• ই-পেপার

বিসিসিসিআই সভাপতি

বিদেশি বিনিয়োগে প্রধান বাধা জ্বালানি ও অবকাঠামোগত নিশ্চয়তার অভাব

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

১৩ মিনিটের ঝড়ে মিসর বিদায়, আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে

মামুন উর রশীদ
অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন

পেনাল্টি মিস করেছিলেন, দুটি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল দলও। ৭৮ মিনিট পর্যন্ত দুরুদুরু বুকে কাঁপতে শুরু করেছিল ভক্তরা। কারণ চোখ রাঙাচ্ছিল দুই সাবেক চ্যাম্পিয়ন জার্মানি ও ব্রাজিলের মতোই বিদায়ের শঙ্কা। কিন্তু চলতি বিশ্বকাপে অদম্য লিওনেল মেসিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি মিসরের রক্ষণভাগ, তিনি কোটি ভক্তের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আবারও ত্রাতার ভূমিকায়। পরের ১৩ মিনিটে (যোগ করা সময়সহ) তাঁর পায়েই রচিত হয়েছে আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে রোমাঞ্চকর জয়ের গল্প। ম্যাচের ২১ মিনিটে স্পট কিকে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হলেও পরে একটিতে অ্যাসিস্ট করেছেন এবং আরেকটি নিজেই লক্ষ্যভেদ করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের গোলে ৩-২ গোলে মিসরকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় গতকাল মঙ্গলবার শেষ ষোলোর ম্যাচে এই জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রেখেছে গতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। হাল না ছাড়া লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা পরের ১৩ মিনিটে তিন গোল করে নাটকীয় জয় ছিনিয়ে নেয় মেসি ম্যাজিকে।

ফর্মের তুঙ্গে আছেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে গোল করেছেন আর্জেন্টিনার সব ম্যাচেই; কিন্তু সেই মেসি করেন দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি মিস। এতেই এক আসরে দুইবার স্পট কিকে গোল করতে না পারা প্রথম খেলোয়াড় হয়ে যান তিনি। মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১৫ মিনিটের সময় মারওয়ান আতিয়ার ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে মিসরকে এগিয়ে নেন ইব্রাহিম ইয়াসের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নিজেদের গৌরবময় বিশ্বকাপের সাফল্য আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে নেমেই সাফল্য পায় মিসর। বিশ্বকাপে এই প্রথম দুই দলের সাক্ষাৎ এটি। অবশ্য সমতায় ফেরার মোক্ষম সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই; কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করা মেসি। এবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে আটবার বিশ্বকাপে পেনাল্টি নিয়ে সর্বাধিক চারবার মিস করলেন তিনি। টানা তিন বিশ্বকাপে স্পট কিকে গোল করতে না পারার দুর্ভাগ্যও একমাত্র মেসির। ২০১৮ সালের আসরে আইসল্যান্ড এবং ২০২২ সালের আসরে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক।

পরে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আরো কয়েকটি সুযোগ প্রতিহত করেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। তাঁর দক্ষতার কারণেই সমতায় ফিরতে পারেনি আলবিসিলেস্তেরা। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধেও আর্জেন্টিনা দাপট নিয়ে খেলেও পাচ্ছিল না গোলের দেখা। উল্টো কাউন্টার অ্যাটাকে মিসর আরেকটি গোল করে, যদিও ভিএআর বিশ্লেষণে তা বাতিল হয় ফাউলের কারণে। তবে ৬৭ মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মিসর (২-০)। কিন্তু আক্রমণের ধার কমেনি আর্জেন্টিনার। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রসে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড কমিয়ে দেয় ব্যবধান (২-১)। আরো উজ্জীবিত আলবিসিলেস্তেরা চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং ৮৩ মিনিটেই সমতায় ফেরে তারা। এবার গনসালো মনতিয়েলের পাসে বল পেয়ে দুর্দান্ত শটে গোল করেন মেসি (২-২)। এটি বিশ্বকাপে তাঁর টানা ৯ ম্যাচে গোল।

৯৬ বছর আগের ইতিহাস ফিরিয়েছেন মেসি। দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন হিসেবে তিনিও এক বিশ্বকাপে করলেন আট গোল। ১৯৩০ সালে গিলের্মো স্তাবিল করেছিলেন আটটি গোল।

হতাশ মিসরীয়রা আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ে। যোগ করা সময়ে (৯২ মিনিট) লাউতারো মার্তিনেসের ডান প্রান্ত থেকে করা লম্বা ক্রসে হেড করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দে ভাসান এনসো ফের্নান্দেস (৩-২)। এবারই প্রথম বিশ্বকাপে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জিতল আলবিসিলেস্তেরা। স্নায়ুচাপের সেই জয় এলো মেসির ক্যারিসমায়, শেষ আটে পা রাখল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আর তাই ম্যাচ শেষে কেঁদেছেন মেসিও, সেটি হারের মুখ থেকে অবাক প্রত্যাবর্তনে যুদ্ধজয়ের সাফল্যের কান্না।

উক্তি

উক্তি

বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত অংশীদার।

সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রত্যাহার হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিসিরা

মাহমুদুল হাসান
প্রত্যাহার হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া ডিসিরা

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া ডিসি বা জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিতর্কিত ডিসিদের প্রত্যাহার করা হবে। কবেনাগাদ ডিসিদের প্রত্যাহার করা হবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সরাসরি কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিসি নিয়োগের বিষয়টি ছিল বিতর্কিত। তখন জনপ্রশাসন সচিব পদে ছিলেন ড. মোখলেস উর রহমান। অনেকটা তড়িঘড়ি ফিটলিস্ট তৈরি করে একসঙ্গে ৫৯ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় এই  নিয়োগ বাতিল চেয়ে নজিরবিহীনভাবে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ৯ জন কর্মকর্তাকে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভও হয়। নিয়োগে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে অন্তর্বর্তী সরকারকে। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতার আসার পরে মাঠ প্রশাসনে ডিসি নিয়োগে স্বচ্ছতা এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

নতুন ডিসি নিয়োগে ২৮তম ও ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয় গত এপ্রিলের প্রথমার্ধে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একাধিক জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগের সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। পরে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির ১০ দিন পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি মু. রেজা হাসান।

গত ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর রেজা হাসান কুমিল্লার ডিসির দায়িত্ব ছাড়লেও সিলেটে আর যোগ দেননি।

ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও কী কারণে তিনি ওই পদে এখনো যোগ দেননি, এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যও দিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, এ বিষয়ে  (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।

তবে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মু. রেজা হাসানের নিয়োগের বিষয়টি স্থানীয় একজন মন্ত্রীর মনঃপূত হয়নি। বিষয়টি তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। এ অবস্থায় সিলেটে আবার নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন হতে পারে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, আসলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত ও এনসিপির সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের প্রত্যাহার করা হতে পারে। এরই মধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত রাখা হচ্ছে এবং মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করার নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী সরকারি অফিসগুলোতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি এবং শূন্য পদ রয়েছে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এসব শূন্য পদ পূরণে সরকার এরই মধ্যে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।

কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ-এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য এবং নিয়োগের অধিযাচন প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের বিষয়ে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সব মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।

গত ১ এপ্রিল দেশের চার জেলার ডিসি প্রত্যাহার করেছে সরকার। তাঁদের প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। যাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তাঁরা হচ্ছেন পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, ঠাকুরগাঁওয়ের ইশরাত ফারজানা, রংপুরের মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও রাজবাড়ীর সুলতানা আক্তার। তাঁদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজবাড়ীতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির পরিচালক (উপসচিব) আফরোজা পারভীনকে,  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হককে ঠাকুরগাঁওয়ে, একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলামকে পাবনায় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে রংপুরে।

এরপর গত ১ মার্চ দেশের পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে তাঁদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।  এঁরা হচ্ছেন গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ।

গত বছর নভেম্বরে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২৩ জেলায়  ডিসি পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করে অন্তর্বর্তী সরকার।

জামকারান মসজিদে শহীদ নেতার জানাজা

খামেনির শেষবিদায়ে কোমেও জনসমুদ্র

গাজী আব্দুর রশীদ, তেহরান থেকে

খামেনির শেষবিদায়ে কোমেও জনসমুদ্র
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল ব্যানার, পোস্টার ও পতাকা হাতে লাখ লাখ ইরানি কোম শহরে জড়ো হয়। ছবি : রয়টার্স

ইরানের পবিত্র নগরী কোমের ঐতিহাসিক জামকারান মসজিদে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় আলেম আয়াতুল্লাহ আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যদের জানাজার ইমামতি করেন। উল্লেখ্য, কোম একটি পবিত্র শহর, যেখানে শিয়া ইসলামের সবচেয়ে প্রভাবশালী মাদরাসা ও তীর্থস্থানগুলো অবস্থিত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত আকাশ থেকে ধারণকৃত ফুটেজে দেখা গেছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষের শহর কোমের রাস্তাগুলো শোকাহতদের ভিড়ে ঠাসা ছিল। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ৯৩ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ ও প্রভাবশালী শিয়া ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ জাওয়াদি আমোলি মসজিদের ভেতর একটি প্রার্থনাসভা পরিচালনা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জনতা সমস্বরে স্লোগান দিচ্ছিল, আমেরিকার ধ্বংস হোক, যা ইরানের সরকারি সমাবেশগুলোতে প্রায়ই শোনা যায়এমন একটি স্লোগান। অন্যান্য টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, পাগড়ি পরিহিত ধর্মগুরুসহ শোকাহতরা শহীদ খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে শহীদ চার আত্মীয়ের কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন, যাঁদের মধ্যে মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক নাতনিও রয়েছে। এরপর ট্রাকে করে মরদেহগুলো নিয়ে একটি মিছিল নবী মুহাম্মদের বংশধর অষ্টম শিয়া ইমাম রেজার বোন ফাতিমা মাসুমেহর সমাধিসৌধের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় পথজুড়ে শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে কোমের প্রধান সড়কগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা নারী-পুরুষ, তরুণ ও প্রবীণরা গত সোমবার রাত থেকেই জামকারান মসজিদ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় সমবেত হতে শুরু করেন। ভোর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল আরো বাড়তে থাকে। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের হাতে ছিল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় পতাকা এবং লাল রঙের ইয়া লিসারাতিল হুসাইন পতাকা। শোক, দোয়া ও স্লোগানের মধ্য দিয়ে তাঁরা তাঁদের প্রিয় নেতাকে শেষবিদায় জানান। অনেক শোকাহত ব্যক্তি হেঁটে এবং অনেকে যানবাহনে করে শোকযাত্রায় যোগ দেন। তাঁদের হাতে ছিল ইরানের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি লাল পতাকা। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য শহীদ হন। এর প্রায় চার মাসের গত শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। এরপর শনি ও রবিবার বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার তেহরানের রাজপথে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোক অনুষ্ঠান ইরানের পবিত্র শহর ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও অব্যাহত থাকবে। বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজা (আ.)-এর পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে চূড়ান্ত জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য, শোকযাত্রা সম্পন্ন করতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লেগেছে। কারণ এটি দামাভান্দ স্ট্রিট, ইমাম হুসেন স্কয়ার, ইনকিলাব স্ট্রিট, আজাদি স্ট্রিট, আজাদি স্কয়ার এবং মেহরাবাদ বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত শহীদ লাশগরি হাইওয়ে হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে।

তিন দিনে দুই শহর অশ্রু আর শ্রদ্ধায় ভাসল : তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, রাজধানীতে দীর্ঘ শোকযাত্রা এবং গতকাল মঙ্গলবার পবিত্র কোমায় টানা তিন দিন ধরে শেষবিদায় অনুষ্ঠানে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে বলে ইরানিরা মনে করছে। বলা হচ্ছে, দোয়া, অশ্রুপাত, নীরবতা ও স্লোগানে শহীদ শীর্ষ নেতার প্রতি ইরানিদের আবেগ ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে বারবার।

স্পিকারের বার্তা : ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাকের কলিবফ এক শোকবার্তায় বলেছেন, শহীদদের হত্যাকারীরা তাদের কর্মকাণ্ডের পরিণতি থেকে রেহাই পাবে না। তিনি আরো বলেন, ন্যায়বিচার ও প্রতিরোধের আদর্শের প্রতি ইরানের জনগণের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে।

কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা : ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলা উচিত; অন্যথায় তার জবাবও ভিন্ন ভাষায়  দেওয়া হবে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী কুদস ফোর্সের কমান্ডার জেনারেল কায়ানি বলেন, শহীদ নেতার স্মৃতি প্রতিরোধের শক্তিকে আরো সুসংহত করবে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের মধ্যে ঐক্য আরো জোরদার করবে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক বার্তায় বলেছেন, একজন মহান নেতা বিদায় নিয়েছেন; কিন্তু তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা আত্মমর্যাদা, স্বাধীনতা, দেশপ্রেম এবং প্রতিকূলতার মুখে দৃঢ় থাকার এক স্থায়ী প্রেরণা হয়ে থাকবে।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও  রেডিও তেহরানের বিদায়ি উপস্থাপক