• ই-পেপার

কঠোর পদক্ষেপ নিন

  • মাদকের ভয়াবহ থাবা

কৃষককে রক্ষা করতে হবে

মানহীন কীটনাশকে ফসলের ক্ষতি

কৃষককে রক্ষা করতে হবে

কৃষক তাঁর শেষ সম্বল বিনিয়োগ করে জমিতে ফসল আবাদ করেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোদে-বৃষ্টিতে সেই ফসলের পরিচর্যা করেন। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, কৃষক তাঁর কাঙ্ক্ষিত ফলন পান না। কখনো প্রাকৃতিক কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কখনো ভেজাল বীজ, সার বা মানহীন কীটনাশকের কারণে ফসল মার খায়। দরিদ্র কৃষক তাঁর সর্বস্ব হারান। গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কম্পানি লিমিটেডের বাজারজাত করা একটি কীটনাশকের বিরুদ্ধে মানহীনতার অভিযোগ উঠেছে। রাসায়নিক পরীক্ষায় নির্ধারিত মান বজায় না রাখার প্রমাণ পাওয়ায় ‘পদ্মা ল্যামডা ৫ইসি’-এর একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের সব রিপ্যাকিং করা বোতল সাত কর্মদিবসের মধ্যে বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কী হবে?

কৃষিবিজ্ঞানীরা জানান, এ ধরনের কীটনাশক ধানের মাজরা পোকা ও পাতা মোড়ানো পোকা, বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা, বাঁধাকপি ও ফুলকপির পাতাখেকো পোকা, মরিচ ও টমেটোর ফল ছিদ্রকারী পোকা, বিভিন্ন ফসলের জাব পোকা, থ্রিপস ও হপার দমনে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের মতে, এ ধরনের কীটনাশকে সক্রিয় উপাদানের পরিমাণ কম থাকলে মাঠে কাঙ্ক্ষিতভাবে পোকা দমন হয় না। ফলে একই জমিতে বারবার স্প্রে করতে হয়। এতে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। আবার পোকামাকড়ের মধ্যে কীটনাশকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। ফলে পরবর্তী সময়ে মানসম্মত বা কীটনাশক ব্যবহার করেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

দেশে মানুষ বাড়ছে। কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়ছে। সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে। এ লক্ষ্যে গবেষণা, উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণসহ বহুবিধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তার পরও প্রায়ই অভিযোগ ওঠে, আমদানি করা নিম্নমানের বীজের কারণে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভেজাল বা নিম্নমানের সার ও কীটনাশকের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অতীতে এসব অভিযোগ উঠেছে মূলত বেসরকারিভাবে আমদানি করা বীজ, সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে। এবার অভিযোগ উঠেছে খোদ সরকারের মালিকানাধীন সংস্থার বিরুদ্ধে। কৃষি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় বাজার তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বীজ, সার, কীটনাশকের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাজার তদারকির পাশাপাশি মাঠেও নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

রেলপথের নিরাপত্তা বাড়ান

বাড়ছে ট্রেন দুর্ঘটনা

রেলপথের নিরাপত্তা বাড়ান

সড়কের মতোই ট্রেনেও দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রায়ই ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হচ্ছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে। গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক, রেল ও নৌ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, দেশের রেলপথে গত ১৫ বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজার ৩৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, এর মধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, যেসব ত্রুটির কারণে সাধারণত দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, তা নিরসনের কাজ চলমান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু বড় দুর্ঘটনায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিরসরাইয়ের দুর্ঘটনা। ২০২২ সালে কিছু শিক্ষার্থী উপজেলার পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামে গিয়েছিল ঝরনা দেখতে। ফেরার পথে লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় তাদের মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয় মহানগর প্রভাতী ট্রেন। এতে মৃত্যু হয় ১১ জনের এবং গুরুতর আহত হয় সাতজন। একই বছর গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিক বহনকারী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গিয়েছিল বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস। এতে বর-কনেসহ নিহত হয়েছিল ১১ জন। এ রকম দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, সারা দেশে লেভেলক্রসিং রয়েছে তিন হাজার ৩৯৮টি। এর মধ্যে এক হাজার ৩৬১টিই অবৈধ। এগুলোতে গেটম্যান তো নেই-ই, অনেক বৈধ লেভেলক্রসিংয়েও গেটম্যান নেই। এর ওপর বাস্তব কারণেই সারা দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), ইউনিয়ন পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ নতুন নতুন রাস্তা তৈরি করছে। নতুন নতুন লেভেলক্রসিং তৈরি হচ্ছে। সেগুলোতে গেট স্থাপন, গেটম্যান নিয়োগ কিংবা যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজ কে করবে, তা নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সেসব জায়গায় দুর্ঘটনা রোধের ব্যবস্থা কিভাবে করা হবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলেও দুর্ঘটনা থেমে থাকছে না। আমরা মনে করি, এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা, দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

মানুষ বাড়ছে। চলাচলের প্রয়োজন বাড়ছে। জনসাধারণের চলাচল সুগম করার জন্য আমাদের আরো বেশি সড়ক ও রেলপথ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন চলাচলের নিরাপত্তা। আমরা আশা করি, লেভেলক্রসিং ও রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন

প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ

সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন

বায়ুদূষণ দিন দিন অদৃশ্য ঘাতকে রূপ নিচ্ছে। মানবদেহে বাসা বাঁধছে হৃদরোগ, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ অন্যান্য কঠিন রোগ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে দ্রুত বাড়ছে অকালমৃত্যুর হার। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, বায়ুদূষণের কারণগুলো আমাদের অজানা নয়, কিন্তু দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেই বললেই চলে। সভা-সেমিনার-নীতিমালা প্রণয়নসবকিছুই চলে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের দেখা মেলে না। এমন উদাসীনতার কারণে বাংলাদেশে বায়ুদূষণ আজ ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের  এক গবেষণায়ও সেই চিত্রই উঠে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের গবেষণা বলছে, মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের (সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২.৫) কারণে দেশের ছয়টি প্রধান শহরে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে প্রায় ২৪২ জন। আর অর্থনৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করলে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পলিউশন জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় আরো যেসব সংখ্যাচিত্র উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বায়ুদূষণের কারণে হৃদরোগে বছরে মারা গেছে ৩৭ হাজার ৫১৯ জন, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে আট হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জন। দূষণ যেহেতু থেমে নেই, এ কারণে মৃত্যুর এই হারও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। গবেষণার সূচকে দেখা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালছয়টি শহরে বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে মারাত্মক চিত্র রাজধানী ঢাকায়, যেখানে মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের কারণে অকালমৃত্যুর সংখ্যা প্রতিবছর প্রায় তিন হাজার ৪৮৪ করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গবেষণাদলের প্রধান ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বায়ুদূষণের কারণে বছরে প্রায় ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু এবং ৫ শতাংশ জিডিপির সমান অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের গবেষণার ফলাফল দেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা।

বায়ুদূষণের প্রধান উৎসগুলো আমাদের অপরিচিত নয়। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কালো ধোঁয়া, সমন্বয়হীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ এবং অনিয়ন্ত্রিত ইটভাটা দেশের বাতাসকে আজ প্রাণঘাতী করে তুলেছে। বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কণা (পিএম ২.৫) সরাসরি আমাদের ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করছেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা এক ধরনের রুগ্ণ ফুসফুস নিয়ে বেড়ে উঠছে। অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সবাইকে এর মূল্য চোকাতে হবে।

এদিকে কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার এক সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সতর্ক করেছেন, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না। তিনি বলেন, ইটভাটা বন্ধ না করে কিভাবে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ কমানো যায়, সেদিকে বেশি দৃষ্টি দিতে হবে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ওই সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আমরা মনে করি, বায়ুদূষণ রোধে সরকারের নীতির যথাযথ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন ভূমিকা নিতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সমন্বিত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

নিরাপদ সড়ক কবে পাব

ফিটনেসবিহীন যানবাহন

নিরাপদ সড়ক কবে পাব

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। আর এই ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে লাখ লাখ ফিটনেসবিহীন যানবাহন। মেয়াদোত্তীর্ণ, লক্কড়ঝক্কড় এবং যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ এসব গাড়ি বছরের পর বছর সড়ক ও মহাসড়কে কিভাবে চলাচল করছে, সেটিও এক বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখেরই ফিটনেস সনদ নেই। এই হিসাবে প্রতি তিনটি যানবাহনের মধ্যে একটি ফিটনেসবিহীন। হতাশার কথা হলো, এসব ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে, কিন্তু প্রয়োগের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্য বুঝতে পরিসংখ্যানের প্রয়োজন হয় না। রাজধানীর মতো শহরে খোলা চোখেই দেখা যায়, প্রতিদিন সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বহু পুরনো রং উঠে যাওয়া ভাঙাচোরা যানবাহন। অনেক যানবাহনের স্টিয়ারিং, হেডলাইট, সিগন্যাল লাইটসহ অনেক যন্ত্রপাতি ত্রুটিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত এসব গাড়ি থেকে নির্গত হচ্ছে কালো ধোঁয়া। ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে অনেক সময় মাঝপথেই বিকল হয়ে তৈরি করছে যানজট। এসব কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।

খবরে বলা হয়েছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ। সংস্থাটির মুখপাত্র ও পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৭ লাখ চার চাকার যানবাহনের মধ্যে প্রায় ছয় লাখের ফিটনেস নেই। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। জবাবে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অ্যাডমিন) হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমরা মহাসড়কভিত্তিক কাজ করি। ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা আঞ্চলিক সড়ক ও নগরের অভ্যন্তরে বেশি। মহাসড়কে তুলনামূলক কম। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্বীকার করেছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও চালকদের দক্ষতার ঘাটতি। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন অপসারণে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করে থাকে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাব।

জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সরাতে সরকার চলতি বছর মোটরযান স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬ জারি করেছে। এই নীতিমালার লক্ষ্য হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন থাকা যানবাহন পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিং করা।

আমরা মনে করি, দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ত্রুটিপূর্ণ সব ধরনের গাড়ি সরিয়ে ফেলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার যে নীতিমালা জারি করেছে, তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজন সড়ক-মহাসড়কে কড়া নজরদারি।