সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহনমন্ত্রী

সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।
শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহনমন্ত্রী

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চয়তার অভাবকে চিহ্নিত করেছেন বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘লাইসেন্স বা অনুমোদনের প্রক্রিয়ার তুলনায় শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে না পারাই বর্তমানে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে অনুমোদনপ্রক্রিয়ার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’
ব্যবসার সহজীকরণে সরকারের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজটোয়েন্টিফোরে আলোচনায় খোরশেদ আলম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বিদেশি উদ্যোক্তারা সাধারণভাবে দুই ধরনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। এক শ্রেণির উদ্যোক্তা শুধু আমদানি-রপ্তানি ও ট্রেডিং ব্যবসা পরিচালনা করেন, আর অন্যরা শিল্প স্থাপন ও উৎপাদনে বিনিয়োগ করেন।’
চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন, ‘ট্রেডিং ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করেই কার্যক্রম শুরু করা যায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। তবে শিল্প স্থাপনে বিডাসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন নিতে হয় এবং প্রায় ১৯ ধরনের কাগজপত্র জমা দিতে হয়।’
খোরশেদ আলম বলেন, ‘সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে একজন উদ্যোক্তা অভিযোগ করেন, ছয় বছর আগে কুমিল্লায় শিল্প প্লট বরাদ্দ পেলেও এখন পর্যন্ত সেখানে গ্যাস সংযোগ পাননি। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী কারখানা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি এবং প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিজ্ঞতা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সরকার একদিকে বিদেশি উদ্যোক্তাদের শিল্প স্থাপনের আহবান জানাচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারলে কারখানা চালু করা সম্ভব হবে না।’
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চীনের উদাহরণ তুলে ধরে খোরশেদ আলম বলেন, ‘এসব দেশে শিল্পাঞ্চল আগে থেকেই সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। রাস্তা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করার পর বিনিয়োগকারীদের সেখানে শিল্প স্থাপনের আহবান জানানো হয়। ফলে বরাদ্দ পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়।’
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে, যা ইতিবাচক। তবে অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লেগেছে। একই সঙ্গে সেখানে নির্ধারিত সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।’
খোরশেদ আলম আরো বলেন, ‘সরকার যে প্রতিশ্রুতি দেবে, সেটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হবে। বর্তমানে দেশের অনেক শিল্প-কারখানা গ্যাসসংকটের কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না; ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মিল আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘শুধু বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেই প্রকৃত বিনিয়োগ হয় না। একটি কারখানা চালু হওয়া, উৎপাদন শুরু হওয়া, পণ্য বাজারজাত হওয়া এবং অর্থনৈতিক লেনদেন শুরু হওয়ার পরই সেটিকে প্রকৃত বিনিয়োগ বলা যায়।’
চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করে খোরশেদ আলম বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শুধু লাভজনক ব্যবসার নিশ্চয়তাই চান না, তাঁরা জানতে চান সরকার প্রতিশ্রুত অবকাঠামো নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তর করতে পারবে কি না। মীরসরাইয়ে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেখানে সড়ক, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও পয়োনিষ্কাশনের মতো মৌলিক অবকাঠামো কারা নির্মাণ করবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। যদি সরকারের দায়িত্ব হয়, তাহলে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আস্থা তৈরি করতে হবে। একইভাবে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চীনের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে বাষ্প (স্টিম), লজিস্টিকস, ফর্কলিফট, অগ্নিনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকায় উদ্যোক্তাদের আলাদা বিনিয়োগ করতে হয় না। বাংলাদেশেও এ ধরনের সমন্বিত শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’
খোরশেদ আলম আরো বলেন, ‘শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলাই হবে কার্যকর কৌশল; যেমন—চামড়া, টেক্সটাইল, সিরামিক বা অন্যান্য শিল্পের জন্য পৃথক অঞ্চল নির্ধারণ করা উচিত। এ জন্য বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনবল চীনে পাঠিয়ে তাদের শিল্পাঞ্চল পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জনের ব্যবস্থাও করা প্রয়োজন। দক্ষ জনবল তৈরিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ২০টি আধুনিক পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা উচিত। দক্ষ কর্মী তৈরি করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে। কারণ তাঁরা তুলনামূলক বেশি বেতন দিতে প্রস্তুত থাকলেও উচ্চ দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা প্রত্যাশা করেন।’
শ্রমিক আবাসন ও সমন্বিত পরিকল্পনার বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, ‘অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য আবাসন, যোগাযোগ, বাজার, বাসস্ট্যান্ডসহ প্রয়োজনীয় সামাজিক অবকাঠামোরও পরিকল্পনা থাকতে হবে। চীনের শিল্পাঞ্চলগুলোতে কারখানার কাছেই শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা থাকে। বাংলাদেশেও অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে পরিকল্পিত শ্রমিক কলোনি গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে দক্ষ শ্রমিক ধরে রাখা এবং শিল্প পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।’
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি চীনের খুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের অনেক উদ্যোক্তা অংশ নিলেও তাঁদের অনেকেরই পণ্য উপস্থাপন, ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিক্রয় কৌশল সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। বিদেশে অংশগ্রহণের আগে উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন, বিপণন, ক্রেতা ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। অন্যথায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রপ্তানি সম্ভাবনাও কমে যায়।’
সুদের হার ও চীনা ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে খোরশেদ আলম বলেন, ‘বর্তমানে ১৪ শতাংশের মতো উচ্চ সুদের হারে কোনো ব্যবসা টেকসইভাবে পরিচালনা করা কঠিন। বাংলাদেশে একটি চীনা ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া প্রয়োজন। এতে কম সুদে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে এবং দুই দেশের ব্যাবসায়িক লেনদেন আরো সহজ হবে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেনের ব্যবস্থা চালু করা গেলে ডলারের বিনিময় হারজনিত ঝুঁকি কমবে এবং আমদানিকারকরা লাভবান হবেন। এত বড় বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও এখনো বাংলাদেশে কোনো চীনা ব্যাংক না থাকা একটি বড় সীমাবদ্ধতা।’
চেম্বারের পক্ষ থেকে চীন সরকারের কাছে বাংলাদেশের কয়লা ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ উত্তোলনে প্রযুক্তিগত ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া ডিসি বা জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া বিতর্কিত ডিসিদের প্রত্যাহার করা হবে। কবেনাগাদ ডিসিদের প্রত্যাহার করা হবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সরাসরি কিছু বলতে রাজি হয়নি। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিসি নিয়োগের বিষয়টি ছিল বিতর্কিত। তখন জনপ্রশাসন সচিব পদে ছিলেন ড. মোখলেস উর রহমান। অনেকটা তড়িঘড়ি ফিটলিস্ট তৈরি করে একসঙ্গে ৫৯ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময় এই নিয়োগ বাতিল চেয়ে নজিরবিহীনভাবে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেন ‘বঞ্চিত’ কর্মকর্তারা। হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ৯ জন কর্মকর্তাকে পরে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভও হয়। নিয়োগে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে অন্তর্বর্তী সরকারকে। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতার আসার পরে মাঠ প্রশাসনে ডিসি নিয়োগে স্বচ্ছতা এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
নতুন ডিসি নিয়োগে ২৮তম ও ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয় গত এপ্রিলের প্রথমার্ধে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একাধিক জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করে নতুন ডিসি নিয়োগের সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
জানা যায়, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রকাশ্যে কাজ করেছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা তাদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমকে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। পরে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির ১০ দিন পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি মু. রেজা হাসান।
গত ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর রেজা হাসান কুমিল্লার ডিসির দায়িত্ব ছাড়লেও সিলেটে আর যোগ দেননি।
ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও কী কারণে তিনি ওই পদে এখনো যোগ দেননি, এ নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্যও দিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, এ বিষয়ে (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে।
তবে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সূত্র জানায়, সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মু. রেজা হাসানের নিয়োগের বিষয়টি স্থানীয় একজন মন্ত্রীর মনঃপূত হয়নি। বিষয়টি তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন। এ অবস্থায় সিলেটে আবার নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জামায়াত ও এনসিপির সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া ডিসিদের প্রত্যাহার করা হতে পারে। এরই মধ্যে এ কাজ শুরু হয়েছে।’
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বর্তমান জনপ্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে যেকোনো রাজনৈতিক বা অন্যায্য প্রভাবমুক্ত রাখা হচ্ছে এবং মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করার নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ২০২৫ সাল পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী সরকারি অফিসগুলোতে অনুমোদিত পদ রয়েছে ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি এবং শূন্য পদ রয়েছে পাঁচ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি। এসব শূন্য পদ পূরণে সরকার এরই মধ্যে ছয় মাস, এক বছর ও পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।
কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ’-এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য এবং নিয়োগের অধিযাচন প্রেরণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগের বিষয়ে সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সব মন্ত্রণালয়/বিভাগকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
গত ১ এপ্রিল দেশের চার জেলার ডিসি প্রত্যাহার করেছে সরকার। তাঁদের প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। যাঁদের প্রত্যাহার করা হয়েছে তাঁরা হচ্ছেন পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা, ঠাকুরগাঁওয়ের ইশরাত ফারজানা, রংপুরের মোহাম্মদ এনামুল আহসান ও রাজবাড়ীর সুলতানা আক্তার। তাঁদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। আর নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রাজবাড়ীতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির পরিচালক (উপসচিব) আফরোজা পারভীনকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হককে ঠাকুরগাঁওয়ে, একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলামকে পাবনায় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে রংপুরে।
এরপর গত ১ মার্চ দেশের পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে তাঁদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এঁরা হচ্ছেন গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ।
গত বছর নভেম্বরে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২৩ জেলায় ডিসি পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল করে অন্তর্বর্তী সরকার।

টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে গতকাল মঙ্গলবার তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও দেয়ালধসের ঘটনায় দুজন এবং রাঙামাটিতে ধসে পড়া মাটি সরাতে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ৩৬ ঘণ্টায় কক্সবাজারে নারী-শিশুসহ প্রাণ গেছে ১২ জনের। একই সময়ে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সিলেট ও হবিগঞ্জের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, আবার কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে বসবাসকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।
টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল ও মাটি দুর্বল হয়ে পড়ায় ঝুঁকি বাড়ছে। ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আরো ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নজরদারিতে রেখেছে প্রশাসন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা এবং জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ-উপাচার্য ও পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গঠনশৈলী মূলত বেলে মাটির। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখলেও নির্বিচারে বৃক্ষনিধনের ফলে সেই বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পাহাড় কেটে বসতি ও অবকাঠামো নির্মাণে পাহাড়ের স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে প্রবল বৃষ্টিতে মাটি আলগা হয়ে সহজেই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘ সময়ের হালকা বৃষ্টির পরিবর্তে এখন স্বল্প সময়ে অতিভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে পাহাড়ের মাটি দ্রুত ধসে নিচে নেমে আসে। তাঁর মতে, পাহাড়ধসে প্রাণহানিকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আইনের কঠোর প্রয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্যকর পুনর্বাসন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে আগেভাগে সরিয়ে নিতে পারলে এই দুর্যোগে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এদিকে গতকাল কক্সবাজারে পৃথক দুর্ঘটনায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সদর উপজেলার দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে লিমা আক্তার (২৫) নিহত হন। আহত হয়েছেন তাঁর স্বামী জসিম উদ্দিন। একই দিন উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের জামবাগান এলাকায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মানিক (৪০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে গত ৩৬ ঘণ্টায় জেলায় পাহাড়ধস ও দেয়ালধসে নারী-শিশুসহ মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত আগের ৩৬ ঘণ্টায় জেলায় ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারি বর্ষণে শহরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কুতুবদিয়ার লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। কক্সবাজার-মহেশখালী ও টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথেও চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
রাঙামাটি : রাঙামাটিতেও টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এরই মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরাতে গিয়ে লক্ষ্মী বিলাস চাকমা (৬০) নিহত হয়েছেন। টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো পাহাড়ধসের ঘটনাও ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, রাঙামাটি পৌর এলাকার ২৯টি এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা সদরসহ মোট ৪৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আহবান জানিয়েছে প্রশাসন। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্রও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম : ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়গুলোতে ভূমিধসের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতন করছে জেলা প্রশাসন।
চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের চিহ্নিত ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে এখনো অন্তত ছয় হাজার ৫৫৮টি পরিবার বসবাস করছে। তবে বাস্তবে এই সংখ্যা আরো বেশি।
গতকাল নগরের বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহবান জানান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সীতাকুণ্ড : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কয়েকটি পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে হাজারো মানুষ। চলমান টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির শঙ্কায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রচারণা চালাচ্ছে প্রশাসন; কিন্তু প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না লোকজন। ফলে যেকোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে।
বান্দরবান : বান্দরবানেও টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারি বর্ষণে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি ও লামা উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে সড়কের ওপর মাটি ও পাথর জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বান্দরবান-লামা-সুয়ালক ও লামা-আলীকদম সড়কের কয়েকটি স্থানে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহন, রোগী স্থানান্তর ও জরুরি সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় পাহাড়ধসে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতেও টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় কয়েকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পৌর এলাকার সবুজবাগ, শালবাগান, কুমিল্লাটিলা, কলাবাগানসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী কয়েক হাজার পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত মাইকিং ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
সিলেট : সিলেটেও আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ মে গোলাপগঞ্জে, ২০২৪ সালে নগরের মেজরটিলা এলাকায় এবং ২০২২ সালে জৈন্তাপুরে টিলাধসে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন টিলার পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য ভূমিধস ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি ত্রিপুরাপল্লীতেও টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টিলার বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় কয়েকটি পরিবার নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও অনেকেই এখনো ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্থায়ীভাবে পাহাড়ধস প্রতিরোধে গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং নিরাপদ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী জানিয়েছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীনের মতে, পাহাড়ধসকে অনিবার্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিভারি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেড়েছে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে শুধু ঝুঁকি মূল্যায়ন করলেই চলবে না; বর্তমান জলবায়ুগত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরো আধুনিক করতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ের প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ, ক্ষতিগ্রস্ত ঢালে পুনরায় বৃক্ষরোপণ, অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পুনর্বাসন এবং আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই ধরনের প্রাণহানি প্রমাণ করে যে পাহাড়ধস শুধু প্রাকৃতিক নয়, এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট কারণও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি স্থাপন নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্যকর পুনর্বাসন এবং আগাম সতর্কতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
[প্রতিবেদনটি তৈরিতে নিজস্ব প্রতিবেদকসহ সংশ্লিষ্ট জেলার প্রতিনিধিরা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন]