• ই-পেপার

ভুয়া বিলে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিএমপির তিন পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস, ৩৬ ঘণ্টায় নিহত ১২

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে পাহাড়ধস, ৩৬ ঘণ্টায় নিহত ১২
ছবি: কালের কণ্ঠ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট মৌসুমি নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা ভারি বর্ষণে কক্সবাজারে দুর্যোগ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

গত ৩৬ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ভারি বর্ষণে কক্সবাজার শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সড়ক ও নৌযোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

সবশেষ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার দরিয়ানগর বড়ছড়া হাজীঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে লিমা আক্তার (২৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী জসিম উদ্দিন আহত হয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় ১০ জন নিহত হন।

উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন—মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাস (৪) নিহত হন। একই রাতে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়। বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ নিহত হন।

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। একই দিন পেকুয়া নিহত হয় মো. মিনহাজ উদ্দিন (৭)।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের জামবাগান এলাকায় টানা বর্ষণের কারণে একটি মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মানিক (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ৬ জুলাই বিকেল ৫টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এরপরও বৃষ্টি অব্যাহত থাকে।

সর্বশেষ ৭ জুলাই ভোর ৬টা পর্যন্ত আরো ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ভোর থেকে ভারি বৃষ্টি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

টানা বর্ষণে কক্সবাজার শহরের অনেক সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। এতে মঙ্গলবার কিছুসময় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়ন ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে। অনেক বসতঘর ও গ্রামীণ সড়কে পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জেলার অন্যান্য নিম্নাঞ্চলেও জলাবদ্ধতায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, উপজেলার কাউয়ারখোপ, গর্জনিয়া, ঈদগড় ও খুনিয়া পালং ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ভারি বৃষ্টির কারণে কুতুবদিয়ার লেমশীখালী-কৈয়ারবিল সংযোগ সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-মহেশখালী নৌপথে সি-ট্রাক ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা চারদিন ধরে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌযোগাযোগও বন্ধ রয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বর্ষণে মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় উখিয়া, কক্সবাজার সদরসহ জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কক্সবাজার সদর ইউএনও তাহমিনা আক্তার বলেন, টানা ভারি বর্ষণের কারণে বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি এখনও বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

দুর্বৃত্তের হামলায় নিভে গেল সেই বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতা কর্মী ববির জীবন

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
দুর্বৃত্তের হামলায় নিভে গেল সেই বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতা কর্মী ববির জীবন

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতা কর্মী ববি বেগম (৭০) মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।

জানা যায়, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনের একটি কক্ষে ঢুকে ববি বেগমের ওপর নির্মম হামলা চালায়। এসময় তাকে মারধর করে তার দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ও সঞ্চিত ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্টেশনের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর কিছুটা সুস্থ থাকলেও বুধবার রাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাত ১টা ১৫ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ববি বেগমের মৃত্যুর খবরে গভীর রাতে রায়পুরাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘরবাড়ি ও স্বজনহীন এই নারীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে শোক প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে ববি বেগম মেথিকান্দা রেলস্টেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার কোনো স্বজন ছিল না। স্টেশনের একটি ছোট কক্ষেই ছিল তার বসবাস। বয়সের ভার ও বাকপ্রতিবন্ধকতা নিয়েও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন। সামান্য বেতন ও যাত্রীদের সহযোগিতায় চলত তার জীবন। সেই অসহায় নারীর ওপর নৃশংস হামলা এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে : নাহিদ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে : নাহিদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “নির্বাচনে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। আর সরকার যারা গঠন করেছে তারা মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তার মানে যারা সরকার গঠন করেছে তাদের থেকেও বেশি জনমত হলো সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম বিএনপি ক্ষমতায় বসতে পেরে জনগণের এই স্বীকৃতিকে, এই গণভোটকে অস্বীকার শুরু করেছে। তারা এখন পর্যন্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি। সংস্কার বাস্তবায়ন করেনি। যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, দেশে কোনো পরিবর্তন হবে না।”

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে এনসিপি আয়োজিত পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে যারা জীবন দিল, যারা আহত হলো তাদের এই আত্মত্যাগের মূল্য থাকবে না, মূল্যহীন হয়ে যাবে যদি দেশের কোনো পরিবর্তন না হয়। কারণ আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, আমাদের আন্দোলন হচ্ছে দেশ পরিবর্তনের আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন। তাই সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা এসেছি।’

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যখন সংসদে আমাদের সরকারি দলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের কথা শুনি, আমরা যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে সরকারি দলের বিভিন্ন বড় নেতার কথা শুনি, তখন আমাদের কাছে মনে হয়—বাংলাদেশে আর কোনো সমস্যা নেই। অথচ সাধারণ জনগণ মানেই তো বাংলাদেশ। আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে রায় দিন।’ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন এনসিপি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুজ্জামান শাওন, সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান প্রমুখ। এর আগে তাঁরা সখিপুরে পদযাত্রায় অংশ নেন।

রাতের আঁধারে ফ্লাইওভারে ঝরল এনসিপি নেতার প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
রাতের আঁধারে ফ্লাইওভারে ঝরল এনসিপি নেতার প্রাণ

চট্টগ্রামে লালখানবাজার-বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ফ্লাইওভারের জিইসি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই এনসিপি নেতার নাম তাজরিন ফায়াজ। তিনি নগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তার বাবা হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তাজরিন ফায়াজ নগরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জানা গেছে, একটি ট্রাক নষ্ট হয়ে গেলে সেটিকে ফ্লাইওভারের ওপর রাখা হয়। আলোর স্বল্পতায় মোটরসাইকেল আরোহী ফায়াজ সেটি খেয়াল করার আগেই দ্রুত গতির মোটরসাইকেলটি ট্রাকে ধাক্কা লেগে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ফায়াজের মৃত্যুর খবর শুনে এনসিপির পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে আছে। রাতেই হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি ফায়াজের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন।