• ই-পেপার

সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন

  • প্রাণঘাতী বায়ুদূষণ

রেলপথের নিরাপত্তা বাড়ান

বাড়ছে ট্রেন দুর্ঘটনা

রেলপথের নিরাপত্তা বাড়ান

সড়কের মতোই ট্রেনেও দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। প্রায়ই ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হচ্ছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে অরক্ষিত লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে। গত বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক, রেল ও নৌ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, দেশের রেলপথে গত ১৫ বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজার ৩৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, এর মধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, যেসব ত্রুটির কারণে সাধারণত দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, তা নিরসনের কাজ চলমান।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু বড় দুর্ঘটনায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মিরসরাইয়ের দুর্ঘটনা। ২০২২ সালে কিছু শিক্ষার্থী উপজেলার পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামে গিয়েছিল ঝরনা দেখতে। ফেরার পথে লেভেলক্রসিং পার হওয়ার সময় তাদের মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয় মহানগর প্রভাতী ট্রেন। এতে মৃত্যু হয় ১১ জনের এবং গুরুতর আহত হয় সাতজন। একই বছর গাজীপুরের শ্রীপুরে পোশাক কারখানার শ্রমিক বহনকারী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় পাঁচজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লেভেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গিয়েছিল বরযাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস। এতে বর-কনেসহ নিহত হয়েছিল ১১ জন। এ রকম দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, সারা দেশে লেভেলক্রসিং রয়েছে তিন হাজার ৩৯৮টি। এর মধ্যে এক হাজার ৩৬১টিই অবৈধ। এগুলোতে গেটম্যান তো নেই-ই, অনেক বৈধ লেভেলক্রসিংয়েও গেটম্যান নেই। এর ওপর বাস্তব কারণেই সারা দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), ইউনিয়ন পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ নতুন নতুন রাস্তা তৈরি করছে। নতুন নতুন লেভেলক্রসিং তৈরি হচ্ছে। সেগুলোতে গেট স্থাপন, গেটম্যান নিয়োগ কিংবা যানবাহন নিয়ন্ত্রণের কাজ কে করবে, তা নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্ব রয়েছে। সেসব জায়গায় দুর্ঘটনা রোধের ব্যবস্থা কিভাবে করা হবে, তা নিয়ে অস্পষ্টতা থাকলেও দুর্ঘটনা থেমে থাকছে না। আমরা মনে করি, এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা, দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া এবং তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

মানুষ বাড়ছে। চলাচলের প্রয়োজন বাড়ছে। জনসাধারণের চলাচল সুগম করার জন্য আমাদের আরো বেশি সড়ক ও রেলপথ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন চলাচলের নিরাপত্তা। আমরা আশা করি, লেভেলক্রসিং ও রেলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

নিরাপদ সড়ক কবে পাব

ফিটনেসবিহীন যানবাহন

নিরাপদ সড়ক কবে পাব

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। আর এই ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে লাখ লাখ ফিটনেসবিহীন যানবাহন। মেয়াদোত্তীর্ণ, লক্কড়ঝক্কড় এবং যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ এসব গাড়ি বছরের পর বছর সড়ক ও মহাসড়কে কিভাবে চলাচল করছে, সেটিও এক বড় প্রশ্ন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ছয় লাখেরই ফিটনেস সনদ নেই। এই হিসাবে প্রতি তিনটি যানবাহনের মধ্যে একটি ফিটনেসবিহীন। হতাশার কথা হলো, এসব ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে, কিন্তু প্রয়োগের অভাবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েই চলছে।

ফিটনেসবিহীন যানবাহনের আধিক্য বুঝতে পরিসংখ্যানের প্রয়োজন হয় না। রাজধানীর মতো শহরে খোলা চোখেই দেখা যায়, প্রতিদিন সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বহু পুরনো রং উঠে যাওয়া ভাঙাচোরা যানবাহন। অনেক যানবাহনের স্টিয়ারিং, হেডলাইট, সিগন্যাল লাইটসহ অনেক যন্ত্রপাতি ত্রুটিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত এসব গাড়ি থেকে নির্গত হচ্ছে কালো ধোঁয়া। ইঞ্জিনের সমস্যার কারণে অনেক সময় মাঝপথেই বিকল হয়ে তৈরি করছে যানজট। এসব কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই।

খবরে বলা হয়েছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বিআরটিএ। সংস্থাটির মুখপাত্র ও পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ১৭ লাখ চার চাকার যানবাহনের মধ্যে প্রায় ছয় লাখের ফিটনেস নেই। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। জবাবে হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি (অ্যাডমিন) হাবিবুর রহমান খান বলেন, আমরা মহাসড়কভিত্তিক কাজ করি। ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা আঞ্চলিক সড়ক ও নগরের অভ্যন্তরে বেশি। মহাসড়কে তুলনামূলক কম। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম স্বীকার করেছেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও চালকদের দক্ষতার ঘাটতি। অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন অপসারণে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করে থাকে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাব।

জানা গেছে, ফিটনেসবিহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে সরাতে সরকার চলতি বছর মোটরযান স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিং নীতিমালা, ২০২৬ জারি করেছে। এই নীতিমালার লক্ষ্য হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং দীর্ঘদিন ফিটনেসবিহীন থাকা যানবাহন পরিবেশবান্ধব উপায়ে স্ক্র্যাপ ও রিসাইক্লিং করা।

আমরা মনে করি, দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ত্রুটিপূর্ণ সব ধরনের গাড়ি সরিয়ে ফেলতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার যে নীতিমালা জারি করেছে, তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজন সড়ক-মহাসড়কে কড়া নজরদারি।

শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দিন

জনশক্তি রপ্তানির গতি নিম্নমুখী

শ্রমবাজার সম্প্রসারণে জোর দিন

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাস আয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তা সত্ত্বেও জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধিতে পরিকল্পিত উদ্যোগ কম। আধুনিক পৃথিবীতে কায়িক শ্রমের চাহিদা দিন দিনই কমছে। বাড়ছে দক্ষ ও প্রযুক্তিগতভাবে অগ্রসর শ্রমশক্তির চাহিদা। কিন্তু দক্ষ জনশক্তি তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি খুবই কম। তা ছাড়া নতুন নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও সেসব বাজারে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রেও আমাদের খুব একটা অগ্রগতি নেই। গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সৌদি আরব ও কয়েকটি দেশ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য প্রায় বন্ধ। খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি এবং সরকারের শ্রম রপ্তানির লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব, সেখানেও কর্মী নিয়োগ কমছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবেই বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির গতি নিম্নমুখী। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে বিভিন্ন দেশে কাজের উদ্দেশ্যে গেছেন এক লাখ ৬৬ হাজার ৩৪৫ জন বাংলাদেশি। পরবর্তী তিন মাস ১১ দিনে (১ এপ্রিল থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত) বিদেশে গেছেন এক লাখ ২৭ হাজার ২২০ জন। এই সময়ে প্রথম তিন মাসের তুলনায় কর্মী যাওয়া কমেছে ৩৯ হাজার ১২৫ জন।

দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রথম তিন মাসে সৌদি আরবে গেছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৫৪ জন, কাতারে ১৩ হাজার ৬৮৯ জন, কুয়েতে ছয় হাজার একজন, জর্দানে চার হাজার ৫৮৬ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন হাজার ৬১৭ জন, ইরাকে দুই হাজার ৮৮৩ জন, লেবাননে ৮৭৫ জন, ওমানে ১৭ জন, তুরস্কে ১৬ জন এবং ইয়েমেনে চারজন। অন্যদিকে ১ এপ্রিল থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ৮৯ হাজার ৬১ জন, কাতারে ১৮ হাজার ৩১৪ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ছয় হাজার ৬০৩ জন, কুয়েতে পাঁচ হাজার ৮০৮ জন, জর্দানে চার হাজার ৮৯০ জন, ইরাকে এক হাজার ৭৫২ জন, লেবাননে ৭৫০ জন, ওমানে ২০ জন, তুরস্কে ১৮ জন এবং বাহরাইনে তিনজন। কাতার ও আরব আমিরাতে কর্মী যাওয়া কিছুটা বাড়লেও সৌদি আরবে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা-পরবর্তীকালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে খুবই অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইসরায়েল লেবাননেও হামলা চালাচ্ছে। এই সংঘাত খুব সহজে থামবে, তা-ও বলা যায় না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বিদেশি শ্রমশক্তির চাহিদা আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে সামনের দিনগুলোতে। অথচ আমাদের শ্রমবাজার প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দীর্ঘ মেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। বন্ধ বা সীমিত শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি বিদ্যমান ১০ থেকে ১২টি প্রধান শ্রমবাজার সচল রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।

আমরা মনে করি, বিদ্যমান শ্রমবাজারগুলোতে আরো বেশি কর্মী প্রেরণের চেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি নতুন নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর সর্বাধিক জোর দিতে হবে।

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন

অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যান

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন

সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলের নতুন বাস্তবতা হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। বেশ কিছুদিন ধরে বিশেষজ্ঞমহল বলে আসছে, এসব অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি। তার পরও অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত আজ অটোরিকশার দাপট। মানছে না কোনো নিয়ম-কানুন। অতীতে নানা সময় এসব যান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা কাজে দেয়নি। এ অবস্থায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আবারও বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। গত সোমবার অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ নয়, বরং কিভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে নিরীক্ষা চলছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রধান সমস্যা হলো, প্রয়োজনীয় ফিটনেস নেই। গতির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং ব্রেকিং সিস্টেমও ত্রুটিপূর্ণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হালকা অবকাঠামোয় অতিরিক্ত ক্ষমতার মোটর যুক্ত করা হয়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। নেই চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দরকার পড়ছে না অন্য মোটরযানচালিত গাড়ির মতো লাইসেন্স। এসব ব্যাটারিচালিত যান যখন হাইওয়ে বা শহরের প্রধান সড়কে অন্য দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে, তখন তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ব্যাটারি চার্জিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ব্যাটারি উৎপাদন ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে এক শ্রেণির মানুষের কাছে অটোরিকশা সাশ্রয়ী হওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে এই অটোরিকশা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কাঠামোগত মানোন্নয়ন করে, সড়ক ও এলাকা নির্ধারণ করে দিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিজ্ঞান বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির দিন শেষ। আগামী দিনে এই ব্যাটারিচালিত যানই হবে প্রধান বাহন। কাজেই এসব যানের মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। আমরা মনে করি, চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও লাইসেন্সের নিয়ম চালু করে নজরদারি নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন কাম্য।