ম্যাচের ২১ মিনিটে যখন তার বাঁ পায়ের পেনাল্টি শটটি মিশরীয় গোলরক্ষক রুখে দিলেন, তখন গ্যালারিজুড়ে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের বুকে যেন একরাশ মেঘ জমেছিল। তবে যার নাম লিওনেল মেসি, তিনি তো আর এমনি এমনি মহাজাগতিক ফুটবলার নন! প্রথমার্ধের সেই পেনাল্টি মিসের প্রায়শ্চিত্ত দ্বিতীয়ার্ধে সুদে-আসলে উসুল করলেন এই জাদুকর। প্রথমে রক্ষণ ভেঙে এক জাদুকরি অ্যাসিস্ট, আর এরপর নিজেই গোল করে দলকে ফেরালেন সমতায়। শেষ পর্যন্ত এনজো ফার্নান্দেজের ইনজুরি টাইমের গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক মহাকাব্যিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির দল।
মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর মিক্সড জোনে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন স্বস্তির হাসি হাসা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এলএমটেন বলেন, ‘আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছি এবং যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়ে গেলাম, তা নিয়ে আমি ভীষণ খুশি। ম্যাচটি যখন ২-০ হয়ে গিয়েছিল, তখন পরিস্থিতি আমাদের জন্য সত্যিই খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেখান থেকে আবারও এভাবে ঘুরে দাঁড়ানোটা ছিল অবিশ্বাস্য রকমের আবেগপূর্ণ। আমাদের আজ অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু এটাই তো বিশ্বকাপ! এখানকার প্রতিটি ম্যাচই এমন কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।’
ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া এই জাদুকর দলের সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসাতেও ভুললেন না। সতীর্থদের লড়াকু মানসিকতার কথা উল্লেখ করে মেসি বলেন, ‘ম্যাচটি যেভাবে শেষ হয়েছে, তাতে আমাদের সবার জন্যই এটি ছিল একটি বড় স্বস্তি। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ জেতা কখনোই সহজ নয়। কিন্তু এই দলটি কখনো হাল ছাড়তে জানে না। আমরা ভাগ্যবান ছিলাম যে কুতির (ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো) গোলটি আমরা খুব দ্রুত পেয়ে গিয়েছিলাম। আর ওই গোলটিই আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় এনে দিয়েছিল। আজ এই দল যা করেছে তা ছিল এককথায় অবিশ্বাস্য। আমি খুব আনন্দিত যে আমাদের সমর্থকেরা এই রোমাঞ্চকর যাত্রা ও আমাদের পারফরম্যান্স উপভোগ করে যেতে পারবে।’




