• ই-পেপার

কঠোর জবাবদিহি প্রয়োজন

  • অনুমোদন পায়নি সমাজসেবার প্রকল্প

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন

অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যান

সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন

সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলের নতুন বাস্তবতা হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। বেশ কিছুদিন ধরে বিশেষজ্ঞমহল বলে আসছে, এসব অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি। তার পরও অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত আজ অটোরিকশার দাপট। মানছে না কোনো নিয়ম-কানুন। অতীতে নানা সময় এসব যান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা কাজে দেয়নি। এ অবস্থায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আবারও বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। গত সোমবার অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ নয়, বরং কিভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে নিরীক্ষা চলছে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রধান সমস্যা হলো, প্রয়োজনীয় ফিটনেস নেই। গতির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং ব্রেকিং সিস্টেমও ত্রুটিপূর্ণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হালকা অবকাঠামোয় অতিরিক্ত ক্ষমতার মোটর যুক্ত করা হয়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। নেই চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দরকার পড়ছে না অন্য মোটরযানচালিত গাড়ির মতো লাইসেন্স। এসব ব্যাটারিচালিত যান যখন হাইওয়ে বা শহরের প্রধান সড়কে অন্য দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে, তখন তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ব্যাটারি চার্জিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ব্যাটারি উৎপাদন ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে এক শ্রেণির মানুষের কাছে অটোরিকশা সাশ্রয়ী হওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে এই অটোরিকশা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কাঠামোগত মানোন্নয়ন করে, সড়ক ও এলাকা নির্ধারণ করে দিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বিজ্ঞান বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির দিন শেষ। আগামী দিনে এই ব্যাটারিচালিত যানই হবে প্রধান বাহন। কাজেই এসব যানের মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। আমরা মনে করি, চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও লাইসেন্সের নিয়ম চালু করে নজরদারি নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন কাম্য।

সচেতন হতে হবে এখনই

সামাজিক মাধ্যম থেকে শিশুদের সুরক্ষা

সচেতন হতে হবে এখনই

প্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক মাধ্যম নিত্যদিনের বাস্তবতা হলেও সারা বিশ্বেই এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে এই ক্ষতির হাত থেকে শিশুদের সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে; অনেক দেশ নেওয়ার কথা ভাবছে। হতাশার কথা হলো, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শিশুদের সুরক্ষায় এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেই।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি ইউরোপীয় কমিশনের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দিতে যাচ্ছে। জানা গেছে, এতে অনেকেই নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সুপারিশ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এক ভাষণে বলেছিলেন, আমার সময়ে আমরা যেমন আমাদের সন্তানদের শেখাতাম একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ধূমপান, মদ্যপান করা যাবে না; আমি মনে করি, সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য পর্যালোচনায় তাঁর সেই কথারই প্রতিফলন ঘটবে। এটি হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭টি দেশেই শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আসতে পারে।

গ্রিস ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তারা ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করতে চায়। অস্ট্রিয়া এবং স্লোভেনিয়াও একই পথে হাঁটছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। আইরিশ সরকার সতর্ক করেছে, ইইউ কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে তারা আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে। অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ। ব্রাজিলও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে সময় কাটায়। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সময় হচ্ছে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। এতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে।

আমরা মনে করি, আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার অবশ্যই সীমিত করা দরকার। এ লক্ষ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের আশু পদক্ষেপ কাম্য। পাশাপাশি অভিভাবকমহলকেও সচেতন ভূমিকা নিতে হবে।

নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন

বহুমুখী সংকটে কাগজশিল্প

নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন

দীর্ঘদিনে দেশের কাগজশিল্প বিকাশ লাভ করেছে। এই শিল্পে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক কাগজকল রয়েছে। এসব কাগজকলে উৎপাদিত কাগজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে অনেক দেশে রপ্তানি হয়। এই শিল্পে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান রয়েছে। পরোক্ষভাবে আরো প্রায় অর্ধকোটি মানুষের জীবিকা এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। অথচ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানিসংকট, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার এবং বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে সেই শিল্পটি আজ অত্যন্ত দুঃসময় মোকাবেলা করছে। এর ওপর আন্ডার-ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কম দামে প্রস্তুত (ফিনিশড) কাগজ আমদানি দেশীয় এই শিল্পটিকে রীতিমতো অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে।

বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় এসব কারখানার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৫-১৬ লাখ মেট্রিক টন। অন্যদিকে দেশের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ চাহিদা পূরণের পরও প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু কম দামে আমদানীকৃত কাগজের কারণে বেশির ভাগ মিল পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিপিএমএর সচিব এ কে এম নওশেরুল আলম জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে দেশীয় শিল্প রক্ষা, কর্মসংস্থান বজায় রাখা এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করতে বিপিএমএর আমদানীকৃত প্রস্তুত কাগজের ন্যূনতম কর নির্ধারণযোগ্য মূল্য প্রতি মেট্রিক টন ৯৪৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্ধারিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ২৯.৫ ইঞ্চি রোল, ২০ অথবা ৩০ শিট এবং ৭০ বা ৮০ জিএসএম অফহোয়াইট ন্যাচারাল শেড প্রিন্টিং পেপার আমদানি নিষিদ্ধ করারও আহবান জানিয়েছে।

বিপিএমএর দাবি, শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে সস্তায় কাগজ আমদানির কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এরই মধ্যে দেশের ৮০টি কাগজকল বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরো ২৬টি কাগজকল বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। মেঘনা পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং) মোহাম্মদ ইয়ারুল ইসলাম বিদ্যুৎ কালের কণ্ঠকে বলেন, এনসিটিবির কাগজের চাহিদা ও সরবরাহ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষাসচিবের সঙ্গে বৈঠকে আমরা জানিয়েছি, দেশীয় রাইটিং ও প্রিন্টিং পেপার মিলগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এনসিটিবির প্রয়োজনীয় কাগজ সরবরাহ করতে সক্ষম। তিনি বলেন, অনেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পাল্প আমদানি করেছে এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে। এখন যদি বিদেশ থেকে প্রস্তুত কাগজ আমদানি করা হয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন পরিকল্পনা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

বসুন্ধরা গ্রুপের সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে কাগজ উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল পাল্প সম্পূর্ণরূপে আমদানিনির্ভর। প্রতি টন পাল্পের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ৮৪০ মার্কিন ডলার। অথচ প্রস্তুত কাগজ আমদানির সময় অনেক ব্যবসায়ী ৬০০ ডলার মূল্য দেখিয়ে শুল্কায়ন করছেন। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি দেশীয় শিল্প মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। এই অনিয়ম বন্ধ করতে হবে।

কাগজশিল্প রক্ষায় আন্ডার-ইনভয়েসিং বন্ধ, ন্যায্য শুল্কায়ন এবং সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আমরা মনে করি, প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করা গেলে দেশীয় কাগজশিল্প শুধু দেশের চাহিদা পূরণই নয়, রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

শ্রমবাজারের ক্ষতি রুখতে হবে

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহ

শ্রমবাজারের ক্ষতি রুখতে হবে

রোহিঙ্গা সংকট ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। আশ্রয়শিবিরগুলোর ঘিঞ্জি পরিবেশ, আয়-রোজগারের সুযোগ কম থাকা, প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা, নিজেদের ভেতরকার উপদলীয় কোন্দল এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খুনাখুনিসহ নানা কারণে রোহিঙ্গারা ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। জানা যায়, এরই মধ্যে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে নানাভাবে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। অনেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। অনেকে বিদেশে গিয়ে নানা ধরনের অপরাধে জড়াচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদেশে  বাংলাদেশের শ্রমবাজার।

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও নেত্রকোনার মতো জেলাগুলোতে পাসপোর্ট করতে গিয়ে অনেক রোহিঙ্গা ধরাও পড়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যেও এই সমস্যার প্রকটতা উঠে আসছে। জানা যায়, শুধু সৌদি আরবেই ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা থাকার কথা জানিয়েছে দেশটির সরকার। তালিকার বাইরেও সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পরিচয়ে রয়েছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। সংঘবদ্ধ দালালচক্র, স্থানীয় অসাধু জনপ্রতিনিধি এবং তথ্যের সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের অভাবসহ নানা কারণে রোহিঙ্গারা সহজেই সংগ্রহ করতে পারছে জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট। এই পরিস্থিতিতে শুধু শ্রমবাজারের ক্ষতি নয়, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী সংঘাত ও সংকটের আগাম পূর্বাভাস দেওয়া প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) পক্ষ থেকেও এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ সারা দেশে একটি বিশাল সিন্ডিকেট সক্রিয়। সম্প্রতি এই চক্রের ২৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি দালালদের পাশাপাশি কিছু অসাধু আনসার সদস্য জড়িত থাকার কথাও জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য মতে, তারা কয়েকটি ধাপে কাজ করে। একটি গ্রুপ টেকনাফ বা কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের ঢাকায় নিয়ে আসে। দ্বিতীয় গ্রুপটি বিভিন্ন জেলার ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ও এনআইডি তৈরি করে। তৃতীয় গ্রুপটি পাসপোর্ট অফিসের আনসার সদস্যদের সহায়তায় বায়োমেট্রিক ও ছবি তোলার কাজ সম্পন্ন করে। এই কাজের জন্য তারা এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়।

দীর্ঘদিনে অনেক রোহিঙ্গা স্থানীয় জনস্রোতে মিশে গেছে। সেই প্রক্রিয়া এখনো চলছে। এই ক্ষতিকর ধারা বন্ধ করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত দালাল ও জনপ্রতিনিধিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিতে হবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।