• ই-পেপার

আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি : মিসরের কোচ

আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে কী বললেন মেসি

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে জিতিয়ে কী বললেন মেসি

ম্যাচের ২১ মিনিটে যখন তার বাঁ পায়ের পেনাল্টি শটটি মিশরীয় গোলরক্ষক রুখে দিলেন, তখন গ্যালারিজুড়ে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের বুকে যেন একরাশ মেঘ জমেছিল। তবে যার নাম লিওনেল মেসি, তিনি তো আর এমনি এমনি মহাজাগতিক ফুটবলার নন! প্রথমার্ধের সেই পেনাল্টি মিসের প্রায়শ্চিত্ত দ্বিতীয়ার্ধে সুদে-আসলে উসুল করলেন এই জাদুকর। প্রথমে রক্ষণ ভেঙে এক জাদুকরি অ্যাসিস্ট, আর এরপর নিজেই গোল করে দলকে ফেরালেন সমতায়। শেষ পর্যন্ত এনজো ফার্নান্দেজের ইনজুরি টাইমের গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির দল।

মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর মিক্সড জোনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন স্বস্তির হাসি হাসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এলএমটেন বলেন, ‘আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছি এবং যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়ে গেলাম, তা নিয়ে আমি ভীষণ খুশি। ম্যাচটি যখন ২-০ হয়ে গিয়েছিল, তখন পরিস্থিতি আমাদের জন্য সত্যিই খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে আবারও এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোটা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের আবেগপূর্ণ। আমাদের আজ অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এটাই তো বিশ্বকাপ! এখানকার প্রতিটি ম্যাচই এমন কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’

ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া এই জাদুকর দলের সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসাতেও ভুললেন না। সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার কথা উল্লেখ করে মেসি বলেন, ‘ম্যাচটি যেভাবে শেষ হয়েছে, তাতে আমাদের সবার জন্যই এটি ছিল একটি বড় স্বস্তি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। কিন্তু এই দলটি কখনো হাল ছাড়তে জানে না। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে কুতির (ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো) গোলটি আমরা খুব দ্রুত পেয়ে গিয়েছিলাম। আর ওই গোলটিই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় এনে দিয়েছিল। আজ এই দল যা করেছে তা ছিল এককথায় অবিশ্বাস্য। আমি খুব আনন্দিত যে আমাদের সমর্থকেরা এই রোমাঞ্চকর যাত্রা ও আমাদের পারফরম্যান্স উপভোগ করে যেতে পারবে।’

‘রেফারি জালেম, আর্জেন্টিনার জন্য কাপ ঠিক করা’—বললেন মিশরের স্ট্রাইকার

ক্রীড়া ডেস্ক
‘রেফারি জালেম, আর্জেন্টিনার জন্য কাপ ঠিক করা’—বললেন মিশরের স্ট্রাইকার

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই যেন আকাশ ভেঙে পড়ল মিশরের ডাগআউটে। মাঠের ভেতরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের শিকার হওয়া মিশরীয় স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। ম্যাচ শেষে লাইভ টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ রেফারিকে সরাসরি ‘জালেম’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

কান্নাভেজা কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক) তিলওয়াত করে জিকো বলেন, ‘রেফারি আমাদের সাথে চরম অন্যায় করেছেন... তিনি আজ একটি পুরো জাতির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর পরিশ্রমকে এক ফুঁৎকারে ধূলিসাৎ করে দিলেন।’

টেলিভিশন সম্প্রচার হুট করে কেটে দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার দিকে ইঙ্গিত করে এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন এই মিশরীয় তারকা। ক্ষুব্ধ জিকো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনাকে দেওয়ার জন্যই সবকিছু আগে থেকে ঠিক করা।’

যে কারণে বাতিল হয় মিশরের অসাধারণ গোলটি

ক্রীড়া ডেস্ক
যে কারণে বাতিল হয় মিশরের অসাধারণ গোলটি

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক পাল্টা আক্রমণের সাক্ষী হতে পারত ফুটবল বিশ্ব। মাঝমাঠ থেকে বিদ্যুদ্বেগে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠা, ডান প্রান্ত দিয়ে হাসানের সেই চোখের পলকে ডিফেন্ডারদের ছিটকে দেওয়া দৌড়, বক্সে থাকা মোহাম্মদ সালাহর দিকে নিখুঁত পাস আর বাম দিক থেকে চিতার গতিতে ছুটে এসে জিকোর সেই মারণাঘাতসব মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রক্ষণকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিয়ে জালের খোঁজ পেয়েছিল মিশর।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছিল ফারাওরা। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিল না আধুনিক ফুটবলের প্রযুক্তি ‘ভিএআর’। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির চাদরে ঢাকা পড়ে গেল মিশরের মহাকাব্যিক গোল।

 

গোল উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই রেফারিকে ভিএআর মনিটরের দিকে যাওয়ার ইশারা করতে দেখা যায়। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় মিশরের ডাগআউট, অন্যদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আলবিসেলেস্তেরা।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের সূচনালগ্নে মিশরের নিজেদের অর্ধে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে অন্যায়ভাবে টেনে ধরেছিলেন মারওয়ান আতিয়া। ঘটনাটি রেফারি ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন। ভিএআরের নিখুঁত পর্যালোচনার পর মাঠের রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বদলে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিক দেন এবং মিশরের গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন।

ফিফার আইন অনুযায়ী রেফারির এই সিদ্ধান্তটি শতভাগ আইনসম্মত হলেও, এমন চোখধাঁধানো এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আসা গোল বাতিল হওয়াটা নিশ্চিতভাবেই মিশরের জন্য ছিল এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

৯৬ বছর পুরোনো রেকর্ড ছোঁয়া, ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙ্গাসহ মেসির ৬ কীর্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
৯৬ বছর পুরোনো রেকর্ড ছোঁয়া, ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙ্গাসহ মেসির ৬ কীর্তি
ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিসের ট্র্যাজেডি। গ্যালারিজুড়ে তখন একরাশ হতাশার চাদর। কিন্তু যার নাম লিওনেল মেসি, তাকে কি আর রেকর্ড বুক বেশি সময় আড়ালে রাখতে পারে? দলের চরম বিপদের দিনে, যখন বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিল আলবিসেলেস্তেদের, তখনই ত্রাতা হয়ে হাজির হলেন জাদুকর। মিশরের বিপক্ষে সমতা ফেরানো সেই জাদুকরি গোলের হাত ধরে প্রায় শত বছর আগের এক মহাকাব্যিক কীর্তি স্পর্শ করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

মিশরের জাল কাঁপিয়ে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের ৮ম গোলটি তুলে নেন এই মহাতারকা। আর এই এক গোলেই রেকর্ড বুক ওলটপালট করে দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

গিয়ের্মো স্তাবিলের পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একক কোনো আসরে ৮ গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। এর আগে ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন কিংবদন্তি স্তাবিলে। দীর্ঘ ৯৬ বছর পর তার সেই রাজকীয় রেকর্ডে ভাগ বসালেন এলএমটেন।

রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি এখানেই থামেননি, গড়েছেন আরও একটি অতিমানবীয় রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বের টানা ছয় ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি এখন শুধুই তার।

সব মিলিয়ে ফুটবল মহাযজ্ঞে টানা ৯টি ম্যাচে জাল কাঁপানোর রেকর্ড গড়লেন ফুটবলের এই খুদে জাদুকর। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে টানা ৬ ম্যাচের বেশি গোল করার রেকর্ড নেই আর কোনো ফুটবলারের।

এদিকে গোল করার পাশাপাশি এসিস্ট দিয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। ম্যারাডোনার ৮ এসিস্টের বিপরীতে মেসির গোলে সহায়তার সংখ্যা এখন ৯টি।

পেনাল্টি মিসের ক্ষত ততক্ষণে ভুলে গেলেও বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটিও এখন আর্জেন্টাইন যাদুকরের ঝুলিতেই। এছাড়া সর্বোচ্চ ১৪ টি নকআউট ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও আজকের ম্যাচ দিয়ে নিজের করে নিয়েছেন মেসি।