিদেশি উদ্যোক্তারা সাধারণভাবে দুই ধরনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। এক শ্রেণির উদ্যোক্তা শুধু আমদানি-রপ্তানি ও ট্রেডিং ব্যবসা পরিচালনা করেন, আর অন্যরা শিল্প স্থাপন ও উৎপাদনে বিনিয়োগ করেন।

চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন, ট্রেডিং ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করেই কার্যক্রম শুরু করা যায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তবে শিল্প স্থাপনে বিডাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিতে হয় এবং প্রায় ১৯ ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হয়।

খোরশেদ আলম বলেন, সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে একজন উদ্যোক্তা অভিযোগ করেন, ছয় বছর আগে কুমিল্লায় শিল্প প্লট বরাদ্দ পেলেও এখন পর্যন্ত সেখানে গ্যাস সংযোগ পাননি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কারখানা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সরকার একদিকে বিদেশি উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনের আহবান জানাচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারলে কারখানা চালু করা সম্ভব হবে না।

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীনের উদাহরণ তুলে ধরে খোরশেদ আলম বলেন, এসব দেশে দেশে শিল্পাঞ্চল আগে থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। রাস্তা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার পর বিনিয়োগকারীদের সেখানে শিল্প স্থাপনের আহবান জানানো হয়। ফলে বরাদ্দ পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগেছে। একই সঙ্গে সেখানে নির্ধারিত সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

খোরশেদ আলম আরো বলেন, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দেবে, সেটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হবে। বর্তমানে দেশের অনেক শিল্প-কারখানা গ্যাসসংকটের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না; ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মিল আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, শুধু বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেই প্রকৃত বিনিয়োগ হয় না। একটি কারখানা চালু হওয়া, উৎপাদন শুরু হওয়া, পণ্য বাজারজাত হওয়া এবং অর্থনৈতিক লেনদেন শুরু হওয়ার পরই সেটিকে প্রকৃত বিনিয়োগ বলা যায়।

চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে খোরশেদ আলম বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু লাভজনক ব্যবসার নিশ্চয়তাই চান না, তাঁরা জানতে চান সরকার প্রতিশ্রুত অবকাঠামো নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তর করতে পারবে কি না। মীরসরাইয়ে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক অবকাঠামো কারা নির্মাণ করবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। যদি সরকারের দায়িত্ব হয়, তাহলে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আস্থা তৈরি করতে হবে। একইভাবে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।

তিনি বলেন, চীনের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে বাষ্প (স্টিম), লজিস্টিকস, ফর্কলিফট, অগ্নিনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকায় উদ্যোক্তাদের আলাদা বিনিয়োগ করতে হয় না। বাংলাদেশেও এ ধরনের সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

খোরশেদ আলম আরো বলেন, শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাই হবে কার্যকর কৌশল; যেমনচামড়া, টেক্সটাইল, সিরামিক বা অন্যান্য শিল্পের জন্য পৃথক অঞ্চল নির্ধারণ করা উচিত। এ জন্য বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনবল চীনে পাঠিয়ে তাদের শিল্পাঞ্চল পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনের ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন। দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ২০টি আধুনিক পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা উচিত। দক্ষ কর্মী তৈরি করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে। কারণ তাঁরা তুলনামূলক বেশি বেতন দিতে প্রস্তুত থাকলেও উচ্চ দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশা করেন।

শ্রমিক আবাসন ও সমন্বিত পরিকল্পনার বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য আবাসন, যোগাযোগ, বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোরও পরিকল্পনা থাকতে হবে। চীনের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কারখানার কাছেই শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পরিকল্পিত শ্রমিক কলোনি গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে দক্ষ শ্রমিক ধরে রাখা এবং শিল্প পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি চীনের খুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অনেক উদ্যোক্তা অংশ নিলেও তাঁদের অনেকেরই পণ্য উপস্থাপন, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিক্রয় কৌশল সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। বিদেশে অংশগ্রহণের আগে উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন, বিপণন, ক্রেতা ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রপ্তানি সম্ভাবনাও কমে যায়।

সুদের হার ও চীনা ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, বর্তমানে ১৪ শতাংশের মতো উচ্চ সুদের হারে কোনো ব্যবসা টেকসইভাবে পরিচালনা করা কঠিন। বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন। এতে কম সুদে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের ব্যাবসায়িক লেনদেন আরো সহজ হবে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ব্যবস্থা চালু করা গেলে ডলারের বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি কমবে এবং আমদানিকারকরা লাভবান হবেন। এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এখনো বাংলাদেশে কোনো চীনা ব্যাংক না থাকা একটি বড় সীমাবদ্ধতা।

চেম্বারের পক্ষ থেকে চীন সরকারের কাছে বাংলাদেশের কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রযুক্তিগত ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

জামকারান মসজিদে শহীদ নেতার জানাজা

খামেনির শেষবিদায়ে কোমেও জনসমুদ্র

গাজী আব্দুর রশীদ, তেহরান থেকে

খামেনির শেষবিদায়ে কোমেও জনসমুদ্র
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল ব্যানার, পোস্টার ও পতাকা হাতে লাখ লাখ ইরানি কোম শহরে জড়ো হয়। ছবি : রয়টার্স

ইরানের পবিত্র নগরী কোমের ঐতিহাসিক জামকারান মসজিদে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় আলেম আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের জানাজার ইমামতি করেন। উল্লেখ্য, কোম একটি পবিত্র শহর, যেখানে শিয়া ইসলামের সবচেয়ে প্রভাবশালী মাদরাসা ও তীর্থস্থানগুলো অবস্থিত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আকাশ থেকে ধারণকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষের শহর কোমের রাস্তাগুলো শোকাহতদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ৯৩ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ ও প্রভাবশালী শিয়া ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি মসজিদের ভেতর একটি প্রার্থনাসভা পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতা সমস্বরে স্লোগান দিচ্ছিল, আমেরিকার ধ্বংস হোক, যা ইরানের সরকারি সমাবেশগুলোতে প্রায়ই শোনা যায়এমন একটি স্লোগান। অন্যান্য টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, পাগড়ি পরিহিত ধর্মগুরুসহ শোকাহতরা শহীদ খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে শহীদ চার আত্মীয়ের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, যাঁদের মধ্যে মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক নাতনিও রয়েছে। এরপর ট্রাকে করে মরদেহগুলো নিয়ে একটি মিছিল নবী মুহাম্মদের বংশধর অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার বোন ফাতিমা মাসুমেহর সমাধিসৌধের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় পথজুড়ে শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে কোমের প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা নারী-পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণরা গত সোমবার রাত থেকেই জামকারান মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেন। ভোর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল আরো বাড়তে থাকে। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় পতাকা এবং লাল রঙের ইয়া লিসারাতিল হুসাইন পতাকা। শোক, দোয়া ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে তাঁরা তাঁদের প্রিয় নেতাকে শেষবিদায় জানান। অনেক শোকাহত ব্যক্তি হেঁটে এবং অনেকে যানবাহনে করে শোকযাত্রায় যোগ দেন। তাঁদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি লাল পতাকা। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য শহীদ হন। এর প্রায় চার মাসের গত শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। এরপর শনি ও রবিবার বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোক অনুষ্ঠান ইরানের পবিত্র শহর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, শোকযাত্রা সম্পন্ন করতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে। কারণ এটি দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হুসেন স্কয়ার, ইনকিলাব স্ট্রিট, আজাদি স্ট্রিট, আজাদি স্কয়ার এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত শহীদ লাশগরি হাইওয়ে হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।

তিন দিনে দুই শহর অশ্রু আর শ্রদ্ধায় ভাসল : তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, রাজধানীতে দীর্ঘ শোকযাত্রা এবং গতকাল মঙ্গলবার পবিত্র কোমায় টানা তিন দিন ধরে শেষবিদায় অনুষ্ঠানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে বলে ইরানিরা মনে করছে। বলা হচ্ছে, দোয়া, অশ্রুপাত, নীরবতা ও স্লোগানে শহীদ শীর্ষ নেতার প্রতি ইরানিদের আবেগ ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে বারবার।

স্পিকারের বার্তা : ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের কলিবফ এক শোকবার্তায় বলেছেন, শহীদদের হত্যাকারীরা তাদের কর্মকাণ্ডের পরিণতি থেকে রেহাই পাবে না। তিনি আরো বলেন, ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের আদর্শের প্রতি ইরানের জনগণের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা : ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলা উচিত; অন্যথায় তার জবাবও ভিন্ন ভাষায়  দেওয়া হবে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কায়ানি বলেন, শহীদ নেতার স্মৃতি প্রতিরোধের শক্তিকে আরো সুসংহত করবে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে ঐক্য আরো জোরদার করবে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বার্তায় বলেছেন, একজন মহান নেতা বিদায় নিয়েছেন; কিন্তু তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা আত্মমর্যাদা, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এবং প্রতিকূলতার মুখে দৃঢ় থাকার এক স্থায়ী প্রেরণা হয়ে থাকবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও  রেডিও তেহরানের বিদায়ি উপস্থাপক